24 মার্চ 2017

পাল্টে গেছে চিরচেনা রূপসাঘাটের দৃশ্যপট

170129-rupshaরঞ্জু আহমদ:: সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে লাল নীল সোডিয়াম বাতির ঝলমলে আলো। শত শত কর্মব্যস্ত মানুষের ভিড়ে এক জায়গায় স্থীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জো নেই। মাত্র ছয় মাস আগেও যেখান দিয়ে যেতে প্রায় হাঁটু পানি পাড়ি দিতে হতো যাত্রীদের, সেখানে আজ স্বস্তির নিশ্বাস।

স্থানটি নগরীর রূপসা ঘাট এলাকার। ঘাট এবং বাসস্ট্যান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়নের পর একটি দৃষ্টিনন্দন স্থানে পরিণত হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সেখানে তৈরী হয়েছে একটি  নতুন বাস টামিনাল। কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, জার্মান ডেভেলপ ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এর অর্থায়নে নগরীর রূপসা ঘাট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড। সেই সাথে উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে ঘাটের। নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে পন্টুন। হয়েছে যাত্রী ছাউনী। এছাড়াও যাত্রী পারাপারে সব রকমের সুবিধা দিয়ে তৈরী করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। দুই ধাপে ঘাট এবং বাসস্ট্যান্ড নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। কেসিসির সিআরডিপি (নগর উন্নয়ন প্রকল্প)’র আওতায় কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে এ কাজের টেন্ডার আহবান করা হয়।

সুত্রটি জানিয়েছে, নগরীর রূপসা বাস টার্মিনাল উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ টাকায় নির্মাণকরা হয়েছে দুই তলা বিশিষ্ট ভবন, রাস্তা, ফুটপথ, পাইপড্রেন, ক্রস ড্রেন, রিটেয়লিং ওয়াল, আরসিসি রোড। সড়কে দেয়া হয়েছে ইউনিব্লক। ভবনটিতে রয়েছে অফিস কক্ষ, নামাজ পড়ার কক্ষ ও ফুড কর্নার। এছাড়া যাত্রীদের নদী পারাপারে বসানো হয়েছে নতুন পন্টুন। বাস টার্মিনাল ভবন থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত যেতে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে।

বাসস্ট্যান্ডসহ আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্বে সিআরডিপির উপ-সহকারি প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভবন এবং এর আশপাশের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে। নগর পরিবহনসহ আন্তঃজেলা পরিবহন বাসগুলো এখানে সুষ্ঠুভাবে দাঁড়াতে পারবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে স্টান্ডটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফুটাপাতের পাশটি দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হয়েছে ফুল ও গাছের চারা’।

অপরদিকে রূপসা বাস টার্মিনাল ও পাইকারী মৎস্য আড়ৎ এর মাঝে বিদ্যমান খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো সব হয়েছে বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে। রূপসার ঘাটের দুই পারের নদী সংরক্ষণে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। নগরীর এই অংশে ঘাট সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণে দেয়া হয়েছে ব্লক। নির্মাণ করা হচ্ছে আরসিসি দেওয়াল। এ কাজে ব্যয় করা হয়েছে ৮কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রয়েছে ছোট ছোট ঘাট। ফলে রূপসা ঘাট ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরী হয়েছে। বিকেলে নদী পাড়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে ক্রমেই বাড়ছে ভিড়।

এ কাজের সিআরডিপির উপ-সহকারি প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘রূপসা নতুুন,বাসস্ট্যান্ডের সাথে সাথে নদী তীর সংরক্ষণে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ।  সেখানে ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ওয়াল দিয়ে মাটি সরা রোধ করা হয়েছে। এসব স্থানে মানুষ অবসরকালীন সময় কাটাতেও পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন’।
স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের দাবি, নগরীর রূপসা ঘাটের চিরচেনা দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। বছরের প্রায় সব মৌসুমে পানির নিচে তলিয়ে থাকা ঘাট এবং বাসস্টান্ডটি এলাকাটি এখন হয়েছে সুন্দর। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষের দিকে। এর মাধ্যমে দূর হবে জলাবদ্ধতা, ঘাট দিয়ে মানুষের যাতায়াত সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। যানজট ও দুর্ঘটনা কমে আসবে।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে, নতুন এ টার্মিনালে ঢাকা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, বরিশাল, কুয়াকাটাসহ দক্ষিণাঞ্চলের আন্তঃজেলা পরিবহন বাসগুলো অবস্থান করবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম, রুবেল হোসেন, মামুন কায়সারসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, আগে যত্রতত্র বাসসহ অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকত। বাস স্টান্ডটি নির্মানের ফলে সুশৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে যানগুলো। জনাকীর্ণ মোড়টিতে যানজট থাকবে না। মানুষের যাতায়াতও সহজ হবে। ইজিবাইক, মাহেন্দ্রসহ অন্যান্য ছোট যানগুলোও পার্কিংয়ে কোন অসুবিধা হবে না।

// ২৯-০১-২০১৭ //