26 জুন 2017

শরণখোলায় বিশুদ্ব পানির তীব্র সংকট!

150604-Sharonkhola Paniবাগেরহাটের শরণখোলায় বিশুদ্ব পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পানি বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শরণখোলা হাসপাতালে গত মার্চ - মে পর্যন্ত এই ৩ মাসে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার শতাধিক মানুষ পানি বাহিতি রোগসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি

ও চিকিৎসা নেয়া রোগীদের মধ্যে অধিকাংশরাই ছিল শিশু ও বৃদ্ধ। অপরদিকে,দীর্ঘ দিন অনা বৃষ্টি একটানা ভ্যাফসা গরমে চলতি শুস্ক মৌসুমে পানি সংকটের কারনে ডায়রিয়াসহ পানি বাহিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে এমন আশংকা দিয়েছে গোটা শরণ খোলা উপজেলা ব্যাপি। আর সিডর বিধ্বস্থ শরণখোলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে পানি বাহিত রোগসহ ডায়রীয়া ছড়িয়ে পড়ার শংকায় রয়েছে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগ । আর একারনে বাগেরহাটের শরণখোলা স্বাস্থ্য বিভাগ জরুরী ভাবে মেডিকেল অফিসার, উপসহ কারী কমিনিউটি মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্য সহকারীর সমন্বয় উপজেলায় মোট ৫ টি মেডিকেল টিম গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে পূর্ব-খাদার বাসিন্দা আঃহালিম (৬৫), নলবুনিয়ার জাহানারা বেগম (৫৫), গোলবুানিয়ার আবু-হানিফ (৬০), তাফালবাড়ির অপু (০৬) মাস, খোন্তাকাটার খালিদ (০৮) মাস, খাদার ফাহিম (০৮) ও কদমতলা এলাকার শুনিয়া (০৮) মাস সহ প্রায় দেড়শ রোগী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ সূত্রে জানাগেছে , প্রতি বছর শুস্ক মৌসুম এলেই উপজেলার ৪ ইউনিয়নের দেড়লাখ মানুষের আবাসস্থল ১৫১.২৩ বর্গ কিঃমিঃ আয়তনের মধ্যে অসংখ্য খাল, বিল, পুকুর, ডোবা ও নদীতে পানি থাকলেও পান যোগ্য বিশুদ্ব পানির বড়ই সংকট দেখা দেয়। উপকুলীয় এলাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পানি সংকট নিরসনের জন্য ২০০৭ সালের প্রলয়ংণকারী ঘূর্নিঝড় সুপার সাইক্লোন সিডর পরবর্তী সময় এ অঞ্চলে সরকারী,বে-সরকারী উদ্দেগ্যে বিশুদ্ব পানি সরবরাহের জন্য ৪ ইউনিয়নে প্রায় সহ্¯্রাধিক রেইনওয়াটার হারবেষ্ট্রিং এবং পি-এস.এফ নির্মান করা হয়। নির্মান কারি সংস্থাগুলোর কাজের মান নিম্ম, জবাবদিহিতা সহ এলকাবাসীদের মধ্যে সচেতনতার অভাবে নির্মানকৃত পি-এস.এফ গুলোর ৯৫ ভাগ ইতি মধ্যে অকেজ হয়ে পড়েছে। যা এলাকাবাসীর কোন উপকারে আসছেনা।

পাশাপাশি উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (পাবলিক হেল্থ) সূত্র জানা যায়, তাদের স্থাপিত ৪ ইউনিয়নে ২০১৫ টি টিউবয়েলের মধ্যে অধিকাংশই নষ্ট। ২/১ টি ভাল থাকলে ও শুস্ক মৌসুমে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে তাতে পানি পাওয়া যাচ্ছেনা। কোথাও পানির লেয়ার পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত আর্সেনিক ও লবণাক্তার কারনে নতুন করে টিউবয়েল স্থাপন করা যাচ্ছেনা।

উপজেলার পূর্বখাদা গ্রামের বাসিন্দা স্কুল ছাত্রী-আসমা আক্তার সুমি (১৪) বলেন, তার বাড়ির কাছাকাছি ভাল কোন পানির ফিল্টার (পি-এস.এফ) না থাকায় তিনি প্রতিদিন ১ কিঃমিঃ দূরত্ব থেকে তার ৩/৪ বান্ধবীদের সাথে পরিবারের জন্য পানি সংগ্রহ করতে বিকেলে উপজেলা পরিষদে আসে।

উপজেলার খোন্তাকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও আওয়ামীলীগের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি আঃ করিম বলেন, তার এলাকায় কয়েকটি পি-এস.এফ থাকলেও সবগুলো নষ্ট। বাধ্য হয়ে প্রায় দেড় কিঃমিঃ দূরত্ব থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয় তার গ্রামবাসীদের। কিন্তু তাও শতভাগ নিরাপদ নয়। এ ছাড়া পানির সংকট নিরাসনের জন্য পাবলিক হেল্থ কোন দিন ওই এলাকায় খোঁজ খবর নেয়নি এবং তার বয়সকালে কাউকে দেখেননি। তার মতে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর স্থানীয় অফিসটি কাজ কর্মহীন (ঠুটোজগন্নাত) অফিস। যা জনসাধারণের কোন কাজে আসছেনা।

সুন্দরবন সংলগ্ন ৭ নং রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, তার বিদ্যালয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষনের একটি ট্যাংক ছিল। কিন্তু তার পানি গত ২ মাস পূর্বে শেষ হয়ে যাওয়ায় স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী সহ শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসেন।

সাউথখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা সমাজ সেবক মোঃ ফরিদ খাঁন মিন্টু বলেন, তার এলাকার পাশেই বলেশ্বর নদী তাতে অনেক পানি থাকলে ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এ ছাড়া সিড়র পরবর্তী সময় নির্মানাধীন পি-এস.এফ গুলোর বেহাল দশা যা দিয়ে এলাকা বাসীর কোন উপকার হচ্ছে না। স্থানীয় এন জি ও অফিস জে.জে.এস এর ব্যাক্তিগত একটি পানির পি-এস.এফ ভাল থাকায় লোকজন বিকেল হলে দলে দলে সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করে। এবং পাবলিক হেল্থ এর স্থাপিত টিউবয়েল গুলো সব নষ্ট। এ বিষয় ৪ ইউনিয়নের সংশিষ্ট চেয়ারম্যানরা বলেন, বিভিন্ন সংস্থার দেয়া পি-এস.এফ গুলো সংস্কার করে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে পারলে বিশুদ্ধ পানির সংকট হতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

এ ব্যাপারে শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (টি এইচ ও) থানা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসীম কুমার সমাদ্দার জানান,পানি সংকটের কারনে ও প্রচন্ড গরমে ডারিয়ার রোগীর সংখ্যা কিছু বাড়লে ও ভয়ের কিছু নেই। পরিবেশ তাদের নিয়šএনে রয়েছে।

শরণখোলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী কর্মকর্তা মোঃ আমজাদ হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হলে তার কার্যলয়ের জনবল সহ নানা সংকট দূর হওয়া প্রায়োজন।

এবিষয়ে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা: বাকির হোসেন বৃহস্পতিবার বিকালে মুঠোফোনে জানান সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলার একটি কলেরা সংক্রন্ত ঘটনার কারনে বাগেরহাটে আমরা যে কোন ধরনের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বাগেরহাটের প্রত্যেকটি ইউনিয়ন ও পৌর সভায় একটি করে জরুরী মেডিকেল টিম গঠন করেছি ।

// মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট: ০৪-০৬-২০১৫ //