28 ফেব্রুয়ারি 2017

আগামীকাল মাগুরায় উপ-নির্বাচন ৯৪,এর কলঙ্কিত স্মৃতি মুছতে চায় প্রশাসনের

খুলনানিউজ.কম:: আগামীকাল শনিবার মাগুরা-১ আসনের উপ-নির্বাচন। এ উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকল প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তৎকালীন বিএনপি সরকারের শাসনামলে ১৯৯৪ সালের উপ-নির্বাচনের কলঙ্কিত অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেই লক্ষ্য নিয়েই প্রশাসনের পক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যেই যারা তাদের রুটিন ওয়ার্ক শুরু করে দিয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। মাগুরা-১ আসনের চারবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ডাক্তার সিরাজুল আকবরের মৃত্যুর কারণেই এ আসনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উপ-নির্বাচন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে মেজর জেনারেল (অব:) এটিএম আবদুল ওয়াহহাবকে।

অন্যদিকে বিএনপি-জামাত বা জাতীয় পার্টির কোন প্রার্থী নির্বাচনে না থাকলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একই দলের প্রার্থী বিগত জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তপন কুমার রায়। অপরদিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বিএনএফ এর একেএম মুতাসিম বিল্লাহ রিফাত এবং এনপিপি’র কাজি তৌহিদুল আলম।

এই দুই প্রার্থীর প্রচারণা কেবল মাইক এবং পোস্টারের মধ্যে সিমাবদ্ধ থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী। ভোটার জরিপে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেনা কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবদুল ওয়াহহাব এগিয়ে থাকলেও অতিত অভিজ্ঞতার কারণেই জেলা আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নিয়মিত কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দলীয় কর্মীদের অভিমত, এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী তপন কুমার রায় বিগত পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরোধিতা করে নির্বাচন করেন। সে নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে তপন কুমার রায় তৃতীয় হলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থী খুরশিদ হায়দার টুটুলকে পরাজিত করতে তার বিরোধিতাই যথেষ্ট ছিল।

যে কারণে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা মাগুরা পৌরসভাটি বিএনপির দখলে চলে যায়। অতিতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই মাগুরায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিট নির্বাচনটিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে জেলায় বিএনপি জামাতের রাজনৈতিক ভিত্তি দূর্বল হয়ে পড়ার সুযোগে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এবং প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারণায় জামাতের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিএনপি-জামাতের সক্রিয় কর্মীরাও অংশ নেবার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

যে বিষয়টিকে দলের পক্ষ থেকে উপেক্ষা করা না গেলেও প্রশাসন এই বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি কবির মুরাদ বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির কোন মাথা ব্যথা নেই।

তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কেউ কেউ কোন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে পারে সেটি একান্ত তার নিজস্ব বিষয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিগত ১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতাসিন থাকা অবস্থায় মাগুরা-২ আসনের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ঘটনা ঘটে।

যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সে সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি উত্থাপিত হয়। যে কারণে বিশেষ কোন গোষ্ঠি মাগুরার এই উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোলা পানিতে শিকারের সুযোগ না পায় সে জন্য সরকার এবং সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সতর্কাবস্থা নেয়া হয়েছে বলের প্রশাসনের বিভিন্ন সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলি ভুইয়া, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুল ইসলাম এবং র‌্যাব-৬ এর পক্ষ থেকে পৃথক পৃথক সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচন অবাদ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু করবার বিষয়ে তাদের দৃঢ়তার কথা প্রকাশ করেছেন। সকল প্রকার দুষ্টু চক্রকে প্রতিহত করতে তাদের টিমগুলো ইতোমধ্যেই ব্যপক প্রস্তুতি নিয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে আসনের মোট ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৫টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় নিয়ে তারা নিজেদের নজরদারি জোরদার করেছে। ইতোমধ্যে বিজিবির ১৭৬ জন, র‌্যাবের ২১৪ জন এবং পুলিশের ২০৩১ জন সদস্যকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া যৌথ বাহিনীর ৯টি স্পেশাল টিম, ৮টি স্টাইকিং ফোর্স এবং ৪টি ভ্রাম্যমান আদালত অবাধ নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে।

তবে এই উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও ভোটার জরীপে নির্বাচনের বিষয়ে তাদের অধিক অনাগ্রহ দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুন্ডু বলেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রচ- তাবদাহ চলছে। অধিকাংশ মানুষই ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। যে কারণে নির্বাচনের দিনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি কম দেখা যেতে পারে। তবে ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে ব্যাপক জন সংযোগ করা হয়েছে।

এদিকে চুরানব্বইয়ের কলঙ্কিত নির্বাচনের স্মৃতি মুছে ফেলবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই উপ-নির্বাচনের জন্য নিয়োগকৃত রিটার্নিং অফিসার খুলনা বিভাগীয় নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতার মাধ্যমেই মাগুরায় একটি অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

// অরুন শীল মাগুরা: ২৯-০৫-২০১৫ //