25 জুন 2017

পাইকগাছায় ভ্যাবসা গরম ও তাপদাহে অতিষ্ট জনজীবন

150528-paik-hotখুলনানিউজ.কম:: খুলনার পাইকগাছায় প্রচন্ড ভ্যাবসা গরম ও তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। গরমের বিরূপ প্রভাব পড়েছে কর্মক্ষেত্রে। দেখা দিয়েছে ডায়ারিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় সংকট দেখা দিয়েছে খাওয়ার

স্যালাইনের। টানা এক সপ্তাহেরও অধিক সময় এ অবস্থা বিরাজ করছে। সূত্র মতে, সারা দেশের ন্যায় গত এক সপ্তাহেরও অধিক সময় ভ্যাবসা গরম ও তাপদাহে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে জনজীবন। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট লোনা পানি কেন্দ্রের ক্ষেত্রসহকারী মুশফিকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বাতাসের স্বাভাবিক আদ্রতা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল যা গত কয়েকদিন ৩৮-৩৯ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠা করছে। একদিকে প্রচন্ড গরম এবং অপর দিকে বৃষ্টিপাত না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অতিষ্ট প্রাণিকুল। গরমের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবি মানুষের মধ্যে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে দিনের স্বাভাবিক কাজ। পৌর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আলম গাজী জানান, সকাল থেকে শুরু করে দিনের কোন অংশেই তাপদাহের কমতি  নাই। ফলে কাজ শুরু করার আগেই শরীরের ঘামের স্রোতে গোসল করে যেতে হচ্ছে। টানা এ তাপদাহে অধিকাংশ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ফলে প্রচন্ড এ গরমে শ্রমজীবী মানুষেরাই বেশি বিপাকে রয়েছেন বলে তিনি জানান। প্রচন্ড এ তাপদাহে স্বাভাবিক কাজ-কর্মব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে ডায়ারিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শর্মিষ্ঠা সাহা জানান, তাপদাহে গত কয়েক দিনে হিটস্টক, ফিট খাওয়া রোগসহ ডায়ারিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। অন্যান্য মৌসুমে শিশুদের মধ্যে ডায়ারিয়ার প্রবণতা বেশি দেখা গেলেও গরমে সব শ্রেণীর মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে ডায়ারিয়ায়। গত ২/৩ দিনে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত ১০জনেরও অধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসারত গজালিয়া গ্রামের সুফিয়া বেগম (২০) জানান, গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি ডায়ারিয়াজনিত কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে, বাইরে কম চলাচল, টিউবওয়েলের পরিস্কার পানি ফুটিয়ে পান করা, বাইরের খাবার না খাওয়া, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতাবৃদ্ধি, প্রচুর পরিমাণে পানি ও খাওয়ার স্যালাইন খাওয়ার পরামর্শ প্রদানসহ সচেতনামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে ডাঃ শর্মিষ্ঠা সাহা জানান। এদিকে খাওয়ার স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় হঠাৎ করে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না প্যাকেট স্যালাইন। পৌর বাজারের আর.সি মেডিকেল হলের সুকুমার সানা জানান, সম্প্রতি হঠাৎ করে খাওয়ার স্যালাইনের চাহিদা বেড়ে যায়। অথচ গত ১৫দিনেও ঔষধ কোম্পানী থেকে কোন প্যাকেট স্যালাইন সরবরাহ করা হয়নি। যার ফলে বর্তমানে প্যাকেট স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে বলে এ বিক্রেতা জানান।

// মোঃ আব্দুল আজিজ, পাইকগাছা, খুলনা: ২৮-০৫-২০১৫ //