26 মে 2017

যেসব দেশে এইডস বেশি

170420-HIVখুলনানিউজ.কম:: হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস (এইচআইভি) হচ্ছে, এমন ধরনের ভাইরাস যা মানুষের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল করে এইডস রোগ সৃষ্টি করে। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে এইচআইভি ভাইরাস কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা করা যায়, এইডস এর চূড়ান্ত পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়া থেকে।

তবে শরীরে এই ভাইরাস একবার সংক্রমিত হলে তা কমানো সম্ভব হলেও সম্পূর্ণ দূর করে এখনো সম্ভব নয়।

ভাইরাসটি প্রধানত মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান কোষগুলো যেমন সিডি৪+ কোষগুলোকে আক্রমণ করে। যথাযথ রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এইডস নিয়ন্ত্রণে অপরিহার্য এবং এর কোনো প্রতিকার নেই।

এইচআইভি প্রধাণত যৌনবাহিত রোগ হলেও, এই ভাইরাস রক্তদান এবং জন্ম বা স্তন্যপান করানোর সময়ও পরিবাহিত হতে পারে। এছাড়া আরো কয়েকটি উপায়ে ছড়াতে পারে।

যে দেশগুলোতে এইচআইভি/এইডস এর হার সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ‘দ্য সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্ট বুক’ - এর তথ্যানুসারে জেনে নিন, বিশ্বের কোন কোন দেশগুলোতে এইচআইভি/এইডস এর হার সর্বোচ্চ।

১. সোয়াজিল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ সোয়াজিল্যান্ডে এইচআইভি/এইডস সংক্রমণের হার বিশ্বের সর্বোচ্চ। দেশটির মোট জনসংখ্যার ২৭.৭৩ শতাংশ এই রোগ নিয়ে জীবনযাপন করছে। সোয়াজিল্যান্ডে এই ভাইরাস সংক্রমণের বেশিরভাগ কারণ যৌনমিলনে কনডম কম ব্যবহার, অর্থ বা উপহারের বিনিময়ে যৌন সম্পর্ক এবং যৌন সহিংসতা। এই মহামারীতে নারীরা সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত, ৩১ শতাংশের বেশি নারী এইচআইভি পজেটিভ, পুরুষের মধ্যে ২০ শতাংশ এইচআইভি পজেটিভ। নারীর প্রতি উচ্চ মাত্রায় লিঙ্গ সহিংসতা, বহুবিবাহ এবং বয়স্ক পুরুষদের সঙ্গে বাল্যবিবাহের ঘটনা এই উচ্চতার বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে।

২. বোটসওয়ানা

এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত জনসংখ্যার দিক দিয়ে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বোটসওয়ানা। দেশটির জনসংখ্যার ২৫.১৬ শতাংশ এই রোগ নিয়ে বসবাস করছে। এর মধ্যে নারী যৌনকর্মীদের এইচআইভি সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ। সোয়াজিল্যান্ডের মতোই পুরুষদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্ক নারীরাই এই মহামারীতে বেশি আক্রান্ত। জোর করে বিয়ে এবং লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, উভয় ঘটনাই দেশটিতে নারীদের মরণব্যাধিতে রেখেছে। তবে সাব-সাহারান আফ্রিকার মধ্যে বোটসওয়ানা ইতিমধ্যে এইচআইভি মোকাবেলায় সেরা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

৩. লোসোথো

জনসংখ্যার ২৩.৩৯ শতাংশ এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ লোসোথে বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ এই রোগবাহী দেশ। সংক্রমিত জনসংখ্যার বেশিরভাগই অনগ্রসর ও দরিদ্র গোষ্ঠীর। মূলত নারীসহ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ প্রজন্ম এবং পশুপালক বালক যারা উন্নত কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং যথাযথ চিকিৎসা সেবায় সঙ্গে খুব বেশি সম্পৃক্ত নয়। দেশটিতে মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ সচেতনতা রোগের বিস্তার কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

৪. দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে চতুর্থ সর্বোচ্চ এইচআইভি/এইডস আক্রান্ত দেশ, জনসংখ্যার ১৮.৯২ শতাংশ এই রোগ নিয়ে বসবাস করছে। শিক্ষার অভাব, রোগ সম্পর্কে বিপথে চালিত বিশ্বাস ও যৌন সহিংসতা কারণে দেশটিতে এই উচ্চ হার দেখা দিয়েছে। ৪০ বছরের কম বয়সী নারীরা প্রধানত সংক্রমিত, এছাড়া গর্ভবতী নারীরাও। দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে কালো বর্ণের জনগণ বিশেষ করে আক্রান্ত।

এইচআইভি/এইডস সুস্পষ্টভাবে কমিয়ে আনার লক্ষে প্রচেষ্টা

এইচআইভি সংক্রমণের সর্বোচ্চ হারের সব দেশই জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংক্রমণের হার কমিয়ে আনার লক্ষে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে কিছু পদক্ষেপ হচ্ছে- এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে গণশিক্ষা অন্তর্ভুক্ত, সংক্রমিত ব্যক্তিদের জন্য অ্যানটিরেট্রোভাইরাল থেরাপি, লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে লিঙ্গ সমতা নীতি প্রবর্তন এবং সংক্রমিত মায়ের মাধ্যমে শিশুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতায় সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রম।

বিশ্বে কোন দেশের জনসংখ্যার কত শতাংশ এইচআইভি/এইডস রোগে আক্রান্ত, তার ওপর ভিত্তি করে ২৫টি দেশের র‌্যাংকিং জেনে নিন।

১. সোয়াজিল্যান্ড- মোট জনসংখ্যার ২৭.৭৩ শতাংশ

২. বোটসওয়ানা- মোট জনসংখ্যার ২৫.১৬ শতাংশ

৩. লেসোথো- মোট জনসংখ্যার ২৩.৩৯ শতাংশ

৪. দক্ষিণ আফ্রিকা- মোট জনসংখ্যার ১৮.৯২ শতাংশ

৫. জিম্বাবুয়ে- মোট জনসংখ্যার ১৬.৭৪ শতাংশ

৬. নামিবিয়া- মোট জনসংখ্যার ১৫.৯৭ শতাংশ

৭. জাম্বিয়া- ১২.৩৭ শতাংশ

৮. মোজাম্বিক- ১০.৫৮ শতাংশ

৯. মালাউই- ১০.০৪ শতাংশ

১০. উগান্ডা- ৭.২৫ শতাংশ

১১. ইকুটোরিয়াল গিনি- ৬.১৬ শতাংশ

১২. তাঞ্জানিয়া- ৫.৩৪ শতাংশ

১৩. কেনিয়া- ৫.৩ শতাংশ

১৪. ক্যামেরুন- ৪.৭৭ শতাংশ

১৫. মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র- ৪.২৫ শতাংশ

১৬ গ্যাবন- ৩.৯১ শতাংশ

১৭. গিনি-বিসাউ- ৩.৬৯ শতাংশ

১৮. কোত দিভোয়ার- ৩.৪৬ শতাংশ

১৯. বাহামা- ৩.২২ শতাংশ

২০. নাইজেরিয়া- ৩.১৭ শতাংশ

২১. রুয়ান্ডা- ২.৮২ শতাংশ

২২. কঙ্গো প্রজাতন্ত্র- ২.৭৫ শতাংশ

২৩. দক্ষিণ সুদান- ২.৭১ শতাংশ

২৪. চাদ- ২.৫৩ শতাংশ

২৫. অ্যাঙ্গোলা- ২.৪১ শতাংশ
// ২০-০৪-২০১৭ //