30 মার্চ 2017

গোপালগঞ্জের জমিদার বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা

161004-Gopalganj Pujaখুলনানিউজ.কম:: রাজা নেই, নেই রাজ্যপাঠও। তবে প্রজারা আছেন। আছেন প্রজা বৎসল রাজার বাড়ি, পুকুর এবং আছে উৎসব। উৎসবের সেই রং হয়ত এখন ফিকে হয়ে গেছে, কিন্ত প্রজারা কৃতজ্ঞ চিত্তে ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। কোটালীপাড়ার হরিনাহাটির জমিদারের অনুপস্থিতেও

গত ৭৪ বছরে ধরে স্থানীয় হিন্দুরা দুর্গোৎসব পালন করে আসছেন। গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পূর্বে কোটালীপাড়া উপজেলার শেষ প্রান্তে পয়সা নদীর পাড়ে হরিনাহাটি জমিদার বাড়ির এই দুর্গাপূজার বয়স পেরিয়েছে শত বছর। হরিনাহাটির জমিদার সচ্চিদানন্দ ভট্টাচার্য্য বসবাস করতেন ভারতের কোলকাতায়। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী ও শিল্পপতি ছিলেন। তখনকার অন্যতম বৃহৎ বঙ্গলক্ষী কটন মিল, জীবন বীমাসহ নানান ধরণের ব্যবসা ছিল তাঁর। দুর্গা পূজার সময় স্বপরিবারে স্টিমারে করে বাড়িতে আসতেন। সঙ্গে আনতেন নিজের মিলে তৈরি কাপড়সহ নানা উপহার। প্রজাদের মধ্যে সেসব উদার হস্তে দান করতেন। তিনি থাকাকালীন প্রজাদারে বাড়িতে উনুন জ্বালানো নিষেধ ছিল। রাতদিন জমিদার বাড়িতে রান্না হত। আশেপাশে দশ গ্রামের প্রজারা ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পেট পুরে খেতেন।

এমন প্রজাবৎসল জমিদার দেশ ভাগের আগে পাকাপাকিভাবে কোলকাতায় চলে যান। তবে প্রজাদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। পূজার খরচ দিতেন। ১৯৪৬ সালে জমিদারের অনুমতিতে বাড়িতে জমিদারের নামে কে এস এন ইনস্টিটিউট নামে একটি বিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

জমিদারের মৃত্যুর পর প্রজাদের সঙ্গে ধীরে ধীরে জমিদার পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও প্রজারা জমিদারের ঔদার্য়ের কথা মনে রেখেছেন। তারা এখন পর্যন্ত জমিদার বাড়ির পূজোটি অব্যাহত রেখেছেন। ঐতিহ্যের ধারায় এখানকার প্রতিমা শিল্পীরাও বংশ পরমপরায় প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। এলাকার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে জাকজমকভাবে জমিদারবাড়ির ঐতিহ্য ধরে রাখতে এখানে দূর্গাপুজা করে আসছেন বলে জানালেন অপূর্ব ঠাকুর নামের এ আয়োজক।

জমিদারের অনুপস্থিতিতে স্থানীয়রা সম্মিলিতভাবে জমিদার বাড়ির পূজাটি ধরে রেখেছেন। এখনও পূজাটি হরিনাহাটির গ্রামের সবার জন্য সাম্প্রদায়িক সম্পৃতির প্রতীক হয়ে আছে।

// ০৪-১০-২০১৬ //