27 মে 2017

কুষ্টিয়ায় জেএমবি সদস্য সালাউদ্দিনের আত্মসমর্পণ

161215-khustia-jmbখুলনানিউজ.কম:: কুষ্টিয়ায় সালাউদ্দিন আহমেদ ওরফে সুজন (৩৪) নামে এক জেএমবি সদস্য র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। জঙ্গি তৎপরতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় র‌্যাব তাকে পাঁচ লাখ টাকার অনুদান প্রদান করে। বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় কুষ্টিয়া র‌্যাব-১২ কার্যালয়ে

এক সংবাদ সম্মেলনে আত্মসমর্পণ করা ওই জেএমবি সদস্যকে হাজির করা হয়। সালাউদ্দিন আহমেদ  রাজশাহীর বাঘা উপজেলার দাদপুর গ্রামের আবদুল হালিম মোল্লার ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব)-১২ এর কোম্পানি কমান্ডার  অতিরিক্ত ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘সালাউদ্দীন দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে।

পরবর্তীতে কৃষি কাজ এবং নিজ এলাকায় মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহনের কাজ করতেন। পারিবারিকভাবে তিনি ছোট বেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসন এবং নিয়মকানুনের মধ্যে বড় হন। পারিবারিকভাবে তিনি হানাফি সম্প্রদায়ের নিয়মকানুন মেনে চললেও মাঝে কিছুদিন আলহে-হাদিস অনুসরণ করেন।’

অতিরিক্ত ডিআইজি শাহাবুদ্দিন খান আরও  বলেন, ‘২০১৫ সালের মার্চ মাসে সালাউদ্দিন তার শ্বশুর বাড়ি এলাকায় খাজানগরস্থ সুজন রাইচ মিলে ম্যানেজার পদে যোগদান করেন। রাইচ মিলে চাকরি করার সময়  উক্ত এলাকার আজিজুল, সাইজুদ্দীন, সাইফুল, জয়নাল সহ কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তাদের সঙ্গে চলাফেরার সূত্র ধরে সালাউদ্দিন  খাজানগরের বিভিন্ন মসজিদে যেতে থাকেন এবং ধর্মীয় বিষয়াদি নিয়ে আলাপ আলোচনা করতেন। এভাবে ২০১৫ সালের মে মাসে তারা একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি জানান, ‘স্থানীয়  আজিজুলদের পারিবারিক মাদ্রাসায় তারা সাপ্তাহিক মিটিং করতেন। সেখানে তারা  মুফতি জসিম উদ্দীন রহমানীসহ বিভিন্ন আলেম উলামাদের জিহাদি বক্তব্য পেনড্রাই ও মেমোরি কার্ডে আদান প্রদান করতেন। সালাউদ্দিন এসব বক্তব্য শুনে উদ্ভুদ্ধ হন এবং তার মধ্যে জিহাদি মনোভাবের সৃষ্টি হয়। এভাবে ৪/৫ মাস চলার পর আজিজুলসহ অন্যরা সালাউদ্দিনকে ধর্মীয় উগ্রপন্থার মাধ্যমে জিহাদের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।’

তিনি বলেন, ‘এছাড়াও দেশের প্রচলিত আইনের শাসনের অব্যবস্থাপনার কথা বলে সালাউদ্দিনকে তারা জিহাদের পথে আসার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা নিজেদেরকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং জঙ্গিবাদের মাধ্যমে যেকোনও ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে বলেন। প্রাথমিকভাবে জঙ্গি তথা উগ্রপন্থায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে সালাউদ্দিন কিছুদিন এদের সঙ্গে চলাফেরা করেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়,  পরবর্তীতে আজিজুল, সাইজুদ্দীন, জয়নালসহ বাকিরা যখন সালাউদ্দিনকে চূড়ান্তভাবে জিহাদে অংশ নিয়ে মানুষ হত্যার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতে  ক্রমাগত চাপ দিতে থাকেন, তখন তিনি ভিত সন্ত্রস্থ হয়ে পড়েন  এবং তার জমানো টাকা নিয়ে সমিতি থেকে বেরিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে তিনি তার অন্যান্য সহযোগিদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে নিজেকে খানিকটা আড়াল করে রাখার চেষ্টা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২০ মে কুষ্টিয়াতে জঙ্গি হামলার মাধ্যমে ডা. সানাউর রহমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ নৃশংস জঙ্গি হামলাসহ সারা দেশের অন্যান্য জঙ্গি হামলা বৃদ্ধি পেলে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী  “জিরো টলারেন্স” নীতি অবলম্বন করে এবং জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু হয়। এ সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত জঙ্গি হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রায় সবাইকে চিহ্নিত করা হয় এবং  আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে আটক  করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়। এতে সালাউদ্দিন ভিত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন এবং কুষ্টিয়া থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেন।

এসময় সরকার জঙ্গিরা আত্মসমর্পণ  করলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে বলে ঘোষণা দেয়। সরকারের এই ঘোষণায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে সালাউদ্দিন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে আসার লক্ষ্যে র‌্যাবের কাছে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
// ১৫-১২-২০১৬ //