29 মে 2017

চালু হয়নি যশোর-মাগুরা মহাসড়ক

170214-Maguraখুলনানিউজ.কম:: যশোর-মাগুরা মহাসড়কের মাগুরার শালিখায় সীমাখালী ব্রিজ (বেইলি ব্রিজ) ভেঙে পড়ার এক দিন পার হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এতে গুরুত্বপূর্ণ ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে,

ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজের পাশে চিত্রা নদীর ওপর স্থানীয় লোকজন বাশের সাঁকো ও নৌকায় পারাপারের ব্যবস্থা করেছে। পারাপারে মাথাপিছু তারা ১০ টাকা করে আদায় করছেন। নিরুপায় হয়ে টাকা দিয়ে চিত্রা নদী পার হচ্ছেন শত শত নারী-শিশুসহ লোকজন।

170214-Magura-brigerস্থানীয়রা জানায়, অতীতে মাগুরা থেকে যশোর আসা-যাওয়ার জন্য ঝিনাইদহ হয়ে যেতে হতো। ব্রিজটি নির্মিত হওয়ার পর মাগুরা থেকে যশোর যাওয়ার দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার কমে যায়। ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার কিংবা বিকল্প ব্যবস্থা না হলে অতীতের মতো এ জেলার মানুষকে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঝিনাইদহ হয়ে যেতে হবে।

সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৩০ টন ওজনের পাথরবোঝাই দুটি ট্রাক ও একটি কাভার্ড ভ্যান নিয়ে প্রায় ২০ ফুট নিচে চিত্রা নদীতে ভেঙে পড়ে ৫০ মিটার লম্বা বেইলি ব্রিজটি। অতিরিক্ত ওজনের কারণেই ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন। ভেঙে পড়ার সময় ব্রিজের ওপর যাত্রীবাহী বাস না থাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে নির্মিত এ ব্রিজটি দীর্ঘদিন কোনো রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। ব্যস্ত এই মহাসড়কে রাতদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। বাইরে থেকে ব্রিজটির খারাপ অবস্থা বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ব্রিজটির ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ টন ওজনের যানবাহন পারাপারের কথা থাকলেও তদারকি না থাকায় চালকরা তা মানতেন না।

মহাসড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বেনাপোল, ঢাকা-সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ রুটের যানবাহনকে ঝিনাইদহ ও নড়াইল হয়ে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত ওজন বহন করতে না পেরেই ব্রিজটি ভেঙে গেছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতা চালিয়েছে। আবার যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। পরে উদ্ধারকারী দল এলে ট্রাকগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান জানান, ব্রিজটির বিভিন্ন স্থানে লোহার নাটে জং ধরে গিয়েছিল। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজনের দুটি গাড়ি পরপর ব্রিজে ওঠায় ভার সহ্য করতে না পেরে পুরো ব্রিজটিই ভেঙে পড়ে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মুহ. মাহবুবর রহমান জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার কারণ জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
// ১৪-০২-২০১৭ //