24 ফেব্রুয়ারি 2017

সাতক্ষীরা-পঞ্চগড়ে চিংড়ি চাষে ব্যাপক সাফল্য

150604-Chingreখুলনানিউজ.কম:: সাতক্ষীরার শ্যামনগরের সফিকুর রহমান চৌধুরী থাইল্যান্ড থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উপজেলার নওয়াবেকী এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি লিজ নেন। এরপর সেখানে আধানিবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে প্রতিদিন

প্রায় ২ হাজার ৫০০ কেজি বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আধানিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষে এনে দিয়েছে আশাতীত সাফল্য। এ পদ্ধতিতে হেক্টরপ্রতি ৩০০ কেজির স্থলে প্রায় ১০ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করে রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন রেডিয়েন্ট শ্রীম্প কালচারের মালিক সফিকুর রহমান চৌধুরী। চলতি বছর তিনি শ্যামনগরে পরীক্ষামূলকভাবে আধানিবিড় পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ির চাষ করেন। এতে ব্যাপক সফলতা আসে।

সাধারণ পদ্ধতির তুলনায় অনেক গুণ বেশি উৎপাদন দেখে অন্য চিংড়ি চাষিরাও অবাক হয়ে যান। অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের এমন রেকর্ড নজিরবিহীন।

শ্যামনগরের রেডিয়েন্ট শ্রীম্প কালচারের সফিকুর রহমান চৌধুরী জানান, ১৪ বছর আগে থেকে তিনি শ্যামনগরে উন্নত প্রযুক্তির বাগদা চিংড়ি পোনার হ্যাচারি স্থাপন করেন। পিসিআর ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে পোনা উৎপাদন করায় তার পোনার চাহিদাও বেশ। উন্নতমানের এ বাগদা পোনা দিয়ে তিনি গত বছর নভেম্বর মাসে নওয়াবেকী বাজার এলাকায় ৩০০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে সেখানে ৬০টি পুকুর খনন করেন।

প্রতিটি পুকুরে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ কেজি চিংড়ি উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিটি পুকুরে বছরে দুইবার মাছ ধরা যাবে।অর্থাৎ প্রতিটি পুকুর থেকে বছরে প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের বাগদা চিংড়ি উৎপাদিত হবে। আর প্রতিটি পুকুরে খরচ হবে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা। অল্প জমিতে অধিক মাছ উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রযুক্তি এটি।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অধিদফতরের হিসাবমতে, এ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ির চাষ হয়। এ বছর ২২ হাজার মেট্রিক টন চিংড়ি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণ চাষ পদ্ধতির চেয়ে আধানিবিড় পদ্ধতি ব্যবহার করে হেক্টরপ্রতি বছরে (দুই চক্রে) প্রায় ১০ হাজার কেজি চিংড়ি উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এ চাষ পদ্ধতিতে বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ যেখানে নেই সেখানে ইঞ্জিনচালিত মেশিনের সাহায্যে চাষ করা হয়ে থাকে।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবদুল অদুদ জানান, অল্প জমিতে অধিক মুনাফা লাভের জন্য এ প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। এরই মধ্যে আধানিবিড় পদ্ধতিকে চাষি পর্যায় জনপ্রিয় করতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে। নওয়াবেকী শ্রীম্প কালচারের দেখাদেখি এলাকার অনেক চিংড়ি চাষি এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হয়েছেন।

পঞ্চগড়ের মৎস্যচাষিরা এই প্রথমবারের মতো মিঠাপানির পুকুরে কার্প ও গলদা চিংড়ির মিশ্র চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমানে জেলার ৪০টি পুকুরে গলদা চিংড়ির চাষ হচ্ছে। মৎস্যচাষি সূত্রে জানা গেছে, তাঁরা জেলার বোদা উপজেলা সদরের হ্যাচারি ও পার্বতীপুর হ্যাচারি থেকে পোনা সংগ্রহ করে মিঠা পানিতে গলদা চিংড়ির চাষ শুরু করেন।

চিংড়ি চাষে বিশেষ কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। অন্যান্য কার্পজাতীয় মাছের সঙ্গে চিংড়ি সহজে মিশ্রভাবে চাষ করা যায় এবং খাদ্যের ক্ষেত্রেও বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। বাজারে পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় অন্যান্য মাছের তুলনায় পাঁচ-ছয় গুণ বেশি দাম পাওয়া যায়।

জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তীরনইহাট ইউনিয়নের চিংড়িচাষি সরদার আবতাব উদ্দীন বলেন, "পরীক্ষামূলকভাবে আমার পুকুরে গলদা চিংড়ির চাষ শুরু করি। মিঠা পানির পুকুরে চিংড়ির চাষ করা সম্ভব। বর্তমানে আমি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে একাধিক পুকুরে এই মাছ চাষ করছি। মাছের বৃদ্ধি অনেক ভালো। ইতিমধ্যে ডিম দেওয়াও শুরু হয়েছে। বাজারসহ জেলার বিভিন্ন হোটেলে আমার পুকুরের চিংড়ি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন আগ্রহী ক্রেতারা।"

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রায় ৪০টি পুকুরে গলদা চিংড়ির চাষ করা হচ্ছে। অনেক পুকুরের চিংড়ি বর্তমানে ডিম দেওয়া শুরু করেছে। গলদা চিংড়ি প্রায় সাড়া বছর প্রজননে সক্ষম হলেও জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসই গলদার প্রধান প্রজননের কাল। গলদা চিংড়ি পাঁচ-ছয় মাসের মধ্যেই পরিপক্ব হয়ে একটি চিংড়ি ২০-৫০ হাজার ডিম দেয়।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা আবদুল লতিফ বলেন, "গত বছর পরীক্ষামুলকভাবে কয়েকজন চাষিকে চিংড়ির পোনা দিয়ে এর চাষের সম্ভাবনা যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, ছয় মাস বয়সী চিংড়িগুলো তরতাজা হয়ে বেড়ে উঠেছে। এদের গড় ওজন ১২০ থেকে ১৪০ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে। এই সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে জেলার ২৫ জন চাষিকে চিংড়ি চাষে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

// ০৪-০৬-২০১৫ //