26 জুন 2017

গর্ভকালীন সময় চাই ত্বকের সঠিক যত্ন

150510-motherখুলনানিউজ.কম:: গর্ভকালীন সময় ত্বকের সঠিক যত্ন না নিলে সন্তান জন্মানোর পর নতুন মায়েদের চেহারায় ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, হরমোনের পরিবর্তন এবং পুষ্টির ঘাটতি এর প্রধান কারণ। তাই এ সময় চাই সঠিক যত্ন। মেছতার দাগ সাধারণত গর্ভকালীন

মায়েদের মুখের ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় মেছতার দাগ হয়। নাকে, গালে, ঠোঁটে কালো কালো অথবা হালকা বাদামি রঙের দাগ পড়ে; যা সন্তান জন্মানোর পরে আরো বেড়ে যায়। তাই গর্ভকালীন সময়ে এবং সন্তান জন্মানোর পর বাসায় থাকলেও মুখে সানস্ক্রিন লাগানো ভালো। প্রতিদিন সকালে এসপিএফ ৩০ প্লাস সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন। এ ছাড়া ঘরে তৈরি কিছু প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। রসুন পেস্ট করে কিছু সময়ের জন্য দাগের জায়গাগুলোতে লাগান। এরপর ধুয়ে ফেলুন। অথবা কমলার খোসা ও গোলাপজল দিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগান। এরপর ২০ মিনিট পর হালকা ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। এতে মেছতার দাগ দূর হয়ে যাবে।
রুক্ষ ত্বক
গর্ভকালীন ত্বকের সে রকম যত্ন নেওয়া হয় না। এর ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক ও রুক্ষ। হরমোনের পরিবর্তনের কারণেও ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হতে পারে। তাই এ সময়ে ময়েশ্চরাইজারের ঘাটতি ত্বককে খসখসে করে ফেলে। নারিকেল তেল অথবা অলিভ অয়েল এ সময়ে ত্বকে ভালো ময়েশ্চারাইজারের কাজ করে। অ্যালোভেরার রসও ত্বকের রুক্ষতা দূর করতে বেশ কার্যকর। এ ছাড়া মধু ও ভ্যাসলিন একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের রুক্ষতা দূর হবে।
ফাটা দাগ
গর্ভকালীন শরীর ফুলে যাওয়ার ফলে বিভিন্ন জায়গায় ফাটা দাগ পড়ে, যা শুরুতেই খেয়াল না করলে পরবর্তী সময়ে অনেক বেশি আকারে ছড়িয়ে পড়ে। গর্ভকালীন এই দাগ হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ এই সময়ে হরমোনের পরিবর্তন হয়ে থাকে। এ সময়ে ভিটামিন-এ এবং ই-সমৃদ্ধ তেল দিয়ে দিনে কয়েকবার ম্যাসাজ করুন। এ ছাড়া আপনি অলিভ অয়েল দিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে ধীরে ধীরে এই দাগ চলে যাবে এবং এটি শরীরে নিউট্রিশন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করবে। সাদা চিনির সঙ্গে আমন্ড অয়েল ও সামান্য লেবুর রস দিয়ে দিনে একবার দাগের জায়গায় ম্যাসাজ করলে ভালো ফল পাবেন।

চোখের নিচে কালো দাগ

এ সময়ে মায়েদের চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে এবং চোখের আশপাশে ফুলে যায়। সাধারণত শরীরে আয়রন, ফ্লোরিক এসিড, ভিটামিন কে, ভিটামিন সি এবং পুষ্টির অভাবে এই সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রেখে চললে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সে জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। আলুর ও শসার পেস্ট একসাথে মিশিয়ে চোখে লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া টি ব্যাগ ফ্রিজে ঠান্ডা করে চোখ বন্ধ করে ঢেকে রাখুন। এতে চোখের ফোলা ভাব দূর হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে।

চুল পড়া

সন্তান জন্মানোর তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মায়েদের চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে এই সময়ে। তাই গর্ভকালীন প্রতিদিন চুলে তেল দিয়ে ম্যাসাজ করুন। এতে চুল নরম এবং মসৃণ থাকবে। তবে খুব বেশি শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই। এ সময়ে চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। এ ছাড়া নিয়মিত মাছ ও সবুজ শাকসবজি বেশি করে খাবেন।

পরামর্শ :

সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় এবং জন্মানোর পর শুয়ে বসে কাটাবেন না। এ সময়ে হাঁটাহাঁটি করা খুবই প্রয়োজন।

সঠিক যত্ন নিন নিজের। কারণ একবার নিজের সৌন্দর্য হারিয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

 বাসায় বসে হালকা ব্যায়াম করুন। এতে শরীর সুস্থ থাকবে।

পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন। কারণ এ সময় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হয়। তাই সঠিক খাবার খাওয়া খুব দরকার।


নিয়মিত ঘরোয়া পরিচর্যায় গর্ভকালীন সময়ে ত্বক সুস্থ রাখুন।

// ১০-০৫-২০১৫ //