28 ফেব্রুয়ারি 2017

৪১ রানে জিতল পাকিস্তান

150527-pakistanখুলনানিউজ.কম:: স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের ৩ উইকেটে ৩৭৫ রান ম্যাচের আবেদন আগেই শেষ করে দিয়েছিল। তারপরও প্রাণপণ, সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে অসীম সাহসিকতায় বুক চিতিয়ে লড়েছে জিম্বাবুয়ে। অধিনায়ক এলটন চিগুম্বুরার ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ভালোই জবাব দিয়েছে সফরকারীরা।

তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের রানের পাহাড় টপকাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। লাহোরে ম্যাচ হেরেছে তারা ৪১ রানে। তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল পাকিস্তান। ৩৭৬ রানের টার্গেট খেলতে নেমে ৫ উইকেটে ৩৩৪ রান করে জিম্বাবুয়ে। পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জটা ভালোভাবেই নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ৫৬ রানের ওপেনিং জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা ও সিবান্দা। তবে তারা থিতু হননি উইকেটে। সিকান্দার ৩৬, সিবান্দা ২৩ রান করেন। তৃতীয় উইকেটে ১২৪ রানের জুটি গড়ে সফরকারীদের লড়াইটা জিইয়ে রেখেছিলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও চিগুম্বুরা। শোয়েব মালিক বিচ্ছিন্ন করেন তাদের জুটি। মাসাকাদজা ৭৩ রান করে আউট হন। শন উইলিয়ামসরাও পরে রানের চাপ সামলাতে পারেননি। তিনি ৩৬ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের শিকার হন। তবে একপ্রান্ত আগলে চিগুম্বুরা ৮৯ বলে তুলে নেন সেঞ্চুরি। ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক ৯৫ বলে ১১৭ রান (১০ চার, ৪ ছয়) করেন।

শেষদিকে উতসেয়া ও মুতুম্বামির ৪১ রানের জুটি শুধু পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে। দুজনই ২১ রানের ইনিংস খেলেন। পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ নেন ৩ উইকেট।

এর আগে পাকিস্তানের ব্যাট করেছেন চার ব্যাটসম্যান। তার মধ্যে একজন সেঞ্চুরি করেছেন। তিনজন হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। আউট হয়েছেন তিনজন। শোয়েব মালিকের সেঞ্চুরি ও তিন হাফ সেঞ্চুরিতে মঙ্গলবার দিবারাত্রির ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে রান পাহাড়েই চাপা দিয়েছিল পাকিস্তান। ওয়ানডেতে পাকিস্তানের দলীয় সর্বোচ্চ ৭ উইকেটে ৩৮৫ রান। ২০১০ সালে ডাম্বুলায় বাংলাদেশের বিপক্ষে এই স্কোর গড়েছিল পাকিস্তান। মঙ্গলবার স্বদেশে তারা পেল ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে এটা কোনো দলের সর্বোচ্চ স্কোর।

টি-২০ সিরিজ জেতা পাকিস্তান ওয়ানডেতেও ফুরফুরে মেজাজে ছিল। টস জিতে ব্যাট করতে নামা স্বাগতিকদের ভালো শুরু এনে দেন ওপেনাররা। হাফিজ-আজহার আলীর ওপেনিং জুটিতেই আসে ১৭০ রান। জিম্বাবুয়েকে ব্রেক থ্রু এনে দেন উতসেয়া। পাক অধিনায়ক আজহার ৭৯ রান (৯ চার, ২ ছয়) করে আউট হন। চার রান পরই হাফিজও উতসেয়ার শিকার হন। তিনি ৮৬ রান (৮ চার, ৪ ছয়) করেন। তৃতীয় উইকেটে হারিস সোহেলের সঙ্গে ২০১ রানের জুটি গড়েন অভিজ্ঞ শোয়েব মালিক। ৪৩ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেও ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরিটা তিনি করেছেন ৭০ বলে। যা পাকিস্তানের মাটিতে পঞ্চম দ্রুততম সেঞ্চুরি। জিম্বাবুয়ের বোলারদের জীবন বিষিয়ে তোলেন শোয়েব মালিক। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৭৬ বলে ১১২ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি। যেখানে ১২টি চার ও ২টি ছয় ছিল। হারিস সোহেল ৬৬ বলে ৮৯ রান (৬ চার, ২ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন।

// ২৭-০৫-২০১৫ //