24 মে 2017

নিষিদ্ধ নন শাকিব খান!

খুলনানিউজ.কম:: ঢাকাই ছবির নাম্বার ওয়ান খ্যাত চিত্রনায়ক শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত দুইদিন ধরে চলচ্চিত্রাঙ্গন সহ মিডিয়ার সর্বত্র এ আলোচনাই গল্পের খোরাক যোগাচ্ছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, গ্রাহক সংস্থা, ফিল্ম এডিটরস গিল্ড, ফাইট ডিরেক্টর অ্যাসোসিয়েশন, নৃত্য

পরিচালক সমিতি, স্থিরচিত্র গ্রাহক সমিতি, সহকারি চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতিসহ আরও কয়েকটি সংগঠন শাকিব খানকে নিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। ২৯ এপ্রিল পরিচালক সমিতিতে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকার পরিচালকদের বিপক্ষে যাওয়াতেই বিষয়টিকে ইস্যু বানিয়ে শাকিব খানকে উকিল নোটিশ অতঃপর তার সঙ্গে সমিতির সদস্যদের কাজ না করার ঘোষণা দেয় পরিচালক সমিতি।

শুরুতে পরিচালক সমিতি এ কার্যক্রমের সঙ্গে এককভাবে থাকলেও পরবর্তীতে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট এফডিসিকেন্দ্রিক অন্যান্য সংগঠনও এর সঙ্গে যুক্ত হয়। তবে তাদের সঙ্গে প্রযোজক সমিতির কোনো নেতৃবৃন্দ কিংবা শিল্পী সমিতির কেউ ছিলেন না।

গণমাধ্যমসহ মিডিয়াঙ্গনে যখন শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হচ্ছে ঠিক তখন খোদ পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি যুগান্তরকে বলেছেন, ‘শাকিব খানকে নিষিদ্ধ করা হয়নি। এটাকে নিষিদ্ধ বললে ভুল হবে।’

বিষয়টির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, আমরা বেশ কয়েকটি সংগঠন বিতর্কিত বিষয়টির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাকে নিয়ে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছি। এর বাইরে কিছু নয়। মহাসচিবের মন্তব্যের রেশ ধরেই বলা যায়, তাহলে ‘শাকিব নিষিদ্ধ’ কথাটি কেন বলা হচ্ছে?

এদিকে বয়কট ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয় শাকিব খানের প্রতি নির্মাতাদের নানা অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার পালা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে একেকজন নির্মাতা যে যার মতো শাকিব খানকে নিয়ে এলোমেলো কথা বলে যাচ্ছেন।

শাকিব খান নির্মাতাদের ‘বেকার’ বলেছেন। অন্যদিকে প্রকারান্তরে কয়েকজন সিনিয়র নির্মাতা শাকিব খানকে স্টুপিড, অকৃতজ্ঞ, তার ছবি দেশের প্রেক্ষাগৃহে চলতে দেয়া হবে না ইত্যাদি মন্তব্য করেছেন।

কিছু কিছু সিনিয়র পরিচালকের এমন আচরণে স্বয়ং পরিচালক সমিতির অনেক সদস্যই বিরক্ত হয়ে পড়ছেন।

এ প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি না করে, দ্রুত উভয় পক্ষ একসঙ্গে বসে সমাধান করে ফেলা উচিত। এটা সবার জন্য ভালো হবে। তবে শাকিবেরও পরিচালকদের এভাবে বলা উচিত হয়নি, সবার সময় এক রকম থাকে না। কাজ কমে যেতে পারে, তাই বলে এমন কথা বললে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। এমনটি বলে শাকিব ভুল করেছে। পরিচালকদেরও ভাবা উচিত, শাকিব আমাদের ছেলে। আর শাকিবেরও ভাবা উচিত, নির্মাতারা আমাদেরই লোক। আমরা যে যাই বলি না কেন, শাকিব তো সিনেমা ছেড়ে দেবে না। তার হাতে অনেক সিনেমা রয়েছে। শাকিবের কাজ করার ক্ষমতাও আছে। সে কি কাজ বন্ধ করে দেবে? উভয় পক্ষের অন্তর বড় একটা জায়গায় আসা উচিত। বোঝা উচিত, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এটা মনের মধ্যে ধরে রাখা ঠিক হবে না। মিটমাট করে ফেলা উচিত। তা না হলে এতে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হতে পারে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমিতির অনেক পরিচালকও শাকিব খানের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেছেন। তারা জানিয়েছেন, শাকিব খান শুরুতে পরিচালকদের নিয়ে যা বলেছেন তা মোটেও ঠিক হয়নি। এটা অবশ্যই অপরাধ। তার বিপরীতে পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে এটাও ঠিক নয়। বিষয়টি নিয়ে সুন্দর সমাধানে যাওয়া সম্ভব ছিল।

এদিকে বয়কটের ঘোষণায় শাকিব খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কী এমন হয়েছে যে এটা নিয়ে এতকিছু করতে হবে? তাছাড়া যারা আমাকে বয়কট করছে তাদের সঙ্গে আমার কাজ আছে কী না সেটাও দেখতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো গন্ডিতে সিনেমাকে আটকে রাখলে হবে না। আমাদের চিন্তা-ভাবনা মন-মানসিকতা আরও উদার করতে হবে।’

এদিকে শাকিব খানের পক্ষে পরিচালকদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। তিনি বলেন, ‘পরিচালক সমিতি চাইলে চলচ্চিত্রের উন্নতি করতে পারে। কিন্তু তারা কোনো কাজ না করে একজন আরেকজনের পেছনে লাগছে। শাকিব এখন বাংলাদেশের এক নম্বর নায়ক। কেউ যদি দাবি করে শাকিব খানকে তিনি তৈরি করেছেন তাহলে শাকিবও বলতে পারেন, তিনি ওই পরিচালককে হিট ছবি দিয়েছেন! আমাদের দেশের মানুষ কখনোই একজনকে ওপরে উঠতে দেয় না, কেউ উঠতে চাইলে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হয়। পরিচালক সমিতির কারো সঙ্গে দ্বন্দ্ব হলেই তারা তাকে শত্রু  বানিয়ে ফেলে। এটা ঠিক নয়।’

তবে বাপ্পার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার ও মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। তিনি বলেন, ‘বাপ্পারাজ শুধু অভিনেতা নন, তিনি পরিচালকও। একজন পরিচালক হয়ে তিনি কিভাবে আমাদের ছোট করেন! তার কাছ  থেকে আমরা এটা আশা করিনি। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

বাপ্পারাজের বিরুদ্ধে নিন্দা জানালেও তার বিরুদ্ধে কোনো নোটিশ কিংবা নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি পরিচালক সমিতি। একই কথার জন্য দুইজন শিল্পীর প্রতি পরিচালক সমিতির দুইরকম আচরণেরও সমালোচনা করেছেন অনেকে।

// ৩০-০৪-২০১৭ //