30 এপ্রিল 2017

কয়রার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি উন্নতি জনসাধারনের মাঝে স্বস্তি

খুলনানিউজ.কম:: কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ যোগদানের মাত্র ৫ মাসের ব্যবধানে পাল্টে গেছে কয়রা উপজেলার আইনসৃংখোলা পরিস্থিতি। অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বর্তমানে আইনসৃংখোলা পরিস্থিতির উন্নতী হওয়ায় কয়রার সাধারন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিওে এসেছে। কয়রা উপজেলার প্রতিটি এলাকায় পুলিশী তৎপরতা জোরদার থাকায়

অতীতের তুলনায় অপরাধ কর্মকান্ড হ্রাস পেয়েছে। এক সময় যেখানে বনদস্যুরা লোকালয়ে প্রবেশ করে গ্রামের নিরীহ মানুষকে জিম্মি করে মুক্তিপন আদায় সহ সর্বস্ব লুটে নিত। বর্তমানে আইন শৃংখলা ভাল হওয়ায় সে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। গত কয়েক মাসে পুলিশের অভিযানের মুখে ভয়ংকর দাগী অপরাধীরা এলাকা ছাড়া হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা দিয়েছে। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শমসের আলি ০২/৬/২০১৬ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে চোর,ডাকাত,মাদক,বনদস্যু,জঙ্গীওনাশকতা সৃষ্টিকারীদেও বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ৩০ জনের অধিক বনদস্যুকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ সহ বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে ১৪ টি ও অস্ত্র আইনে ৭ টি মামলা হয়েছে।। এ ছাড়াও পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে  একের পর এক অভিযান চালিয়ে বনদস্যু,জঙ্গি, চোর,ডাকাত, মাদক বিক্রেতা, মাদক সেবনকারী ও নাশকতা সৃষ্টিকারীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে। সেই সাথে সুন্দরবনে একের পর এক অভিযান চালিয়ে বনদস্যুবাহিনী প্রধান সহ ৩ বনদস্যু নিহত হয়েছেন। এসময় কয়রা থানার ওসি সহ পুলিশের কয়েক সদস্য আহত হয়। এসকল অভিযানে বনদস্যুদের নিকট থেকে উদ্ধার হয়েছে দেশি বিদেশি ১০টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ৩৬ রাউন্ড গুলি ও ৫ টি রামদাঁ। এছাড়া পুলিশের নিয়োমিত অভিযানে গত ৫ মাসে প্রায় ১ কেজি গাজা,৭০পিচ ইয়াবা নিষিদ্ধ সংগঠনের জেহাদী বই উদ্ধার সহ নাশকতা সৃষ্টিকারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় স্বস্তি ফিরে পেয়েছে সাধারন মানুষ। প্রকৃত বনদস্যুদের একের পর এক গ্রেফতার করতে সাহসী পদক্ষেপ গ্রহন করায় ওসি শেখ শমসের আলিকে উপজেলার সকল শ্রেনী পেশার মানুষ সাধুবাদ দিয়েছেন। এ ছাড়া নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক জামায়াত শিবির নেতা কর্মীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে থানা অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন। থানা পুলিশের নিয়মিত টহলদলের সাথে ৫টি পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় সার্বক্ষনিক টহল জোরদার করায় সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে বনদস্যুদের দৌরাত্ব উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে গেছে। আইন শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও জেলে বাওয়ালীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এ ছাড়া ওসি শেখ শমসের আলি যোগদানের পর থেকে থানায় দালালদের দৌরাত্ম নেই বল্লেই চলে। তাছাড়া নিয়মিত মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামী গ্রেফতার হয়েছে অতীতের তুলনায় অনেক বেশি।

// কয়রা, খুলনা: ২৩-১১-২০১৬ //