27 মে 2017

কুষ্টিয়ায় লালন স্মরণ উৎসব শুরু আজ

170311-lalonখুলনানিউজ.কম:: কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র তিন দিনব্যাপী স্মরণ উৎসব আজ শনিবার থেকে শুরু হবে। স্মরণ উৎসবে আলোচনা সভা, লালন মেলা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া

জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং লালন একাডেমীর আয়োজনে এই স্মরণ উৎসব চলবে তিন দিন। অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যে লালন একাডেমির সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ছেঁউড়িয়া আঁখড়াবাড়ি লালন মাজারকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. জহির রায়হান সভাপতিত্ব করবেন।

এতে  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।

আলোচনা শেষে দ্বিতীয় পর্বে লালন মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হবে লালন সঙ্গীত। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পীবৃন্দসহ লালন একাডেমীর শিল্পিরা।এছাড়া স্মরণোৎসব উপলক্ষে কালী নদীর পাড়ঘেঁষে প্রতিবছরের মত এবারও বসছে জাঁকজমকপূর্ণ বিশাল গ্রামীণ মেলা।

স্মরণোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে থাকছে র‌্যাব ও সাদা পোষাকের গোয়েন্দা পুলিশ।

উৎসবে লালনের জীবনকর্ম, জাতহীন মানবদর্শন ও চিন্তা-চেতনার আদর্শিক বিষয়গুলো আলোচনা হবে।

লালন গবেষক ফকির হৃদয় সাঁই বলেন, ‘সাঁইজির যে দর্শন ও তার গভীরতা, সাঁইজিকে লালন করার যে মনোবাসনা শুধু বাংলা ভাষাভাষী নয়, সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে আজ তা ব্যাপক একটি বিষয়।

কুষ্টিয়া শহরের কোল ঘেঁষে কুমারখালী উপজেলার কালীগঙ্গা নদী। এ নদীর তীরেই ছেঁউড়িয়ার লালন সমাধি। বাংলা ১২৯৭'র পয়লা কার্তিক ও ইংরেজী ১৭ অক্টোবর ১৮৯০ সালে এখানেই  লালন শাহ'র শেষ শয্যা রচিত হয়।

এরপর থেকে এ এলাকায় তার স্মরণোৎসব পালিত হয়ে আসছে। লালন গবেষকদের মতে, বাউল সাধক ফকির লালন শাহর জীবদ্দশায় দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে পালন করা হতো দোল উৎসব। আর দোলপূর্ণিমাকে ঘিরেই বসতো সাধু সংঘ। লালনের সেই স্মৃতির ধারাবাহিকতায় লালন একাডেমীও প্রতিবছর এ উৎসবটিকে লালন স্মরণোৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

তবে লালন অনুসারীরা দিনটিকে 'দোলপূর্ণিমা' উৎসব হিসাবেই পালন করে থাকেন। সাধুদের মতে, লালন অনুসারীরা দোলপূর্ণিমার এ রাতটির জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন। সাঁইজির রীতি অনুসারে দোলপূর্ণিমার রাতের বিকেলে অধিবাসের মধ্য দিয়ে ২৪ ঘণ্টার দোলসঙ্গ শুরু হয়।

// ১১-০৩-২০১৭ //