24 এপ্রিল 2017

প্রতিবন্ধীদের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির কার্যকর নীতি গ্রহণ করুন

170419-Pmখুলনানিউজ.কম:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধী এবং অটিজম আক্রান্ত লোকজনকে সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কার্যকর নীতি এবং কর্মসূচি গ্রহণে বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান

জানিয়েছেন। ভুটানের থিম্পুতে অটিজমবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার সকালে ভুটানের রাজকীয় আপ্যায়ন হলে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস’ শীর্ষক তিন দিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।

এ সময় অটিস্টিকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘সরকারগুলোকে এমন নীতি ও কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যাতে কেউ অবহেলিত না থাকে।’

এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য– ‘এএসডি ও অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্টাল সমস্যায় ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য কার্যকর ও টেকসই বহুমুখী কর্মসূচি’। বাংলাদেশ ও ভুটানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।

সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে ও বাংলাদেশের জাতীয় অটিজমবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা হোসেন ওয়াজেদ। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অটিজম নিয়ে কাজ করা অ্যাক্টিভিস্ট, চিকিৎসকসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোগবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম ক্ষেত্রপাল সিং।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝুঁকির মুখে থাকা নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদান করা সব দেশের জন্যই প্রয়োজনীয় এবং সরকারগুলোর উচিত এজন্য নীতি এবং কর্মসূচি প্রণয়ন করা। যাতে করে কোনো নাগরিকই যেন অবহেলার শিকার না হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, তারা (অটিজম আক্রান্তরা) দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগের দাবিদার। তিনি বলেন, ‘এটা আমাদেরই কর্তব্য তাদের জন্য জীবনের প্রতিটি স্তরে শিক্ষা থেকে শুরু করে কর্মসংস্থান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সামাজিক এবং মেডিক্যাল সাহায্য প্রদান করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (এএসডি) বিষয়ে অর্থনৈতিক এবং কারিগরিভাবে সীমাবদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কাঠামোগত পদ্ধতি নির্ধারণের সচেতনতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘এক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও তাদেরকে দিক-নির্দেশনা প্রদানের মত কোনো মডেল বা নির্দেশিকা এতদিনেও তৈরি হয়নি,’ উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, যেসব কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আন্তঃদেশীয় বা অন্তঃদেশীয় কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করাটা খুব জরুরি। আর এটার ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে সব দেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে অটিজম এবং অন্যান্য নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো ছাড়া সার্ভিস ডেলিভারি মডেল কখনও কার্যকর হতে পারে না। অর্থনৈতিকভাবে পর্যাপ্ত এবং অদূর ভবিষ্যতের জন্য ও টেকসই-মজবুত হতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, এক্ষেত্রে ডাটার স্বল্পতা, সাংস্কৃতিকভাবে সচেতন, প্রমাণভিত্তিক ইন্টারভেনশন কর্মসূচি এবং বিদ্যমান থাকা কর্মসূচি এবং সেবার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ উল্লেখযোগ্য। ‘এজন্য কখনো কখনো মানসম্পন্ন কর্মসূচিও বড় বড় শহরকেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর বাইরে পৌঁছতে পারে না কিংবা তাদের আয়ত্তের মধ্যে থাকে না,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৩ সালের বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনে গৃহীত সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য অ্যাকশন প্লান ২০১৩-২০২০’তে পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে যে, এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে মানসিক এবং মনস্তাত্ত্বিক অসাঞ্জস্য দূর করতে হলে ‘গ্যাপ’ চিকিৎসা পদ্ধতিকে আরো জোরাল  করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক্ষেত্রে দেশগুলোর জন্য করণীয় ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা এবং এজন্য বিভিন্ন টুল গ্রহণ এবং বর্জন করার সক্ষমতা, দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর স্বল্পতা এবং সার্ভিস উন্নয়নের স্বল্পতা আমাদের কর্মপ্রয়াসকে অর্থনৈতিকভাবে এবং নৈতিকভাবে দারিদ্র্যপীড়িত এলাকাগুলোতে বিঘ্নিত করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন উদ্বোধন করে আমি সত্যিই সম্মানিত বোধ করছি। পাশাপাশি অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডারস (এএসডি) ও নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডারস (এনডিডিএস) এর নিরাময়ে অনেক প্রখ্যাত চিকিৎসাবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদেরর আজকের উপস্থিতি দেখে আমি আরো অনুপ্রাণিত হয়েছি।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যাধিপ্রাপ্তরা যেখানেই থাকুক না কেন, তারা সবার ভালোবাসা ও সম্মানের মাঝে বাস করার অধিকার রাখে। ১৯৪৪ সালে এটি বিকাশগত ব্যাধি (ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডারস) হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও আজো এএসডি বিশ্বব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার ভুটান পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

তথ্যসূত্র : বাসস
// ১৯-০৪-২০১৭ //