28 জুন 2017

নগরীর অপরাধ দমনে হার্ডলাইনে কেএমপি

সুবীর রায়:: খুলনা মহানগরীর অপরাধ দমনে হার্ডলাইনে যাচ্ছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। গত বছরের শেষ দিন থেকে চলতি বছরের দুই মাসের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে পুলিশ প্রশাসন বেশ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছে। জেলা আইন-শৃংখলা কমিটির

সভায় এ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন। ইতোমধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন পদসহ বিভিন্ন পদে আন্তঃবদলী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নগরীর দোলখোলা এলাকায় মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদ ডনকে হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গৃহবধূ শিপ্রা রানী কুন্ডু নিহত হন। এরপর ১৪জানুয়ারী রাতে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ আমতলা মোড়ের অদূরে একটি ভাড়া বাসার গ্রীল কেটে গৃহকর্তা কলেজ শিক্ষক চিত্তরঞ্জন বাইনকে হত্যা, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে দুষ্কৃতকারীরা। এ দুটি ঘটনায় নগরবাসীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুলিশের কর্মকান্ড নিয়ে নানা কথা বলা শুরু করেন। যদিও ওই দুটি ঘটনার পরপরই আসামীদের গ্রেফতার ও মামলার রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে পুলিশ। এ দুটি ঘটনার ক্ষত শুকাতে না শুকাতে নগরীতে আরও ছোটখাট বিভিন্ন অপরাধযুক্ত হয়ে থাকে। এর মধ্যে সম্প্রতি নগরীর শিববাড়ী মোড়ে দুইটি গ্যাসের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। যেখান থেকে চোরেরা গ্যাস সিলিন্ডার এবং বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক তৈরী হয়। সর্বশেষ বুধবার ভোর ৬টা ৫০মিনিটে প্রাতঃভ্রমণ শেষে কম্পিউটার ব্যবসায়ী নাজমুল আহসান রনিকে দুষ্কৃতকারীরা গুলি করে। গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে রনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রনি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পরপরই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নগরীর জলিল টাওয়ারের কম্পিউটার ব্যবসায়ীরা। সাথে সাথে তারা ঘটনার নিন্দা এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানান। বৃহস্পতিবার তারা খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী দিতে পারেন বলে জানান। সংবাদ সম্মেলন শেষে পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন করেন কম্পিউটার ব্যসায়ীরা। অপরদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন খুলনার ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির নেতৃবৃন্দ।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিককালে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকান্ড নিয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ দারুণভাবে ক্ষুব্ধ এবং বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে। যদিও বিব্রতকর অবস্থা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে একমত পোষণ করা হয়নি। সাম্প্রতিক এ ঘটনাগুলোকে আমলে নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে পুলিশের বিচরণ অনেক বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পুলিশের বিভিন্ন টিম অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা নজরদারীও বাড়ানো হয়েছে। অপরাধ যা’ ঘটেছে, আর নয়, এখন থেকে আর কোন ছাড় নয় এ মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে কেএমপির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা। অপরাধ দমন ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণে জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করবে পুলিশ।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোঃ আব্দুল্লাহ আরেফ পিপিএম জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যরা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছেন। অপরাধীদের কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স  দেখানো হবে। কোন অপরাধীই পার পাবে না বলে জানান  এ পুলিশ কর্মকর্তা।

// ১৭-০২-২০১৭ //