29 জুন 2017

পরিবহন ধর্মঘটে বেনাপোল বন্দরে অচলাবস্থা

খুলনানিউজ.কম:: চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহতের মামলায় চালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের প্রতিবাদে দেশব্যাপী চলছে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। এতে পণ্য খালাস বন্ধ থাকায় তীব্র পন্যজটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে

বেনাপোল বন্দরে। সোমবার মধ্যরাতে এই ধর্মঘটের ডাক দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এবং পরিবহন মালিক সমিতি। এর আগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট চলছিল। পরিবহন ধর্মঘটে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গন্তব্যে পণ্যচালান পৌঁছে দিতে পারবে না বলে বন্দর থেকে পণ্য খালাস নেয়া বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

ধর্মঘটের মধ্যে সোমবার প্রায় ২৩০ ট্রাক পণ্য খালাস নিয়েছিল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু বন্দর এলাকা ছেড়ে যেতে পারেনি সেসব ট্রাক।

এদিকে বন্দরের শেড থেকে পণ্য খালাস না হওয়ায় ভারত থেকে আসা শত শত পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের আশেপাশে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বন্দর থেকে পণ্য খালাস হলে এসব পণ্য গুদামে রাখা হবে।

অন্যদিকে বন্দর থেকে পণ্য নিতে আসা শত শত বাংলাদেশী ট্রাকও দাঁড়িয়ে আছে বন্দর এলাকায়। যে কারণে বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ পণ্যজটের। এছাড়া বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় কয়েকশ' ট্রাক অপেক্ষা করছে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দর এলাকায়।

সোমবার ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর শুনে অনেকে পণ্য লোড দিলেও পরে তা বাতিল করেন। বেনাপোলে আটকা পড়া কয়েকশ' পাসপোর্টযাত্রী বিশেষ ব্যবস্থায় গন্তব্যে চলে গেছেন।

ধর্মঘটের খবর শুনে অনেকে ভারত থেকে আসছেন না। ধর্মঘট প্রত্যাহার হলে তারা আসবেন বলে জানান কয়েকজন ভারতফেরত যাত্রী।

বেনাপোল শুল্কভবনের ডেপুটি কমিশনার মারুফ আহমেদ জানান, এই বন্দরে দৈনিক গড়ে সাড়ে নয় কোটি টাকা করে রাজস্ব আদায় হয়ে থাকে। ধর্মঘটে কাস্টমস হাউজের কাজকর্ম চালু থাকলেও পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় আমদানিকারকরা পণ্য খালাস নেয় না। ফলে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দেয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আবদুল জলিল জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য ধারণ ক্ষমতা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন। পরিবহন ধর্মঘটে পণ্য খালাস না হওয়ায় তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে।

তিনি জানান, বন্দরের ৩৬টি গুদাম, ৫টি ইয়ার্ড, একটি ট্রান্সশিপমেন্ট এবং ৩টি টার্মিনালের অধিকাংশ জায়গা আমদানি পণ্যে সয়লাব হয়ে গেছে।

আবদুল জলিল বলেন, প্রতিদিন ৩৫০ থেকে ৪৫০ ভারতীয়  ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করছে। সমপরিমাণ বাংলাদেশী ট্রাক পণ্য নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যায়। কিন্তু ধর্মঘটে পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, ধর্মঘটে ২৩০ ট্রাক পণ্য খালাস করে নিয়ে গেছে ব্যবসায়ীরা। তবে বন্দর এলাকা ছেড়ে যেতে পারছেনা। বন্দর থেকে পণ্য খালাস না হলে ভারত থেকে আসা পণ্য প্রবেশ করানো যাচ্ছে না।

বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দিন গাজী বলেন, পথে পথে শ্রমিক ইউনিয়নের বাধার মুখে ট্রাক চালকরা পণ্য বোঝাই ট্রাক নিয়ে বন্দর ছাড়তে পারছেন না। প্রায় তিন শতাধিক ট্রাক আমদানি পণ্য নিয়ে বন্দর এলাকায় আটকা পড়েছে।

তিনি বলেন, এসব পণ্যের মধ্যে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল ও জরুরি অক্সিজেন এবং পঁচনশীল বিভিন্ন ধরনের পণ্য রয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে আটকে থাকা পণ্য পচে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।

বেনাপোল ট্রাক ইউনিয়ন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন জানান, দাবি মানা না হলে ধর্মঘট চলবে। কোনো শ্রমিককে জেলে রেখে অন্য শ্রমিকরা গাড়ি চালাবেন না।

// ০১-০৩-২০১৭ //