24 মার্চ 2017

মৌলবাদীদের তালিকা অনুযায়ী একের পর এক ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে

150515-londonখুলনানিউজ.কম:: হেফাজত ও অন্যান্য মৌলবাদী সংগঠনের তালিকা অনুযায়ী একের পর এক ব্লাগার ও মুক্তচিন্তার লেখকদের হত্যা করা হচ্ছে। ২০০৪ সালে প্রথাবিরোধী লেখক অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে হত্যার মাধ্যমে যে জঙ্গী মৌলবাদী নৃশংসতার সূচনা

হয়েছে, যেভাবে ঘোষণা দিয়ে মুক্তচিন্তার বুদ্ধিজীবী ও ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে,  অনন্ত বিজয় দাশের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এরই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয়েছে। লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা একথা বলেন। বক্তারা বলেন সম্প্রতি আলকায়দা উপমহাদেশ শাখা ব্লাগারদের যে তালিকা প্রকাশ করেছে একই তালিকা প্রকাশ করেছিল হেফাজতে ইসলাম আর এই তলিকা অনুযায়ী একের পর এক ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন ‘মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী যুক্তিবাদী তরুণ লেখক ও ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশের নৃশংস হত্যাকান্ড আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। গত দুই বছরে মৌলবাদী ঘাতকরা যেভাবে মুক্তচিন্তার লেখক ও ব্লগার রাজিব হায়দার, ডঃ অভিজিৎ রায় ও ওয়াশিকুর রহমান বাবুকে হত্যা করেছে একইভাবে তারা অত্যন্ত কাপুরুষের মতো নৃশংসভাবে হত্যা করেছে মুক্তচিন্তার জগতের বিশিষ্ট লেখক অনন্ত বিজয় দাশকে। হত্যাকাণ্ডের ছয় ঘন্টার ভেতর জঙ্গী মৌলবাদী সংগঠন ‘আনছারুল্লাহ বাংলাটিম’ ‘আনসার বাংলা-৮’ নামের এক আইডি থেকে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে এর জন্য উল্লাস প্রকাশ করেছে তাদের টুইটারে। এসব হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত, বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আমাদের দেখতে হত না। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার এবং অতীতের ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচারে কেন গড়িমসি হচ্ছে এ বিষয়ে তদন্তের দাবী জানান সমাবেশ কারীরা। বক্তারা বলেন প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জামায়াত ও জঙ্গীবাদীরা অবস্থান করছে, সেই প্রশাসন দিয়ে সন্ত্রাসমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠন সম্ভব নয়। বক্তরা সকল মৌলবাদী সন্ত্রাসের মূল কেন্দ্র জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধকরণসহ তাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থান নির্মূল করার জোর দাবি জানান’। বক্তরা আরো বলেন বাংলাদেশে হেফাজতের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়লেও দেশের বাইরে তারা সক্রিয় রয়েছে। এই গোষ্টী বিভিন্ন চ্যারিটি সংগঠনের ব্যানারে আর্থমানবতার নামে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করছে, এই অর্থ কোন খাতে ব্যায় হচ্ছে তার কোন নজরদারী নেই। লন্ডন থেকেই হেফাজত ও জামাতপন্থী চ্যারিটি সংগঠন গুলো ২০০৭ সাত সাল থেকে এপর্যন্ত বাংলাদেশে আর্থ মানবতার সেবা ও বিভিন্ন মাদ্রসার নামে সংগ্রহ করেছে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশী, এই অর্থ কার কছে যাচ্ছে এবং কোন মাধ্যমে ব্যায় করা হচ্ছে  তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। গত ৬ইমে পুর্ব লন্ডনের একটি মাদ্রসায় ফেহাজতে ইসলাম ইউকে শাখা হেফাজতের সমাবেশের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে ‘‘ শাপলা চত্তরের শহীদানদের স্মরনে দোয়া মাহফিল  নামে একটি সভার আয়োজন করে এই সভায় বক্তারা বলেন ২০১৩ সালের শাপলা চত্তরে হেফাজত কর্মীদের হত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে এবং বাংলাদেশ ব্লগারমুক্ত নাহওয়া পর্যন্ত ইসলামের সৈনিকরা ঘরে ফিরবেনা।  এই সভায় হেফাজত পন্থিরা ২০১৩ সালের ৫ইমে কে কারবালার সাথে তুলনা করে বলেন ব্লগার নাস্তিকরা বাংলাদেশকে জাহান্নামে পরিণত করেছে, আর এদের মদদ দিচ্ছে সরকার। ঠিক এর পাঁচ দিনের মাথায় অনন্ত বিজয় দাসকে নিশংসভাবে হত্যা করা হয়। হেফাজতের লন্ডন দোয়া মাহফিলের সংবাদটি বেশ কয়েকটি পত্রিকায় ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। এই খুনের সাথে কাদের সম্পর্ক রয়েছে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের গ্রেফতার করে তাদের সর্বোচ্চ শাস্থি দাবী জানানো হয় সমাবেশ থেকে। গতকাল ১৪ই মে বিকেল চার ঘটিকায় লন্ডন্থ বাংলাদেশ মিশনের সামনে যুক্তরাজ্য গণজাগরণ মঞ্চ, ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটি ইউকে, প্রজন্ম-৭১, ও যুদ্ধাপরাধ বিচার মঞ্চ যুক্তরাজ্য শাখার আয়োজনে আয়োজিত সমাবেশে  বাঙ্গালী ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মানবতাবাদী বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ বক্তব্য বক্তব্য রাখেন হিউম্যানিষ্ট এসোসিয়েশনের ব্যারিষ্টার জাফর চৌধুরী, ফিল নর্থগে বিএইচএ,  ইন্টারন্যাশনাল হিউমেনিষ্ট এন্ড এ্যাথিক ইউনিয়নের ( এইচইএ) বব চার্চ হিল, ন্যাশনাল সেকুল্যার সোসাইটির ষ্টিফেন ইভান্স,  অজয়ন্তা দেব রায়, ড. আনিছুর রহমান আনিছ, আনসার আহমেদ উল্লাহ, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, পিয়া মাইনিন, সৈয়দা নাজনিন সুলতানা শিখা, কামরুল হাসান তুষার, সাইফুল ইসলাম মিটু, ব্যারিষ্টার নিযুম মজুমদার, শান্তুনু আলী, তানভির ইলিয়াছ, আহমেদ নূরুল টিপু প্রমুখ। ব্লাগারদের নিরাপত্তা ও উগ্রবাদীদের রাজনীতি বন্ধ ও দেশ বিদেশে হেফাজতের কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানিয়ে বব চার্চিলের নেতৃত্বে  লন্ডন্থ বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারক লিপি প্রদান করেন, স্মারকলিটি গ্রহন করেন লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের একজন কর্মকর্তা।


// মতিয়ার চৌধুরী, এনএনবি লন্ডন: ১৫-০৫-২০১৫ //