25 জুন 2017

খুলনায় জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ উপলক্ষে জেলা এ্যাডভোকেসি সভা

170319-PID-03খুলনানিউজ.কম:: আগামী ১-৬ এপ্রিল সারাদেশে একযোগে উদযাপিত হবে জাতীয় কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ ২০১৭। এ বারই প্রথম প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী মাদ্রাসা, মক্তবসহ ১০ম শ্রেণি পর্যšত সকল মাধ্যমিক

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী   ও  স্কুল বহির্ভুত, পথশিশু, শ্রমজীবী শিশুদেরকে একই নিয়মে বিদ্যালয়ে উপস্থিতির মাধ্যমে সকলকে এক ডোজ মেবেন্ডাজল-৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট খাওয়ানো হবে। কৃমি সপ্তাহ পালন উপলক্ষে আজ সকালে সিভিল সার্জন অফিসের উদ্যোগে নগরীর স্কুল হেলথ ক্লিনিকে জেলা এ্যাডভোকেসি সভায় আয়োজন করা হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিভিল সার্জন ডা. এ.এস.এম. আবদুর রাজ্জাক। সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমীন।  এতে সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং জেলার নয়টি উপজেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাগণ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় সিভিল সার্জন জানান, ফাইলেরিয়াসিস নির্মুল ও কৃমি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের আওতায় জাতীয়ভাবে বছরে দু’বার এপ্রিল ও অক্টোবর মাসে কৃমি নিয়ন্ত্রণ সপ্তাহ পালনের মাধ্যমে শিশুদের কৃমি নাশক ঔষধ খাওয়ানো হয়। এ বারে খুলনা জেলার নয়টি উপজেলার মোট দুই হাজার দুইশ ৪৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি ও অন্যান্য) ৫-১৬ বছর বয়সী তিন লাখ ৮৬ হাজার পাঁচশ ৪৭ জন শিশুকে এ ট্যাবলেট খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। জেলাতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ট্যাবলেট রয়েছে। এ সময়ে জেলায় ১১৬টি মেডিকেল টীম কাজ করবে। 

তিনি আরও জানান, ভরা পেটে এ ঔষধ সেবন করাতে হবে।  ট্যাবলেটে সাধারণত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, তবে কৃমিতে আক্রান্ত শিশুকে খাওয়ানো হলে পেটে ব্যাথা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভয়ের কিছু নেই, শিশুকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। 

তিনি বলেন, যেহেতু এ বারে প্রথম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে তাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও সপ্তাহ শুরুর পূর্বেই ‘ক্ষুদে ডাক্তার’ টীম গঠন করতে হবে। শিক্ষকসহ ক্ষুদে ডাক্তার টীমের সদস্যদের মাধ্যমে  বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী এবং স্কুল বহির্ভূত বা ঝড়ে পড়া ছেলেমেয়েদের এ সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে এবং ট্যাবলেট খাওয়ানোর ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

কৃমি মানুষের পেটে পরজীবী হিসেবে বাস করে এবং খাবারের পুষ্টিটুকু খেয়ে ফেলে, তাই মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভোগে।

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির ব্যাঘাত ঘটায়।  তাছাড়া কৃমি এপেন্ডিসাইটিস ও আন্ত্রিক জটিলতা করতে পারে। অতিশয় কৃমির সংক্রমণে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। সিভিল সার্জন  কৃমি সপ্তাহ সফল করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশি¬ষ্ট শিক্ষকদের প্রতি আহবান জানান।

খুলনা সিভিল সার্জন অফিসে কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর - ৭২১১৭০ ও ৭২৩৮৪৬।

// ১৯-০৩-২০১৭ //