23 জুন 2017

খুলনা অঞ্চল বিনিয়োগে অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র

170612-busniessখুলনানিউজ.কম:: খুলনা বিভাগে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ এবং শিল্পায়নের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক বিভাগীয় সম্মেলন আজ নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), খুলনা বিভাগীয় অফিস আয়োজিত এ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম। সভাপতির বক্তৃতায় কাজী মোঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনা অঞ্চল বিনিয়োগে অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র। নিকটবর্তী মংলা বন্দর ও পায়রা বন্দর থাকায় এটি অন্যতম অর্থনৈতিক জোন।

২০১০ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন পর্যায়ের উদ্যোগকে উৎসাহিত করাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে চায়। প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রি যাতে বিদ্যুৎ সুবিধা পায় এজন্য ২৮ দিনের মধ্যে বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সরকারের নীতিগত সিদ্ধাšত।

তিনি বলেন, মানুষ যদি উদ্যোগ নিতে চায়, ব্যবসা অর্থাৎ বিনোয়োগ করতে চায় তার সহায়তায় সহজতর পরিবেশ গড়ে তোলাই বিডা’র কাজ। বিনিয়োগ সহায়ক সব সেবা যেন এক জায়গা থেকে পাওয়া যায় এ জন্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রথমত: ঢাকা ও চট্টগ্রামে চালু হতে যাচ্ছে বিডা’র ওয়ান স্টপ সার্ভিস। পর্যায়ক্রমে এটি অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও চালু করা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী সদস্য (অতিরিক্ত সচিব) নাভাস চন্দ্র মন্ডল, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আবদুস সামাদ, খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান এবং খুলনা চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শরীফ আতিয়ার রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপি¬নের প্রধান ড. শাহনেওয়াজ নাজিমুদ্দিন আহমেদ। প্যানেল আলোচক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ফিরোজ আহমেদ এবং ড. শেখ মোঃ মুরছালীন মামুন। স্বাগত বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক নিরঞ্জন কুমার মন্ডল।

সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, খুলনা অঞ্চলে পদ্মাসেতু সহ রেলযোগাযোগের সুবিধা খুলে দিচ্ছে শিল্পায়নের অবাধ সুযোগ। তাই নির্ধারিত কিছু কিছু বিনিয়োগ যদি এলাকার ভিত্তিতে ছড়িয়ে দেয়া যায় তবে শিল্পায়নে আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখা যাবে। তারা বলেন, এতদাঞ্চলে বিষম্ক্তু সবজি উৎপাদন, উন্নতমানের আম বিপণন, ঐতিহ্যবাহী ফুলের চাষ, চিংড়ি ও কাকড়া চাষ এবং সুন্দরবনসহ স্থানীয় অন্যান্য দর্শনীয় স্থানসমূহে ট্যুরিজমের পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ইঙ্গিত দিচ্ছে ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ যে কোন বিনিয়োগের বহুমুখী উদ্যোগের নিশ্চিত সাফল্য। তারা আরও বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণসহ ক্ষুদ্র উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হলে এ অঞ্চলে সরকারি পশু হাসপাতাল, মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারসহ অন্যান্য কৃষি ভিত্তিক প্রকল্পের উন্নয়নসহ মংলা ইপিজেড পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা, রামপালে বিমানবন্দর দ্রুত চালু করা এবং সুন্দরবন সংরক্ষণ ও উন্নয়নে বা¯তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

// ১২-০৬-২০১৭ //