01 মে 2017

উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত কালিগঞ্জের হরিশপুরের মানুষ

খুলনানিউজ.কম:: কালিগঞ্জের ভাড়াশিমলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম হরিশপুর উন্নয়ন বঞ্চিত হাজার হাজার মানুষ সীমাহীণ কষ্টে জীবন যাপন করছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ৪৩ বছরেও কাঙ্খিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি এই গ্রামে। বর্তমানে সারা দেশ জুড়ে চলছে যোগাযোগ প্রযুক্তির অবাঁধ যাতায়াত। কিন্তু এ গ্রামে গেলে বিষয়টি বুঝা যায় না। যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকায় গ্রামে

দারিদ্রতা আর অনুন্নয়ন তাদের লেগেই আছে। দেশের উন্নয়নের মূল শ্রোতধারার সাথে তাল মিলিয়ে চলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত এলাকার মানুষ। মৌলিক চাহিদার মধ্যে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষা থেকে রয়েছে বঞ্চিত। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের উন্নয়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির একটুও বাস্তবায়ন হয়নি নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় পত্র-পত্রিকায় লেখা-লেখি হলেও আজও পর্যন্ত তার কোন ফল আসেনি। হরিশপুর গ্রামের শিক্ষক আলাউদ্দীন সরদার, রাজু আহমেদ, রমজান আলি কারিকর, নজরুল ইসলাম, রেজাউল ইসলাম, আনছার আলী, আব্দুর রহিমসহ অনেকে জানান, ১৮১০ সালে জমিদার বাবু সাদগারের আমলে সীমান্ত নদী ইছামতি পূর্বংশে পলি পড়ে বাগান সৃষ্টি হয়। এ সময় জমিদার বাবু সাদগার তার অধীনস্থ ওই জায়গাটি প্রজাস্বত্ব বিলি করে ৭০ একর জমিতে প্রজাদের বসবাসের উপযোগী করে তোলে। এছাড়াও তিনি য়াতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তা, গোসলের জন্য পুকুর ও খাবার পানির জন্য আলাদা আরো একটি পুকুরসহ গ্রামের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ করে ছিলেন। তার পর থেকে আজ পর্যন্ত গ্রামের উন্নয়নে কোন প্রকার কাজ করা হয়নি। এ গ্রামের পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে যথেষ্ট উন্নয়ন সাধিত হলেও এ গ্রামের ক্ষেত্রে উন্নয়নের বিন্দু মাত্র ছোয়া লাগেনি। খাবার পানির জন্য কোন নলকুপ বসানো হয়নি। বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহের জন্য গ্রাম থেকে দেড় কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেটে যেতে হয়। শুকনো মৌসুমে তা সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে একেবারে অসম্ভব। এছাড়াও গ্রামের কাঁচা রাস্তা (৬৫০ মিটার) সংস্কারের অভাবে হাজার হাজার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের প্রায় পুরো সময়জুড়ে রাস্তাটি পানি-কাদায় একাকার থাকে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির বেহাল দশা চললেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। এ রাস্তা দিয়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ হাজার হাজার মানুষ চলাচল ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনানেয়া করে থাকে। তারা আরো জানান, দীর্ঘদিনের এ সমস্য সমাধানের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। বর্ষাকালে এই গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ বেকার হয়ে পড়ে। বিকল্প কর্মস্থান নেই এলাকায়। তখন তাদেরকে অভাব-অনটনের মোকাবেলা করতে হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, গ্রামের মানুষদের মাঝে বিরাজ করছে দারিদ্র্যতার চাপ। বর্ষাকালে প্রকট আকার ধারণ করে বিশুদ্ধ পানির। তখন গ্রামের মানুষ আক্রান্ত হয় নানা ধরনের রোগ ব্যাধিতে। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও তেমন ভালো নয়। এ ব্যাপারে সচেতন করতে কোন সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা যায় না বলেও জানা গেছে। সামনে বর্ষা মৌসুম তাই এই মুহুর্তে যদি গ্রামের প্রধান সড়ক পাকা করন ও বাকি রাস্তা সংস্কার না করা হয় তাহলে সমস্যার শেষ নেই। এলাকাবাসী বর্ষা মৌসুমের আগে গ্রামের প্রধান সড়ক পাকা করনের জোর দাবী জানিয়েছে।

// আহাদুজ্জামান আহাদ, কালিগঞ্জ, সাতক্ষীরা: ২৩-০৫-২০১৫ //