26 জুন 2017

ক্যান্সার কেন হয়

150408-canserখুলনানিউজ.কম:: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের পেছনে থাকে 'দুর্ভাগ্য'। পারিপার্শ্বিক বা বংশগত কারণের তুলনায় ভাগ্যের অসহায়তাই দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ক্যান্সারের কারণ। নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে এ তথ্য। সম্প্রতি মার্কিনি জার্নাল সায়েন্সে ক্যান্সার নিয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিণত

বয়স্কদের সুস্থ দেহকোষের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার পেছনে দায়ী এলোমেলো মিউটেশন।

একটি স্ট্যাটিসটিক্যাল মডেলের ওপর ভিত্তি করে এ রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। দুর্ভাগ্য, পরিবেশ ও বংশগত_ এ তিনটির মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক কারণ, সেটিই বোঝার চেষ্টা করা হয়েছিল ওই গবেষণায়। উদ্দেশ্য ছিল প্রধান কারণ খুঁজে পাওয়া গেলে ক্যান্সার চিকিৎসায় আরও গতি আসবে। জীবনযাত্রা ও অভ্যাসের পরিবর্তন নির্দিষ্ট কিছু ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক হলেও বহু ধরনের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শুধু এটুকুই যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন গবেষকরা।

কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ রেপ্লিকেশনকালে ডিএনএ'র কোনো একটি কেমিক্যাল লেটার ভুল করে অন্যটিতে পরিবর্তিত হয়ে গেলে মিউটেশন হয়। ফলে সমগ্র কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটিই এলোমেলো হয়ে যায়। যত বেশি মিউটেশন হয়, কোষ বিভাজন তত বেশি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, যা ক্যান্সারের পথ প্রশস্ত করে। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন টিস্যুতে পরীক্ষা করে দেখেছেন, অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের পেছনে যতটা না পরিবেশ বা বংশগত দায়ী, তার চেয়ে অনেক বেশি দায়ী কোষ বিভাজনের মাত্রা। কোষ বিভাজনের মাত্রা যত বাড়ে, তত বাড়ে রেপ্লিকেশনের সময় ডিএনএ'র ভুল কোডিংয়ের আশঙ্কা।

'আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে, যে টিস্যুগুলোয় কোষ বিভাজনের মাত্রা বেশি ওই টিস্যু অনেক বেশি ক্যান্সারপ্রবণ', জানান বার্ট ভোগেলস্টেইন, জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব মেডিসিনের অনকোলজি বিভাগের অধ্যাপক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মানুষের কোলন টিস্যুতে দেহকোষ বিভাজনের মাত্রা ক্ষুদ্রান্তের কোষ বিভাজনের থেকে চারগুণ বেশি। দেখা গেছে, কোলন ক্যান্সারের আশঙ্কা বা প্রভাব ক্ষুদ্রান্তের ক্যান্সারের থেকে অনেক বেশি। ইঁদুরের ক্ষেত্রে ঠিক এর বিপরীত ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। ইঁদুরের কোলনের তুলনায় ক্ষুদ্রান্তে কোষ বিভাজন বেশি হয়। তাই ইঁদুরের মধ্যে ক্ষুদ্রান্তে ক্যান্সার বেশি হয়।

৩১টি টিস্যুতে ২২ ধরনের ক্যান্সারের পেছনে এ 'দুর্ভাগ্য'কেই দায়ী করেছেন বিজ্ঞানীরা।

জীবনযাত্রা, অভ্যাস বা বংশগতের তুলনায় একটি ক্যান্সার ড্রাইভার জিনে মিউটেশন ক্যান্সারের আশঙ্কা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

তবে স্তন বা প্রোস্টেট ক্যান্সারকে এ গবেষণার আওতায় আনা হয়নি। এ টিস্যুগুলোয় দেহকোষ বিভাজনের মাত্রা এখনও বোঝা যায়নি।
// ০৮-০৪-২০১৫ //