23 জুন 2017

তেরখাদায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ছিনতাইকারী নিহত

141016-deadখুলনানিউজ.কম:: ছিনতাইকারীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে বাবুল নামের এক ছিনতাইকারী নিহত হয়েছে। এসময় তিনটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশের চার সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাটি বুধবার রাত সাড়ে ১০ টায় উপজেলার

কোদলা এলাকার হাবিবুল্লাহ মৎস্য ঘেরের পাড়ে ঘটেছে। তেরখাদা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাচিয়াদাহ এলাকার দুই পান ব্যবসায়ীর টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় থানা পুলিশ ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করে। এরা হলো, ফিলফানগর গ্রামের আব্দুল হালিমের পুত্র বাবুল, তেরখাদা গ্রামের শেখ শহীদুল ইসলামের পুত্র সাগর শেখ ও খুলনার দৌলতপুর নতুন রাস্তার মোড় এলাকার রণি ভিলার ওরফে নুর ইসলামের পুত্র শান্ত।

পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আটককৃতদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কোদলা এলাকার হাবিবুল্লাহ মৎস্য ঘেরের পাড়ে পৌছলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সহযোগী ছিনতাইকারীরা পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এসময় ছিনতাইকারী বাবুল পালাতে গিয়ে গুলিতে আহত হয়। পরে ঘটনাস্থল তল্লাশী চালিয়ে গুলিবিদ্ধ বাবুল ও দেশি তৈরী তিনটি পাইপগান এবং ১০ রাউন্ড বন্দুকের গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। আহত ছিনতাইকারীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বন্দুকযুদ্ধে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, এএসআই রুহুল আমিন, সিপাহী ফরহাদ ও লিটন আহত হয়েছেন বলেও পুলিশ জানায়। তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত বাবুল একজন পেশাদার ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ। তার বিরুদ্ধে তেরখাদা থানাসহ বিভিন্ন থানায় ছিনতাই, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনে মামলা রয়েছে। সে ডাকাতি মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গতকার বিকেল ৫ টার দিকে পান ব্যবসায়ী সাচিয়াদাহ গ্রামের  বুড়ো বিশ্বাসের পুত্র নিতীশ ও একই এলাকার নুরুন্নবী  চাপাইল এলাকা থেকে মহেন্দ্র পরিবহনে ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২শত টাকা নিয়ে সাচিয়াদাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তারা পাখিমারা মোড় নামক স্থানে পৌছালে  পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা অস্ত্রধারী  ছিনতাইকারীরা অস্ত্রের মুখে ব্যবসায়ীদ্বয়ের সমুদয় টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পালিয়ে যায়। এসময় ব্যবসায়ীদ্বয়ের ডাক-চিৎকার শুনে ছাগলাদাহ ইউপি চেয়ারম্যান এস.এম দ্বীন ইসলামের নেতৃত্বে এলাকাবাসী ছিনতাইকারীদের মটর সাইকেলের গতিরোধ করে। ছিনতাইকারীরা তাদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়লে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাতিজা কোদলা  গ্রামের বাদশা মিয়ার পুত্র ইমরান শেখ গুলিতে আহত হয়। তাকে চিকিৎসার জন্যে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এসময় এলাকাবাসী ছিনতাইকারীদের ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলে এবং গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপার্দ করে। পুলিশ রাতে ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও অস্ত্র উদ্ধারে কোদলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা কালে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

// তেরখাদা, খুলনা: ১৫-১০-২০১৪ //