26 মে 2017

খুলনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড

খুলনানিউজ.কম:: নগরীর একটি হোটেলে স্ত্রী রিনা বেগমকে (২০) হত্যার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায়  স্বামী মাসুদুর রহমান খান ওরফে রুবেলকে (২৭) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড, ১০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদ- দিয়েছেন আদালত। বুধবার খুলনার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক

অরূপ কুমার গোস্বামী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে আসামী রুবেল আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মাসুদুর রহমান খান ওরফে রুবেল ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার প্রেমহার গ্রামের আবুল হোসেন খানের ছেলে। নিহত স্ত্রী রিনা বেগম শেরপুর জেলার উত্তর তারাকান্দির আব্দুল মজিদের মেয়ে। রুবেল ও রিনা উভয় ঢাকার আশুলিয়ায় গার্মেন্টেসে চাকরি করত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়,  ২০১৪ সালের ৯ জুলাই রাত ১০টার দিকে নগরীর শিববাড়ি মোড়স্থ হোটেল মিলেনিয়ামের ৫০৭নং কক্ষের দরজার ভিতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পায়। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও কেউ খুলছে না। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই মোক্তার হোসেন পৌঁছায়। পরে মিস্ত্রি দিয়ে দরজা খুলে কক্ষে প্রবেশ করে রিনা বেগমের মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। ৮ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুবেল ও রিনা ঢাকা থেকে শিববাড়ি মোড়ে বাস থেকে নামে। রুবেল নিজের নাম সুমন ও বাড়ি সাতক্ষীরা পরিচয়ে রিনাকে নিয়ে ৫০৭নং কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। এঘটনায় সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই মো. মোক্তার হোসেন বাদি হয়ে হোটেল মিলিনিয়ামের দুই কর্মচারীর নাম উল্লেখসহ ৪/৫জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ মোবাইল ফোনের সুত্র ধরে ওই বছরের ৬ অক্টোবর রুবেলকে তার গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার প্রেমহার থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারের পরে রুবেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে হত্যা রহস্য উন্মোচন হয়। স্বীকারোক্তিতে রুবেল জানায়, ঢাকার আশুলিয়ার ইল কং ডাইং ফ্যাক্টরীতে সে আর রিনা চাকরি করত। সেখান থেকে তাদের প্রেম। পরে বিয়ে। বিয়ের পর জানা যায় রিনা বিবাহিত। তার জান্নাতী নামে ৪বছরের একটি সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে তাদের সংসারে কলহ দেখা দেয়। এছাড়াও রিনা আগের স্বামী আজিজের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছিল। আর এ কারণেই তাকে খুলনার হোটেল মিলেনিয়ামে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মারুফ আহমেদ ঘটনাস্থল থেকে আটক হোটেল মিলেনিয়ামের দুই কর্মচারীর নাম বাদ দিয়ে রুবেলের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এ্যাডঃ সুলতানা রহমান শিল্পী ও এপিপি এ্যাডঃ মো. কামরুল হোসেন জোয়ার্দ্দার।

// ১৯-০৪-২০১৭ //