23 জুন 2017

যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রবাসে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন

170327-ANAখুলনানিউজ.কম:: স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জঙ্গী ও সন্ত্রাস নির্মূল করে দেশ গড়ার অঙ্গীকারে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রবাসে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। প্রবাসে মহান স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, ওয়াশিংটন দূতাবাস,

নিউইয়র্ক বাংলাদেশ কন্স্যুলেট, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টি, নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি, মুক্তধারা ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম, বিয়ানীবাজার সমিতিসহ প্রবাসের বিভিন্ন সামাজিক ও আঞ্চলিক সংগঠন। মুক্তধারা ফাউন্ডেশন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জ্যাকসন হাইটসের ডাইভার সিটি প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। অন্যদিকে স্থায়ী মিশন, কন্স্যুলেট ও কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকান ইনক এলেমহাস্ট হাসপাতালে রক্তদান কর্মর্সূচির আয়োজন করে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উদযাপন করেছে গত ২৬ মার্চ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সকাল ৯টায় স্থায়ী মিশনে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের  মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং নিউইর্য়কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকান ইনক্ যৌথভাবে স্থানীয় এলম্হার্স্ট হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করে। মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও স্থানীয় প্রবাসী বাঙালিরা এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন।

বেলা ২টায় স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে পূনরায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু করা হয় মূল আলোচনা অনুষ্ঠান। এসময় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের স্মরণে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতির পিতার প্রকৃতিতে সম্মিলিতভাবে সশ্রদ্ধ সালাম প্রদর্শন করেন। মূল আলোচনার আগে দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা পর্বের শুরুতে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

স্বাগত বক্তব্যে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোনের স্বাধীনতার জন্য বাঙালির সূদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে বিজয় অর্জন করেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ ধারণ করেই পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি”। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে মর্মে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, আপনারা রেমিটেন্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন। প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশী বিদেশের মাটিতে দেশের শুভেচ্ছা দূত। আপনারা আপনাদের কাজ ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখবেন। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ায় আরও ভূমিকা রাখবেন - এটাই আমার প্রত্যাশা।

নিউইয়র্কস্থ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন, একাত্তরের শহীদদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রম বৃথা যায়নি। বাংলাদেশ আজ শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই নয়, বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে, আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে। তিনি প্রবাসী কমিউনিটিকে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আসুন দলমত নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক একযোগে কাজ করে জঙ্গী নির্মূল করি- মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

অনুষ্ঠানটিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতি কর্মী, নাট্যকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মীসহ জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

বাংলাদেশ সোসাইটির স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান ব্রুকলীনের পিএস ১৭৯ স্কুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান। গেস্ট অর্নার ছিলেন ব্রুকলীনের ডিস্ট্রেক্ট এটর্নী এখি গাঞ্জালেস, কাউন্সিলম্যান বব ভেন্ডার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি ফখরুল আলম, জয়নাল আবেদীন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এডভোকেট জামাল আহমেদ জনি, এমদাদুল হক কামাল, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সিনিয়র সহ সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ সভাপতি আব্দুল খালেক খায়ের, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী, নাদের এ আইয়ুব, নওশেদ হোসেন, নাসির উদ্দিন আহমেদ, কামাল ভূইয়া, আহসান হাবীব, রিজু মোহাম্মদ, সাদী মিন্টু, আজাদ বাকির প্রমুখ।

শারমিন রেজা ইভার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নৃত্য ও সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহ মাহবুব, মিরা সিনহা, নৃত্যাঞ্জলী শিল্পী গোষ্ঠি।

এদিকে মুক্তধারা ফাউন্ডেশন জ্যাকসন হাইটসে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালির আয়োজন করে। র‌্যালিতে মুক্তিযোদ্ধা, বিদেশী সহযোদ্ধাসহ সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেন। র‌্যালিটি ডাইভারসিটি প্লাজা হয়ে জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রক্তদান কর্মসূচি
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস স্মরণে ২৬ মার্চ নিউইয়র্কের বাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা জ্যাকসন হাইটস্থ এলমহার্স্ট হাসপাতালে “রক্তদান কর্মসূচী” পালিত হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন-এর প্রস্তাবনায় নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানস ইন্ক এর যৌথ উদ্যোগে উক্ত রক্তদান কর্মসূচী সফলভাবে সম্পন্ন হয়। কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানস ইন্ক-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রকৌশলি মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় কনসাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান, এনডিসি। আরেক বিশেষ অতিথি কাউন্সিলম্যান ড্যানিয়েল ড্রম- তাঁর মায়ের অসুস্থতাজনিত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
অন্যান্য অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কংগ্রেস উপদেষ্টা ডঃ সিদ্দিকুর রহমান, কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানস ইন্ক এর উপদেষ্টা ডঃ মহসিন আলী, ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর, মাসুদূল হাসান, লেখক-কলামিস্ট বেলাল বেগ, কংগ্রেসের পরিচালক এ্যাড. শাহ মোঃ বখতিয়ার আলী, রুমানা আক্তার, সাখাওয়াত বিশ্বাস, নূরুজ্জামান সর্দার, জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, গিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, দুরুদ মিয়া রনেল, রফিকুল ইসলাম, রহিমুজ্জামান সুমন, পঙ্কজ দেবনাথ, শাকিল আহমেদ, সফিউল আলম, কবিতা সেন, উপস্থায়ী প্রতিনিধি তারেক আহমেদ, ডেপুটি কনসাল জেনারেল শাহেদ আহমেদ, ভাইস কনসাল আসিফ আহমেদ সহ কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকানস-এর আরও ৪০/৫০ জন কর্মকর্তাবৃন্দ।

রক্তদান কর্মসূচীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কংগ্রেসের সেক্রেটারী জেনারেল মনজুর চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আজিজুল হক খোকন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাদশাহ। প্রধান অতিথির ভাষনে মান্যবর রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, বাংলাদেশী কমিউনিটিতে ব্যতিক্রমধর্মী এধরনের উদ্যোগকে ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে “রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন্য করণ”, “স্বাস্থ সচেতনতামূলক” বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়ার আহবান জানান। উনি অতীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে যেখানে ছিলেন, সেখানেই এধরনের কার্যক্রম করেছেন বলে জানান। তিনি কনস্যুলেটের সংশ্লিষ্টতাকে ধন্যবাদ দেন এবং কংগ্রেস অব বাংলাদেশী আমেরিকান্স এর মত একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের সেবামূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বেশী বেশী উদ্যোগ গ্রহনের আহবান জানান।

জনাব শামীম আহসান তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমেরিকানদের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশী কমিউনিটি একটি মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে যাচ্ছে। উনি বলেন, আমি সত্যিই অভিভূত এ ধরনের উদ্যোগ নেয়ার জন্যে। আমি নিজে রক্ত দিয়ে নিজেকে এ কর্মসূচিতে শরীক হতে পেরে ধন্য মনে করছি। এ কর্মসূচীর খবর মূলধারার রাজনীতি ও মিডিয়ায় প্রচারের জন্য তিনি অনুরোধ জানান।

কর্মসূচীতে মোট ৩৪জন ডোনার রক্তদান করেন এবং ২৪জন প্রাথমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য্য হওয়ায় রক্তদান করতে পারেননি। উপস্থিত অনেকেই শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কারণে রক্তদান করতে সমর্থ হননি। সকাল ১০ টা থেকে শুরু করে একটানা বেলা ৩টা পর্যন্ত বিরামহীনভাবে রক্তদান কর্মসূচী পালিত হয়।

পরে জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে যারা রক্ত দিয়েছেন তাদের রাষ্ট্রদূতের পক্ষ থেকে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

 // এনা, নিউইয়র্ক: ২৭-০৩-২০১৭ //