26 মে 2017

মেহেরপুরে লিচুর ফলন বিপর্যয়

খুলনানিউজ.কম:: কয়েকদিনের টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে মেহেরপুর জেলায় এবার লিচুর ফলন বিপর্যয় ঘটেছে। খরা ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে এবার গাছের লিচু শুকিয়ে ফেটে ও ঝড়ে যাচ্ছে। এসব লিচু বাজারজাত করতে গিয়ে চাষীরা খরিদ্দার ও দাম পাচ্ছেনা। ফলে লোকসানের মুখে পড়েছে চাষী ও ব্যবসায়ীরা।

মধুমাসের রসালো ফল আম ও লিচুর জেলা মেহেরপুর। এবার আমের সু-খবর হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে লিচু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষীরা। টানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে এবার লোকসানের মুখে লিচু ব্যাবসায়ী ও চাষীরা। কৃষি বিভাগের হিসেবে মেহেরপুর জেলায় লিচুর বাগান আছে ৬০০ হেক্টর জমিতে। প্রথম দিকে আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে লিচু ধরেছিল ভালো।

কিন্ত সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায়, খরার কবলে পড়ে লিচু। এই পরিস্থিতিতে প্রচণ্ড রোদে গাছের লিচুতে দাগ ধরে শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। অন্যদিকে ঝড়ে অনেক লিচুর গাছ ভেঙ্গে পড়ে গেছে। সবমিলিয়ে লিচু বাজারজাত করতে খদ্দের ও দাম পাচ্ছেন না ব্যবসায়ী ও চাষীরা। লিচু চাষীদের অভিযোগ, এবার লিচুতে খরচের অর্ধেক টাকাও উঠবে না। গতবছরের তুলনায় এবার অর্ধেকও লিচু আসেনি গাছগুলোতে। বাজারে দাম না থাকায় বেশি লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

বাগান মালিকরা জানান, গতবারের তুলনায় এবছর অনেক কম পরিমানে লিচু এসেছে। বাজারে দামও কম। ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে লিচুর। এবছরে লিচুতে আমরা লোকসান গুনছি। যে টাকায় বাগান কিনা আছে সেই টাকাও উঠবে না এবার। সদর উপজেলার বন্দর গ্রামের লিচু ব্যাবসায়ী আলেফ জানান, এই বছরে আমার কয়েকটি লিচু বাগান কেনা ছিল। কিন্তু ঝড়ের কারণে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রতি বাগানে ৫০-৬০ হাজার টাকা করে লোকসান হবে। এমন কি জেলার বাইরে নিয়েও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছেনা।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপ-পরিচালক, এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত বছরের তুলনায় এবছরে লিচুর কম এসেছে। ঝড়ে কিছুটা ক্ষতি হলেও বাজার দর ভালো পেলে চাষীরা লাভবান হতো। এছাড়া সঠিক সময়ে লিচুর পরির্চচা করে যদি চাষীরা লিচু বাজারজাত করে তাহলে দাম ভালো পাবে এবং লিচু সুস্বাদ্ধ হিসেবে ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে পারবে। এছাড়াও কৃষি বিভাগ চাষীদের এই বিপর্যয় মোকাবেলায় বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।

// ১৩-০৫-২০১৭ //