29 জুন 2017

কালবৈশাখীতে লন্ডভন্ড কয়রার কাটকাটা ও বড়বাড়ী গ্রাম

150516-koyraখুলনানিউজ.কম:: কালবৈশাখী ঝড়ে কয়রা উপজেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কাটকাটা ও বড়বাড়ী গ্রাম দুটি লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। গ্রামদুটির প্রায় অর্ধশতাধীক কাঁচা ঘরবাড়ী,এবং ঘরে রাখা সদ্য আমন ধান, আসবাব পত্রসহ সব কিছু মুর্তেই বিদ্ধস্ত হয়ে

গেছে। শনিবার বিকাল ৪টার দিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির সাথে পুর্ব-দক্ষিন দিক থেকে  ধেয়ে আসা কালবৈশিাখী ঝড়ে উপজেলার উত্তরবেদকাশী ইউনিয়নের কাটকাটা ও বড়বাড়ী গ্রামের প্রায় অর্ধশতাধীক ঘরবাড়ী মুহুর্তেই লন্ডভন্ড করে দেয়।

ঝড়ের তিব্রতায় ঘরের টিনের ছাউনি নারিকেল গাছের মাথায়,ঘরে থাকা আসবাবপত্র, জামাকাপড়, ধানের গোলাসহ নিত্যব্যাবহায্য জিনিষপত্র মুহুর্তেই ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে যায়। ঝড়ের প্রচন্ড তিব্রতায় বাথরুমের স্লাব পর্যন্ত উড়ে যায়।

বিশেষকরে গ্রাম দুটির শতভাগ সাস্থসম্মত পায়খানার অধিকাংশই ধংশ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কাটকাটার আদিবাসী পাড়া।  ক্ষতিগ্রস্থ আদীবাসী মুন্ডা পাড়াটির অসহায় লোকজন বর্তমান জীবনযাপন করছে খোলা আকাশের নিচে।

তাদের  তিলতিল করে জমানো ধান-চাল থেকে শুরুকরে যা কিছু সোহায় সম্বল ছিল সব কিছু হারিয়ে সর্বসান্ত হয়ে গেছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক কয়রা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থদের আশ্বস্থ্য করছেন।

কয়রা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার রায় জানান, আকর্শীক এ ঝড়ে গ্রাম দুটির প্রায় ৩০/৩৫টি ঘরের কোন চিন্ন নেই,তাৎক্ষনিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হয়নি বলেও ঐকর্মকর্তা জানান।

এ মুহুর্তে গ্রাম দুটির ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য সরকারী-বেসরকারী সাহায্য জরুরী হয়ে পড়েছে। তবে অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, “বাজারে আগুন লাগলে খোদার ঘর ও রেহাই পায়না“ প্রবাদটিকে মিথ্যা প্রমানিত করে প্রচন্ড ঝড়ের মাঝেও টিনের ছাউনি কাটকাটা জামে মসজিদটি অক্ষত রয়েছে। মসজিদের চারপার্শের ঘরবাড়ীগুলি ঝড়ের তিব্রতায় ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হলেও মসজিদটির তিল পরিমান কোন ক্ষতি হয়নি।

// শেখ সিরাজুদ্দৌলা লিংকন, কয়রা: ১৬-০৫-২০১৫ //