24 মার্চ 2017

আইলা দুর্গত কয়রা- দাকোপের সাইক্লোন শেল্টার কাম বিদ্যালয়গুলো নির্মান হচ্ছে নিম্মমানের সামগ্রীতে

150429-koiraখুলনানিউজ.কম:: সিডর আর আইলায় বিপর্যস্ত খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে ২৬ টি সাইক্লোন শেল্টার। প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যায়ে এই শেল্টার গুলো তৈরীতে অর্থায়ন করছে বিশ্বব্যাংক। দুই বছর আগে নির্মান কাজ শুরু হওয়া শেল্টার গুলোর নির্মান কাজ চলতি বছরের জুন মাসে শেষ হবে।

তবে নির্মান কাজ শেষ হবার আগেই বিশাল বাজেটের এই শেল্টার গুলোর স্থায়ীত্ব নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মান সামগ্রী এতোটাই নিন্মমানের যে, বারবার এলাকাবাসী এসব নির্মান সামগ্রী ব্যবহারে বাধা দিয়েছেন। এলাকাবাসী বলছে, যে সব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে এবং যে পরিমানে ব্যবহার করা হয়েছে তাতে একশত বছরের স্থায়ীত্ব দেয়া এই শেল্টার গুলো নির্ধারিত মেয়াদের চার ভাগের এক ভাগও যাবে না। ইতিমধ্যে কয়েকটি শেল্টার হেলে পড়েছে বলেও দাবি এলাকাবাসীর। ফলে প্রকৃতিক দুর্যোগের সময় এগুলো এলাকাবাসীর কতটা উপকারে আসবে তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্নিঝড় সিডর আঘাত হানে কয়রা, দাকোপসহ দেশের দক্ষিন পশ্চিম অঞ্চলে। এর ক্ষত কাটিয়ে ওঠার আগেই ২০০৯ সালে আবারও আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা। আইলার পানিতে ভেসে যায় কয়রার অধিকাংশ এলাকা। বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায় বিভিন্ন স্থানে। প্রায় তিন বছর লবন পানিতে তলিয়ে থাকার পর এলাকাবাসী পানির হাত থেকে রক্ষা পায়।
এলাকাবাসী জানান, সিডর আর আইলার পর যে পরিমান সাহায্য সহযোগিতা দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষের জন্য এসেছে তা দিয়ে কয়রা শহর হয়ে যেতো। কিন্তু ছিটেফোটাও পায়নি অনেকেই। সর্বশেষ প্রকৃতিক দুর্যোগে জীবনহানী কমাতে ২০১৩ সালে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে কয়রা এবং দাকোপ উপজেলায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৬ টি সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মান কাজ শুরু হয়।
শেল্টারগুলো নির্মানে ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় মো: খালেক এন্টারপ্রাইজ ও ঢালী কনস্ট্রাকশনকে।
এলাকাবাসী জানান, দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানই কাজে প্রচুর অনিয়ম করে চলেছে। তারা মরিচা ধরা রড, মাটি মেশানো বালি, ময়লা পাথরের খোয়া আর জমাট বাধা সিমেন্ট ব্যবহার করছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী জানান, নির্মান কাজে স্থানীয়ভাবে তৈরী ইট, জমাট বাধা সিমেন্ট, মরিচা ধরা রড, মাটি মেশানো বালি, ময়লা পাথরের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইট, বালি সিমেন্টের যে যে পরিমান দিয়ে মিশ্রন তৈরী করার কথা তার থেকেই অনেক বেশী পরিমানে দিয়ে মিশ্রন তৈরী করা হয়েছে। যা এক নজর দেখলেই বোঝা যাবে। সর্বোপরি লবন পানি পরিশোধণ করে তা দিয়ে মিশ্রন তৈরী করার কথা থাকলেও তাতো করাই হচ্ছে না।
সূত্র জানায়, এক ব্যাগ সিমেন্টের সাথে দুই ব্যাগ বালি ও চার ব্যাগ পাথরের খোয়া দেয়ার কথা সিডিউলে উল্লেখ থাকলেও দেয়া হচ্ছে ৪/৫ ব্যাগ বালি ও তার চেয়ে বেশী পরিমান খোয়া। যে কারণে ঢালাই করার পরপরই খোয়াগুলো বেরিয়ে পড়ছে। এসব বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেকেই মুখোমুখি হয়েছেন হুমকি। চাকরীচ্যুত করার হুমকিও দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র আবাসিক প্রকৌশলী বাসুদেব সাহা বলেন, নির্মান সামগ্রী যথাযথভাবে দিয়েই নির্মান কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জমাটবাধা সিমেন্ট দিয়ে কোথাও কাজ হচ্ছে না। তাছাড়া এক নম্বর ইট, সিলেট বালু আর পরিস্কার খোয়া দিয়েই কাজ হচ্ছে। তিনি বলেন, বালু ধুয়ে ব্যবহার এবং খোয়াও পরিস্কার থাকায় তা ধোয়ার কোন কারই নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পানি পরিশোধন করে ব্যবহার করারও কোন বাধ্যবাধকতা নেই।

// শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংকন, কয়রা: ২৯.০৪.২০১৫ //