24 ফেব্রুয়ারি 2017

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে

150212-bosontoখুলনানিউজ.কম:: ফুল ফুটুক আর নাই ফুটুক আজ বসন্ত। ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে-।’ আবহমান বাংলার ঋতু বৈচিত্র্যের উল্লেখযোগ্য ঋতু বসন্ত। তাই এ ঋতুকে বলা হয় ঋতুরাজ। বঙ্গাব্দের শেষ দু’মাস ফাল্গুন ও চৈত্র মিলিয়ে বসন্ত ঋতু। বাংলার প্রকৃতি, আমাদের ভাষা, সমাজ, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের

বড় স্থান দখল করে আছে বসন্ত। বসন্ত মিলনের ঋতু, আবার বিরহেরও ঋতু। শীতের জবুথবু প্রকৃতির অবসান ঘটিয়ে দক্ষিণ সমীরণের প্রবাহ  শুরু  হয় বসন্তে, এর সাথে মানুষের মনেও দোলা দেয়। জীবন রসায়নে  যেন কী এক পরিবর্তন আসে। হৃদয়ে সৃষ্টি হয় প্রণোদনা, নাড়া দেয় এক অব্যক্ত আবহ। কেবল মানব মানবীর মনেই নয় বৃক্ষরাজি, পক্ষী ও প্রাণিকূলেও এ হাওয়া দোলা দেয়।  কোকিল কুহু কুহু তানে বসন্তের আগমনী বার্তা জানায়। নানা উৎসবে মেতে ওঠে প্রকৃতি। বৃক্ষ ও গুল্মরাজিতে নতুন কুঁড়ি গজায়, পলাশের ডালে লাল ফুলে একুশের আবাহন জানায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো--।’ বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিতে বিয়ে নামক যে মিলন রীতি প্রচলন রয়েছে তার শতকরা ৬০ ভাগই সম্পন্ন হয় এ ঋতুতে। আমাদের সাহিত্য-সঙ্গীতে বসন্তের  স্থান অনেক বেশী। ‘কোকিল ডাকিস নারে আর এলো বসন্তের বাহার- সুখ বসন্ত সুখের কালে বন্ধু নাইরে যার ’-অথবা ‘আজি এ বসন্তে/ কতো ফুল ফোটে/ কতো পাখি গায়’-বিরহী-বিরহিনীর মনের এ অব্যক্ত ব্যথা যেন আপনা আপনিই প্রকাশ পায়। অনেক কবিতাতেই ফাল্গুনের আবাহন শোনা যায়-”ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল/ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্র মকুল/চঞ্চল মৌমাছি গুঞ্জরি গায়/বেনু বনে মর্মরে দক্ষিণ বায়।’ বাংলায় পল্লীতে,  গ্রামে-গঞ্জে সবচেয়ে বেশী মেলা বসে এ মাসে। নানা উৎসব আয়োজন হয়। তাই বসন্ত বরণে ব্যাকুল হয়ে ওঠে অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন। তবে আমাদের দেশে এখন রাজধানীসহ বড় বড় শহরেই চোখে পড়ার মতো বসন্তবরণ হয়ে থাকে। নানা আয়োজনে বসন্ত উৎসব পালিত হয়।  এবার প্রকৃতিতে এখনও বসন্তের আমেজ আসেনি। শীতের ধকল এখনও আছে। এর বাইরে এবার চলমান রাজনৈতিক পরিবেশে ঠিক সেভাবে বাঁধভাঙ্গা বসন্তবরণ হয়ে ওঠবে কিনা সন্দেহ। তবে হবে কি বিবাগী বসন্ত? না। প্রাণের এ আকুতি রুধিবে কে? কে পারে রুধিতে? তবুও প্রাণের বসন্ত মিলাবে মনে-প্রাণে। প্রকৃতির এ আবহ কোন অবস্থাতে প্রতিরোধ সম্ভব নয়।

// ১২-০২-২০১৫ //