26 মে 2017

খুলনায় মেধাবীরা বৃত্তিবঞ্চিত, অভিভাবক মহলে হতাশা, খাতা পুন:মূল্যায়ন দাবি

খুলনানিউজ.কম:: খুলনা সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ইশরাক মাইশা রাজিন। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফল অনুযায়ী তার রোল নম্বর-২। গত বছর(২০১৬) প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় একই স্কুল থেকে অংশ নিয়েছিল রাজিন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়লেও বৃত্তি পায়নি সে। এমনকি ইন্টারনেট থেকে

প্রিন্ট দেয়া নম্বরপত্রের এক জায়গায় লাল অক্ষরে লিখে দেয়া হয়েছে ‘কোন বৃত্তি পায় নাই’। একজন মেধাবী ছাত্রী বৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি শুধু রাজিনের ক্ষেত্রেই ঘটেনি। ঘটেছে ওই স্কুলের অন্যান্যদের বেলায়ও।

স্কুলটি প্রাতঃ বিভাগের ‘ক’ শাখার ১ থেকে ১১ নম্বর রোলের কেউই বৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তাদের অভিভাবকরাও। করোনেশন স্কুলের ন্যায় এমন আরও অনেক স্কুলেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বৃত্তি বঞ্চিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় রাজশাহীর ন্যায় খুলনায়ও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ফল জালিয়াতির আশংকা করছেন অভিভাবকরা। এজন্য বৃত্তির ফল প্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক স্থানে লিখিত অভিযোগ দিয়ে খাতা পুন:মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, তাদের মেয়েরা তৃতীয় শ্রেণি থেকে সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। প্রতি বছরের ন্যায় ভাল ফলাফল করে গত বছরও ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। স্কুলের পরীক্ষায় ১ থেকে ১১ নম্বর রোল থাকলেও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তি তালিকায় তাদের নাম না থাকায় অভিভাবক হিসেবে তারা উদ্বিগ্ন ও আশাহত। এজন্য তাদের পক্ষ থেকে খাতা পুন:মূল্যায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ছাড়াও লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে প্রাথমিক শিক্ষার খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, জেলা প্রশাসক এমনকি সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছেও।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় বৃত্তির ফল প্রকাশে রাজশাহীতে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃত্তির ফল পুন:প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনায় খুলনার অভিভাবকদের মধ্যেও সন্দেহ আরও ঘনিভুত হচ্ছে।

// ১৯-০৪-২০১৭ //