30 মার্চ 2017

পাকিস্তান-জিম্বাবুয়ে সিরিজকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থ

150521-pakistan-zimbabuখুলনানিউজ.কম:: দীর্ঘ ছয় বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন করতে যাচ্ছে পাকিস্তান। প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। আসন্ন এই সিরিজকে কেন্দ্র করে দেশটিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিনদেশিদের নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে

সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে বসানো হয়েছে তল্লাসি চৌকি। ক্রিকেট সিরিজকে কেন্দ্র করে কর্তৃপক্ষের এই আয়োজন দেখে হতবুদ্ধি হয়ে গেছে খেলোয়াড়রা। তবে এ সবকে পেছনে রেখে তারা এখন মনোনিবেশ করেছে আসন্ন সিরিজের দিকে।

নিজেদের থেকে অপেক্ষাকৃত খর্ব শক্তির দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাক ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ম্যাচের সুচনা হবে দুই ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে। যার প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ২২ মে শুক্রবার। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের সবগুলো ম্যাচ। এ উপলক্ষে শহর জুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী। শহরের আকাশে টহল দিচ্ছে হেলিকপ্টার।

পাকিস্তানের মাটিতে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আসর বসেছিল ২০০৯ সালে। এসময় সফরকারী শ্রীলংকান জাতীয় ক্রিকেট দলকে বহনকারী বাসে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গীরা। হামলায় আহত হয় দলের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছয় পুলিশসহ ৮ পাকিস্তানী নাগরিক। হামলায় আহত হন সাত লংকান খেলোয়াড়ও। এরপর থেকেই নির্বাসিত হয় পাকিস্তানের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট।

তবে এবার বেশ সজাগ পাকিস্তানের প্রশাসন। আসন্ন সিরিজকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়ামের আশপাশের সবগুলো প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে সেখানকার হোটেল ও দোকানপাট। রেডিও সিগন্যাল আটকানোর জন্য বসানো হয়েছে জ্যামার। জিম্বাবুয়ে দল বিমান বন্দরে অবতরনের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আবাসিক হোটেলের নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার নিরাপত্তা কর্মী।

সবকিছু মিলিয়ে স্বাভাবিক টুর্নামেন্টের তুলনায় ভিন্ন মাত্রার একটি পরিবেশ বিরাজ করছে সফরকারী দলকে ঘিরে। জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক এল্টন চিগুমবুরা তো বলেই ফেললেন যে এটি তার এবং দলের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ‘সত্যি এটি আমাদের জন্য নতুন কিছু। তবে আমরা জানি কেন এমনটা করা হচ্ছে। আমাদের খেলোয়াড়রা এসব দেখে খুব একটা ভীত হচ্ছেনা। কারণ তারা জানে এসব আয়োজন পাকিস্তান করছে আমাদের জন্য, আমাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য। আমি মনে করি না এসব আমাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারবে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ভাল ক্রিকেট খেলার দিকে মনোযোগ দেয়া।

এদিকে পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শহিদ আফ্রিদি আশা প্রকাশ করে বলেছেন,  ‘শুক্রবার সবকিছু ছাপিয়ে সবার মনোযোগ আকর্ষণ করবে ক্রিকেট। বিশ্বকাপ এবং বাংলাদেশ সফরে দুর্বল পারফর্মেন্সের পর এখন তার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আফ্রিদি বলেন, ‘এই (নিরাপত্তা) ব্যবস্থাটি অত্যাবশ্যক হয়ে গেছে। আমি নিশ্চিত, শুক্রবার যখন প্রথম বল মাঠে গড়াবে তখন সবার মনোযোগ থাকবে ক্রিকেটের দিকে। কোন ধরনের হেনস্তা ছাড়াই ক্রিকেট অনুরাগীরা ক্রিকেটকে উপভোগ করতে পারবে। বিপুল সংখ্যক লোক মাঠে উপস্থিত হবে।

পাকিস্তান স্কোয়াড(সম্ভাব্য): শহিদ আফ্রিদি (অধি:), সরফরাজ আহমেদ, আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, মুক্তার আহমেদ, নোমান আনোয়ার, শোয়েব মালিক, উমর আকমল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, আনোয়ার আলী, হাম্মাদ আজম, ইমাদ ওয়াসিম, বিলওয়াল ভাট্টি, ওহাব রিয়াজ ও মোহাম্মদ সামি।
জিম্বাবুয়ে স্কোয়াড(সম্ভাব্য): এল্টন চিগুমবুরা (অধি:), সেকান্দার রাজা, চামু চিবাবা, চার্লস কোভেন্ট্রি, গ্রায়েম ক্রেমার, ক্রেগ আরভিন, রয় কায়া, হ্যামিল্টন মাসাকাদজা, ক্রিস্টোফার মফু, তাবান্দা মুপারিবা, রিচমন্ড মুতুম্বামি, টিনাসে পেনিয়াঙ্গারা, ভুসি সিবান্দা, প্রসপার উৎসেয়া, ব্রায়ান ভিটোরি ও সেন উইলিয়ামস।

// ২১-০৫-২০১৫ //