24 ফেব্রুয়ারি 2017

বরের বয়স ১১৭ কনের ২২

150604-marregeখুলনানিউজ.কম:: বরের বয়স ১১৭ কনের বয়স ২২। কনের প্রথম বিয়ে হলেও বরের দ্বিতীয় বিয়ে এটি। প্রথম স্ত্রীর ছেলে ও মেয়ের ঘরের নাতি-নাতনি, তাদের ঘরের পতি, পতির ঘরের সন্তানও দেখেছেন তিনি। তবে অসুস্থতার কারণে তার প্রথম স্ত্রীর মারা যান। আর মৃত্যুকালে সেবা-শুশ্রুষা পাওয়ার আশায় ১১৭ বছর বয়সে আবার বিয়ে

করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নের ফকিরাঘাট গ্রামের বৃদ্ধ হাজী মুক্তল হোসেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় লোকজন জানায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলি ইউনিয়নের ছুফিপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের ২২ বছরের মেয়ে খতিজা বেগমকে এক লাখ টাকা কাবিননামায় দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে ঘরে তোলেছেন মুক্তল হোসেন। সেই থেকে নতুন বউ ও তাকে দেখার জন্য দিনরাত তার বাড়িতে ভীড় করেছে এলাকার উৎসুক নারী-পুরুষরা।

গ্রামবাসীরা জানান, ১১৭ বছরে বিয়ে করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন শিলক ফকিরাঘাট এলাকার মৃত জেয়াব উদ্দিনের ছেলে হাজী মুক্তল হোসেন। ১৯৩২ সালে উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের দৈবকিনন্দন গ্রামের সফুরা খাতুনকে প্রথম স্ত্রী হিসেবে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন তিনি। ১৯৯২ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটে।

প্রথম স্ত্রীর সংসারে তিন ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। বিয়ে করে তারাও হয়েছেন সংসারী। বাবার দ্বিতীয় বিয়েতে বড় মেয়ে লাইলা বেগম, জামাই শামসুল আলম, দুই নাতি আবুল হাশেম ও আবুল কাশেমসহ মোট ৬ জন বরযাত্রী ছিলেন।

হাজী মুক্তল হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, বিয়ে করার মতো শক্তি-সামর্থ আমার আছে, তাই কার উপর নির্ভরশীল না হতে শরিয়ত মতে বিয়ে করলাম। শখের বশে নয়, প্রয়োজনের তাগিদেই বিয়ে করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন বউকে চোখে সুন্দর লেগেছে। পরিবারের সবাই মেনে নিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনরা গিয়েই নতুন বউ ঘরে তুলে এনেছেন।

তিনি বলেন, ১১৭ বছর বয়স হলেও এখনো আমি চশমা ছাড়া কোরআন শরীফ ও পত্রিকা পড়তে পাড়ি। লাঠি ছাড়া চলাফেরা করতে পারি। বর্তমান যুগের যুবকেরা ভোররাতে উঠে ফজরের নামাজ পড়েন না। অথচ আমি প্রতিদিন মসজিদে গিয়ে নিজে আযান দিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করি।

তিনি আরও বলেন, আমার মৃত্যুর পর নিরাপত্তার জন্য তার সম্পত্তির অর্ধেকাংশ নতুন বউয়ের নামে লিখে দিবেন। কারণ আমি জানি, কথায় আছে ‘যখন তোমার কেউ ছিলনা, তখন ছিলাম আমি, এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি’ তা আমি হতে দেব না।

মুক্তল হোসেন জানান, ১৮৯৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বৃটিশ আমল থেকে বাবার সঙ্গে কলকাতায় ব্যবসা করতেন। কলকাতায় তাদের একটি বাড়িও ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর নিজ গ্রামের এক হিন্দু পরিবারকে কলকাতার বাড়িটি দিয়ে ওই পরিবারের এখানকার বাড়িটি বদল করে নেন। সেই থেকেই শিলক ফকিরাঘাট হিন্দু পাড়া সংলগ্ন বাড়িটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস করে আসছেন।

এ ব্যাপারে জানার জন্য কনে খতিজা বেগমের সঙ্গে অনেকে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। বর মুক্তল হোসেন রাজি না হওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে খতিজা বেগমের দরিদ্র পিতা আবদুল মালেক এ প্রসঙ্গে বলেন, মেয়ে বড় হয়েছে কিন্তু অভাবের কারণে বিয়ে দিতে পারছিলাম না। শেষমেষ ১১৭ বছরের বরের সঙ্গে বিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি। এতে মেয়ের সম্মতিও ছিল।

// ০৪-০৬-২০১৫ //