24 মে 2017

ফুলতলায় যুবলীগ নেতাকে গুলি ও বোমা ফাটিয়ে হত্যা

170204-hottaখুলনানিউজ.কম:: খুলনা জেলার ফুলতলা উপজেলার ফুলতলা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জনি মোল্লাকে (২৯) দুষ্কৃতকারীরা গুলি ও বোমা মেরে হত্যা করেছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা রেল ষ্টেশনের অদূরে এ

হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাহমুদ মোল্যা ওরফে মাদু (৫২) নামে একজন পথচারী আহত হয়। নিহত জনি উপজেলার বেজেরডাঙ্গা এলাকার ঢাকুরিয়া গ্রামের ইউসুফ মোল্লার ছেলে। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পক্ষ থেকে জনিকে যুবলীগের সহ-সভাপতি দাবি করা হলেও পুলিশ বলছে সে ডাকাতিসহ অসংখ্য মামলার আসামী।

পুলিশ তাকে দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজছে। সে সন্ত্রাসী সালাম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড। ঘটনাস্থলে থাকা ফুলতলা থানার এস আই আব্দুর রউফ বলেন, জনির পিঠে ৩টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। তবে কারা এবং কেন এ হত্যাকান্ড চালিয়েছে সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, বোমার স্পিøন্টারসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধার করেছে।

ফুলতলা থানার ওসি মুন্সী আসাদুজ্জামান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বেজেরডাঙ্গা রেল ষ্টেশনের অদূরে তরুণ সংঘ নামক একটি ক্লাবের কাছে জনি ও তার পরিচিত কয়েকজনের সাথে কথা বলছিলেন। এ সময় মুখোশধারী ৪/৫জন দুষ্কৃতকারী জনিকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ ও বোমা নিক্ষেপের পর মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পালিয়ে যায়। দুষ্কৃতকারীরা জনির পিঠে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। সাথে সাথে জনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এলাকাবাসী দ্রুত রক্তাক্ত অবস্থায় জনিকে উদ্ধার করে প্রথমে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে কে বা কারা এবং কি কারণে জনি মোল্লাকে হত্যা করেছে তা’ নিশ্চিত করতে পারেননি ওসি।

এ ব্যাপারে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এস এম শফিউল্লাহ জানান, নিহত জনি মোল্লার বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে। জনি সন্ত্রাসী সালাম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিলো। জনি ও সালামকে দীর্ঘ দিন ধরে খুঁজছে পুলিশ। জনি একটি মামলায় সাজা খেটে এক মাস আগে মুক্তি পায়। জনি যুবলীগের কেউ না। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কয়েকজন নেতার সাথে ঘোরাঘুরি করে সে নিজেকে যুবলীগ নেতা হিসেবে দাবি করতো। যুবলীগের কর্মী বা অন্য কোন পদ পদবী তার নেই। নিহত জনির লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আজ শনিবার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান জামাল ও ফুলতলা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি এস কে আলী ইয়াছিন নিহত জনি মোল্লাকে ফুলতলা সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি বলে দাবি করে অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অপরদিকে, ফুলতলা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ প্রিন্স জানান, নিহত জনি তাদের দলের কেউ না। প্রকৃতপক্ষে সে একজন সন্ত্রাসী ও সালাম বাহিনীর সক্রিয় ক্যাডার।

ফুলতলা থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ফুলতলা উপজেলার বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলি ও বোমার আঘাতে এলাকার সন্ত্রাসী সালাম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড জনি মোল্যা (২৯) নিহত হয়েছে। ঘটনার পর পরই তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি জালের কাঠি উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় তরুণ সংঘ ক্লাবের সামনে জনি মোল্যা ও মাহমুদ নামের ২ জন দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এ সময় অজ্ঞাত ২/৩ জন সন্ত্রাসী এসে গুলি ও বোমা হামলা করে দ্রুত পালিয়ে যায়। জনি মোল্যার পিঠে গুলি ও বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হয়। তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার সঙ্গী মাহমুদ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়। ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। জনি মোল্যার নামে ফুলতলা থানায় ২ টি ডাকাতি মামলাসহ ৬ টি মামলা রয়েছে।

// ০৪-০২-২০১৭ //