23 জুন 2017

কীভাবে বুঝবেন জীবনসঙ্গী পরকীয়া করছেন কি-না

150601-porukriaখুলনানিউজ.কম:: পরকীয়া! এই শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত। সমাজের এ বিষফোড়া নিয়ে রচিত হয়েছে বহুমাত্রিক সাহিত্য। বাংলা সাহিত্যের আদি নির্দশন চর্যাপদ থেকে শুরু করে আধুনিককালের অসংখ্য কবিতা, গল্প ও উপন্যাসের অনুষঙ্গ হয়েছে

এই পরকীয়া। একটি সুন্দর সুখের সংসারে দানা বাধতে পাড়ে বিষবৃক্ষের মতো। কেউ বা নিজের ইচ্ছায় আবার কেউ বা নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েন বিবাহবহির্ভূত এ অনৈতিক সম্পর্কে। পছন্দ মতো জীবনসঙ্গী না পেয়ে বা জীবনসঙ্গীর অবহেলার শিকার হয়ে-যেভাবেই এ সর্ম্পকে জড়ান না কেন, এ সর্ম্পক আপনার জীবনকে বিষিয়ে তুলবে চারিদিক থেকে। কিন্তু কীভাবে বুঝবেন আপনার জীবনসঙ্গী পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়েছেন কি-না? জীবনসঙ্গীর পরকীয়া সম্পর্কে জাড়ানোর কয়েকটি লক্ষণ জেনে নিন-

পরিবারকে কম সময় দেওয়া:

আপনার পরিবার বা আপনাকে যদি আপনার জীবনসঙ্গী অপেক্ষাকৃত কম সময় দেওয়া শুরু করেন, তাহলে এটাকেও পরকীয়া সম্পর্কের একটি লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। খুব ভালো করে আপনার জীবনসঙ্গীর প্রতিদিনের কাজকর্ম লক্ষ্য করুন। যদি বুঝতে পারেন যে আগের চাইতে কম সময় পাচ্ছেন, তাহলে বোঝার চেষ্টা করুন তিনি বাড়তি সময়টা তিনি কীভাবে ব্যয় করছেন। আপনি তাকে সময় দেওয়ার কথা বলে দেখুন।

যৌনসম্পর্কে উদাসীনতা:

আপনার জীবনসঙ্গী যদি প্রতিনিয়তই শারীরিক সম্পর্কেও বিষয়ে নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে তাহলে আপনি এটিকে পরকীয়ার নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। যিনি অন্য কাউকে সময় দিয়ে আপনার প্রতি উদাসীন, তার চলাফেরার ভঙ্গি থেকেই আপনি সব কথা খুব সহজেই অনুমান করে নিতে পারবেন। আপনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে সঙ্গী আগ্রহী নন, অর্থাৎ তার চাহিদাটি পূরণ হচ্ছে অন্য কারো মাধ্যমে। এছাড়াও অভ্যাসবশত যৌন সম্পর্ক করছেন কি-না  সেটিও লক্ষ্য করুন।

মোবাইল বা ইন্টারনেট আসক্তি:

জীবনসঙ্গী মোবাইল বা ইন্টারনেটের পেছনে কতটা সময় ব্যয় করছেন সেদিকে নজর রাখুন। একসঙ্গে বসে থেকে বা কোথাও বেড়াতে গেলে যদি তিনি মোবাইল নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন, মেসেজ বা ইন্টারনেট ব্রাউজিং করেন- তাহলে তা নিশ্চিতভাবে অন্য একটি সম্পর্কেরই ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া দিনের বেশিরভাগ সময়ে তাকে যদি ফোনালাপে ব্যস্ত পাওয়া যায় তাহলেও বিষয়টি লক্ষণীয়।

দেখার কথা বলুন, তাকে নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান, আত্মীয়-স্বজনদের ও পারিবারিক বন্ধুদের সময় দেওয়ার কথা বলুন। যদি তিনি আপনাকে অজুহাত দেখিয়ে না বলেন তাহলে অজুহাতটির সত্যতা যাচাই করুন। আপনার জীবনসঙ্গী যদি বিনাকারণে আপনার পরিবারের নিকট থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করে, তাহলে ধরে নিতে পারেন তিনি পরকীয়ায় লিপ্ত।

কখন বাড়ি ফিরেন:

আপনার জীবনসঙ্গী প্রতিদিনকার রুটিন সম্পর্কে হঠাৎ অতিরিক্ত নজর দিচ্ছেন কি-না অর্থাৎ আপনি কটায় বাড়ি ফিরবেন বা কোন কোন জায়গায় কখন যাবেন এই ধরনের প্রশ্ন করছেন কি-না এসব বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য রাখবেন। তাহলে নিশ্চিত হতে পারেন যে আপনার চোখ এড়িয়ে নিরাপদে সম্পর্ক চালিয়ে যেতেই তার এত জিজ্ঞাসা।

অকারণে রেগে যাওয়া:

খেয়াল করে লক্ষ করুন, আগে যে বিষয়গুলো আপনার সঙ্গী রাগের উদ্রেক করতো না, সেসব বিষয়ে তিনি রেগে যাচ্ছেন কি-না? অথবা কথায় কথায় আপনাদের দাম্পত্য জীবনকে অভিশাপ হিসেবে অভিহিত করছেন কি-না? তার এসব কথার কোনো যুক্তি আছে কিনা তা লক্ষ্য করুন। বিনাকারণে অযৌক্তিক রাগ করা, কিংবা সবসময় খিটখিটে মেজাজ দেখানো পরকীয়ার অন্যতম লক্ষণ।

হঠাৎ সৌন্দর্য সম্পর্কে অতিরিক্ত সচেতনতা:

আপনার জীবনসঙ্গী যদি হঠাৎ নিজের ত্বক, সাজগোজ, শারীরিক গঠন কিংবা পরিহিত পোশাক আশাকের দিকে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে শুরু করেন, তাহলে আপনি একে পরকীয়ার একটি লক্ষণ হিসেবে ধরে নিতে পারেন। এখানে একটি বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া দরকার যে আপনার জীবনসঙ্গী আপনার জন্যই নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করছেন কি-না। কারণ অনেক দম্পতি আছেন যারা দাম্পত্য জীবনে পুনরায় রোমান্স ফিরিয়ে আনতে এই পন্থা বেছে নেন। কিন্তু আপনি এই দ্বিধাবোধের অবসান করতে পারেন নিজেকে কয়েটি প্রশ্ন করে। আর তা হল, আপানার জীবনসঙ্গী কি আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিজেকে উপস্থাপন করছেন? তিনি কি শুধুমাত্র আপনাকে দেখানোর জন্যই বিশেষ পোশাক ও সাজগোজ করেন? আমাকে কেমন দেখাচ্ছে এই ধরনের প্রশ্ন আপনাকে করা হচ্ছে কি-না সেটাও লক্ষ্য করুন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি “না” হয়, তাহলে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার সঙ্গী পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।
// ০১-০৬-২০১৫ //