23 জুন 2017

লাইসেন্স ছাড়া পোষা যাবে না পাখি!

150927-Bird BGjpgখুলনানিউজ.কম:: এবার শখ করে পাখি পুষতেও লাগবে লাইসেন্স। এজন্য এক বছর মেয়াদী লাইসেন্সের বিধান আসছে। এই বিধান কার্যকর হলে বাণিজ্যিক খামারিরাও লাইসেন্স ছাড়া পোষা পাখি কেনা-বেচা করতে পারবেন না। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে বলে

জানিয়েছেন পরিবেশন ও বন সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘পোষাপাখি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০১৫’- এ লাইসেন্স না করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান থাকছে। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে কুমির ও হাতি লালন-পালন এবং সাপের খামার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত খসড়া বিধিমালা প্রকাশ করেছে। প্রস্তাবিত বিধিমালার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মতামতও নেওয়া হয়েছে।

সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই লালন-পালনকারীদের এক বছরের লাইসেন্স দেবে বন অধিদপ্তর।

“পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে বিদ্যমান বন্যপ্রাণী আইনের আলোকেই এসব বিধিমালা করা হচ্ছে। খসড়ার ওপর মতামত শেষে বিধিমালাগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং-এর অপেক্ষায় রয়েছে।

ওয়াইল্ড লাইফ ট্রাস্ট বাংলাদেশের (ডব্লিউটিবি) প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের এ উদ্যোগকে ‘একটি সময়োপযুগী পদক্ষেপ’ বলেছেন।

তিনি বলেন, “এক্ষেত্রে পাখির অবাধ ব্যবসা রোধ করা যাবে এবং বিপন্ন পাখির বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হবে।

যারা শখ করে বাড়িতে বা কোনো প্রতিষ্ঠানে পাখি লালন-পালন করেন তাদের এই বিধিমালায় ‘শৌখিন পাখি লালন পালনকারী’ বলা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের তৈরি খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘শৌখিন’ লালন পালনকারীদের কাছে একশর বেশি পাখি থাকতে পারবে না।

আর খামারিদের পোষা পাখি লালন-পালন, কেনা-বেচা, আমদানি-রপ্তানিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ‘অনাপত্তি পত্র’ নিতে হবে। সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আমদানির সুযোগ রাখা হলেও কেবল শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়েই পোষা পাখি রপ্তানি করা যাবে।

পোষা পাখির কেনা-বেচকারীকে দুই হাজার টাকা, শৌখিন লালন-পালনকারীকে এক হাজার টাকা, খামারিকে তিন হাজার টাকা এবং আমদানি-রপ্তানিকারককে পাঁচ হাজার টাকা লাইসেন্স ফি দিতে হবে।
হাতি পালনের শখ, চিত্ত বিনোদন, সার্কাস, পরিবহনসহ যে কোনো কাজের জন্য অন্তত একটি হাতি থাকলেও লাইসেন্স নিতে হবে। ‘চারণ পারমিট’ ছাড়া সরকারি বনে হাতি চরানো যাবে না।

প্রতিটি হাতির কানে ‘ট্যাগ’ থাকতে হবে। তিন মাসের মধ্যে বাচ্চা হাতির কানে ট্যাগ না করলে তা সরকারি সম্পত্তি হয়ে যাবে।

হাতি লালন-পালনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এক বছর মেয়াদী লাইসেন্স নিতে ফি দিতে হবে ২০ হাজার টাকা।

সিটি করপোরেশন বা পৌরসভার ভেতরে কুমিরে খামার করলে লাইসেন্স ফি দিতে হবে এক লাখা টাকা। আর অন্য এলাকায় লাইসেন্স ফি ৫০ হাজার টাকা।

সাপের খামারের লাইসেন্সেও খরচ পড়বে একই।

সাপের খামারের কারণে যাতে স্বাস্থ্য বা মৃত্যু ঝুঁকি তেরি না হয় সেজন্য লালন-পালন, প্রজনন, ডিম ফুটানো, বাচ্চা পালন, বিষ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ এবং গবেষণাগারসহ সব অবকাঠামো হতে হবে পাকা দালানের। খামারের চারপাশে ন্যূনতম ৮ ফুট উঁচু ইটের প্রাচীরসহ দেয়ালের উপর ৩ ফুট উঁচু কাঁটাতারের বেড়া দিতে হবে।

 //২৭-০৯-২০১৫ //