29 জুন 2017

রূপসায় যুবককে পিটিয়ে হত্যা

170213-Rupsaখুলনানিউজ.কম:: বিবাহের মাত্র ২৫ দিন পর স্ত্রীর পরকিয়া প্রেমে বলি হতে হলো স্বামীকে। ঘটনাটি রূপসা উপজেলার তিলক গ্রামে। পারবারিক, এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, রূপসা উপজেলার দক্ষিন খাজাডাঙ্গা গ্রামের খতিবুল ইসলামের পুত্র সরদার খায়রুল ইসলাম পরাগ (২৮) এর সাথে চলতি

বছরের ১৯ জানুয়ারী বিবাহ হয় তিলক গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেন মুরাদের কন্যা ফাহিমা হোসেন তামান্নার সাথে। খায়রুল ইসলাম লকপুর এলাকায় একটি দোকানে ফিস ফিড বিক্রয় করতো। ১২ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় পরাগের শ্বাশুড়ী মোবাইল ফোনে পরাগকে শ্বশুরবাড়ীতে আসতে বলে।

রাত সাড়ে ১০ টায় পুরনায় স্ত্রী তামান্না ও তার স্বামীকে শ্বশুরালয়ে বেড়াতে আসতে বলে। খায়রুল ইসলাম পরাগ মোটর সাইকেল যোগে তিলক এলাকায় পৌছালে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তার মোটর সাইকেলের গতি রোধ করে এবং বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে।

এরপর দুর্বৃত্তরা খায়রুল ইসলামের লাশ তিলক গ্রামের নজরুল ইসলাম তরফদারের বাড়ীর বাথরুমের সেফটি টেঙ্কিতে লুকিয়ে রাখে। সকালে পুলিশ ও খাজাডাঙ্গা গ্রামের জনতা তিলক এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে উক্ত এলাকা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার করে। এ সময় খাজাডাঙ্গা গ্রামের জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে খাইরুল ইসলামের মৃত্যুতে খাজাডাঙ্গা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

পুলিশ লাশ উদ্ধার করে প্রথমে থানায় ও পরে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত যুবকের শ্বাশুড়ী শামসুন্নাহার জোৎসা (৩৮), স্ত্রী ফাহিমা হোসেন তামান্না (১৯), স্ত্রীর প্রেমিক শাকিল (২৫) ও তিলক এলাকার নাজিম সরদার (২১), হোসেন আলী (৫৫), রফিকুল ইসলাম ভুইয়া (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।

ঘটনার সময় পরাগের কাছে নগদ ২ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা, ২টি মোবাইল ফোন ও ১ টি মোটর সাইকেল ছিল যা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। ঘটনার পর খুলনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইমুজ্জামান, এসপি সার্কেল বদিউজ্জামান, খুলনা ডিবি পুলিশের ওসি আক্কাস আলী শিকদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছে।

// মান্না দে, ফকিরহাট: ১৩-০২-২০১৭ //