24 মে 2017

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ বন্ধের দাবি সুলতানা কামালের

150412-sultana kmalখুলনানিউজ.কম:: সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শিগগিরই বন্ধ করা উচিত বলে মনে করছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশের (টিআইবি) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল।

তিনি বলেন, “সুন্দরবনের পাশে যেখানে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে তাতে সুন্দরবনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রয়োজন নেই। এজন্য এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শিগগিরই বন্ধ করা উচিত।”

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে সাউথ এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটস আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব বলেন।

সুলতানা কামাল বলেন, “দেশের উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে। তবে তা এমন জায়গায় হওয়া উচিত যেখানে নির্মাণ করা হলে দেশ, মানুষ ও প্রকৃতির কোনো ক্ষতি হবে না। যেখানে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে তাতে সুন্দরবনের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। জীব বৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। গাছপালা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এভাবে পরিবেশ ও মানুষের ক্ষতি করে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের দরকার নেই।”

তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাবে আরো কী কী ক্ষতি হতে পারে তার পুরোপুরি সমীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার আহ্বান জানান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা।

এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভারতের চারটি রাজ্যে প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু ক্ষতিয়ে দেখে জোরালো আপত্তি জানিয়ে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল। এরপর তারা এটি নির্মাণের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দেয়। অথচ আমরা এর ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনা না করেই তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাই।”

এই বিদ্যুৎকেন্দ্র মানুষের জীবনযাত্রার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে অতিদ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপন করলে তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতি হবে, সেখানে স্থানান্তর করা যায়। তবে সর্বোচ্চ সমীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত এর নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা প্রয়োজন।”

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন- এশিয়ান ফর হিউম্যান রাইটসের কাউন্সিল মেম্বার শরিফ জামিল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী প্রমুখ।

// ১২-০৪-২০১৫ //