26 মার্চ 2017

কয়রা সদরের পাউবোর বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে

খুলনানিউজ.কম:: সাতক্ষীরা পানিউন্নয়ন বিভাগ ২ এর অধিন আমাদী পানি উন্নয়ন উপবিভাগের আওতাধীন ১৩-১৪/২ নং পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত খুলনা জেলার কয়রা উপজেলা সদরের ঘাটাখালী গ্রামের মোবারক আলী শেখের বাড়ী হতে গোবরা গ্রামের হায়াত আলী সরদারের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১ কিঃমিঃ পাউবোর বেড়িবাাঁধ মারাত্বক হুমকির মুখে রয়েছে।

যে কোন মুহুর্তে কপোতাক্ষ নদের ঢেউ-য়ে দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙে লবন পানীতে কয়রা উপজেলা সদর সহ বৃহত্তর এলাকা প্লাবিত হয়ে  প্রান হানি সহ অপরুনীয় ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনায় এলাকাবাসি আতঙ্কিত অবস্থায় নির্ঘুম রাত যাপন করছে। সরেজমিন বেড়িবাঁধে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটাখালী গ্রামের মোবারেক আলী শেখের বাড়ী হতে গোবরা গ্রামের হায়াত আলী সরদারের বাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১কিঃমিঃ বেড়ীবাঁধ স্থান ব্যাপিয়া  নদী ভাঙ্গনে বেড়ীবাধের অর্ধেকের বেশী নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বাঁধের অধিকাংশ স্থানে রাস্তার মাথা মাত্র ৩/৪ফুট পর্যন্ত রয়েছে।

পাউবোর বেড়িবাধের নিয়মে ১৪ফুট প্রস্থ বা মাথা করে রাস্তা নির্মান করা হয়। কিন্ত দির্ঘ ৪ বছর সংষ্কারের অভাবে কপোতাক্ষ নদের প্রবল স্রোতে দিনের পর দিন বাঁধটি বিলীন হলেও পাউবো বাঁধ নির্মানে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি,সেকারনে যে কোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়রা সদরে অবস্থিত সরকারী অফিস আদলত,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,রাস্তা-ঘাট,বর্তমান মৌসুমে উৎপাদিত ধান্য ফসল,শত শত মৎস ঘের,হাজার হাজার ঘরবাড়ী,গাছ-পালা,গবাদীপশু সহ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংক্যা বিরাজ করছে। ভাঙ্গন কবলীত স্থানের বাসিন্দা ঘাটাখালী গ্রামের শেখ আফতাব উদ্দীন জানান, অত্র এলাকার নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকায় ইতি পূর্বে আমরা গ্রামবাসী পাউবোর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খুলনা,নির্বাহী প্রকৌশলী সাতক্ষীরা,উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমাদি বরাবর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ সহ বাঁধটি সংষ্কার অথবা পুননির্মানের জন্য স্থানীয় সাংসদ,উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সুপারিশ কৃত স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তির স্বাক্ষরীত  লিখিত আবেদন করেও কোন ফল হয়নি,সে কারনে এলাকাবাসি ভিতু সন্ত্রাস্থ হয়ে পড়েছে।

সাতক্ষীরা পাউবো সুত্রে যানাজায়,গত ৪ বছর আগে সর্বশেষ বাধটি ৮ফুট প্রস্থ করে নির্মান করা হয়েছিল তার পর বাঁধটি আর  সংষ্কার করা  হয়নি। কয়রা সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, গোবরা ঘাটাখালী,হরিন খোলা ২নং কয়রা, সহ উপজেলা সদর ইউরিয়নের কয়েকটি ভাঙ্গন কবলীত স্থান এ মুহুর্তে মেরামত করা অতিীব জরুরী,বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই বাঁধগুলি মেরামত না হলে গোটা এলাকাবাসী সিমাহীন দূর্ভোগে পতিত হবে। ইউপি চেয়ারম্যান আরো জানান,বিষয়টি তিনি পাউবোকে অবহিত করেছেন। 

পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আংটিহারা মোঃ আব্দুল মতিন জানান,বিষয়টি উর্দ্ধোতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে,অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ব্যাবস্থা নিতে পারছি না, তবে বাঁধটির ভাঙ্গনকবলীত স্থান মেরামতে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

// শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংকন কয়রা: ২০-০৪-২০১৫ //