23 জুন 2017

ঈদে জেলার পৌণে দু’লাখ অসহায় দুঃস্থ পরিবার পাচ্ছে ভিজিএফ চাল

রঞ্জু আহমদ:: খুলনায় এবার ইদুল ফিতরে প্রায় পৌণে দু’লাখ অসহায় দুঃস্থ পরিবার ভিজিএফ চাল পাচ্ছে। জেলার ৯ উপজেলা এবং দুটি পৌরসভায় ১৭ লাখ ৬৩ হাজার কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ঈদের আগেই গরীব ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের হাতে এ চাল পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে চাল পেয়ে হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন স্থানীয়

জনপ্রতিনিধিগণ। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, নয় উপজেলা ও দু’পৌরসভায় চলতি বছর ঈদুল ফিতরে ১ লাখ ৭৬ হাজার৩৩২ পরিবারের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা’ গত বছরের তুলনায় হাজার ৬৬৬ পরিবার বেশি চাল পাবে। গত বছর চাল বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন। এবার আনুপাতিকহারে ১৭ মেট্রিক টন চাল বাড়ানো হয়েছে। প্রতি সদস্য ১০ কজি করে চাল পাবে।

সূত্রটি জানিয়েছে, জেলার দাকোপ উপজেলার ৩৫ হাজার ৫শ’ উপকারভোগী পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩৫৫ মেট্রিকটন চাল। বটিয়াঘাটা উপজেলার ৩২ হাজার ২২৬ পরিবারের জন্য ৩২২ মে.টন ২৬০ কেজি, দিঘলিয়া উপজেলায় ১৮ হাজার ৬৬৪ পরিবারের জন্য ১৮৬ মে.টন ৬৪০ কেজি, রূপসা উপজেলায় ২৮ হাজার ৪৩৩ পরিবারের জন্য ২৮৪ মে.টন ৩৩০ কেজি, ফুলতলা উপজলোর ৪ হাজার ৯৪১ পরিবারের জন্য ৪৯ মে. টন ৪১০ কেজি, কয়রা উপজেলায় ১০ হাজার ৮২২ পরিবারের জন্য ১০৮ মে.টন ২২০ কেজি, পাইকগাছা উপজেলার ১৩ হাজার ৬৯০ পরিবারের জন্য ১৩৬ মে.টন ৯শ’ কেজি, তেরখাদা উপজেলার ৭ হাজার ৯৫৯ পরিবারের জন্য ৭৯ মে. টন, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৬ হাজার ৩৯৫ পরিবারের জন্য ১৬৩ মে.টন ৯৫০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও চালনা পৌসভায় ৩ হাজার ৮১ পরিবারের জন্য ৩০ মে.টন ৮১০ কেজি এবং পাইকগাছা পৌরসভার জন্য ৪ হাজার ৬২১ পরিবারের জন্য ৪৬ মে.টন ২১০ কেজি বরাদ্দ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালের ঈদুল আযহায় এক লাখ ৭৪ হাজার ৬৬৬ পরিবারের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন চাল বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।

এদিকে বিগত বছরগুলোতে আরও আগেই এ বরাদ্দ রাখা হতো। তবে এবছর হাওড়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং দশ টাকা কেজির চাল বিক্রির কারণে গুদামে মজুদ ছিল কম। ফলে বরাদ্দ দিতে দেরি হয়েছে। বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় এ বরাদ্দের নির্দেশ আসে।

পরিচালক (ভিজিএফ) গিয়াস উদ্দিন আহমেদ জানান, বিভিন্ন কারণে এবার ভিজিএফের চাল দিতে দেরি হয়েছে। তবে গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রলায় থেকে ভিজিএফের চাল দেয়ার জন্য নির্দেশ এসেছে। আগামী সপ্তাহ থেকে এ চাল দেয়া হবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান জানান, প্রতি বছর ঈদে হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে ভিজিএফের চাল দেয়া হয়। এবছরও একটু দেরিতে হলেও সেই চালের অনুমোদন পাওয়া গেছে।

চাল বিতরণের বিষয়ে বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাদিউজ্জামান বলেন, বাজারে চালের দাম লাগামহীন। এই দুর্মূল্যের বাজারে ঈদের আগে সরকারের এ কর্মসূচি হতদরিদ্র মানুষগুলোর জন্য সুবিধা হবে। তিনি চাল দেয়ার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন মহলকে ধন্যবাদ জানান।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০/১৫ টাকা দরে। এর ফলে অনেকেই বেকায়দায় পড়েছে।

কয়রা উপজেলার হতদরিদ্র মনিরুল ইসলাম, বটিয়াঘাটার আব্দুর রাজ্জাক, দাকোপের ইমতিয়াজ আলী বলেন, বাজারে চালের যে দাম তাতে না খেয়ে মরার মত অবস্থা। সরকারের এ চাল দেয়ায় আমাদের মত গরিব মানুষগুলোর সুবিধা হবে।

// ১৬-০৬-২০১৭ //