25 জুন 2017

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ দিয়ে বিকেলে শুরু চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি

খুলনানিউজ.কম:: কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলার মাঝে একটি হ্যাপা থাকে। যে দুটি দল খেলে তাদের ওপর চাপ থাকে খুব বেশি। এই ম্যাচের দিকে গোটা বিশ্বেরই নজর থাকে একটু আলাদা। সেই চাপ নিয়েই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটায় ২০১৭ আইসিসি

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যাত্রা শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ডের। লন্ডনের কেনিংটন ওভালে স্বাগতিক ইংলিশদের সাথে মাশরাফি বিন মুর্তজার অদম্য টাইগারদের লড়াই। হারলে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচের পরই কিছুটা পিছিয়ে পড়ার ভয়। আর জিতলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে থাকা। এই সমীকরণ সঙ্গী দুই দলেরই।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ৫০ ওভারের বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেরা আসর। যেটির আয়োজক আইসিসি। এই টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, বাংলাদেশের মাটিতে। আইসিসি নক আউট টুর্নামেন্ট ছিল যার নাম। যেটিতে আবার তখন আইসিসির সহযোগী সদস্য থাকায় আয়োজক বাংলাদেশেরই খেলা হয়নি। কালের পরিক্রমায় পরের চারটি আসরে খেলেছে লাল-সবুজেরা। উল্লেখযোগ্য কিছু নেই। ২০০৯ সাল থেকে এটি বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দলের আসর। ২০০৬ সালের পর আর এই আসরে তাই খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এবারই নিজেদের যোগ্যতায় কোয়ালিফাই করে খেলছে। বিশ্ব ওয়ানডেতে পরাশক্তি হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া টাইগারদের নিয়ে ভয় আছে সব দলেরই।

টাইগাররা হয়তো শিরোপা জেতার দাবিদার নয়। কিন্তু তারা যে কোনো কিছু করতে পারে, মানে সবাই। ইংল্যান্ড কখনো কোনো ওয়ানডে বৈশ্বিক আসরে জেতেনি। এবারই তাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ। গ্রুপ 'এ'তে তাদের সাথে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। ইংলিশদের সেরা দলটি এবার খেলছে, বলা হচ্ছে এমনই। তারা নিজেদের মাটিতেই গতবারসহ দুবার ফাইনালে খেলেছে। দুর্ভাগ্য। একবারও শিরোপা জেতেনি। এবার বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ এ ওয়ানডে সিরিজ হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরুর তাঁজা স্মৃতি তাদের।

তবে অস্ট্রেলিয়া তো ছেড়ে কথা বলে না কখনো। স্টিভেন স্মিথের দলটা ফেভারিট থাকে সব টুর্নামেন্টেই। তাদের আছে ভারতের মতো সর্বোচ্চ দুবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের রেকর্ড। ২০০৬ ও ২০০৯ এ শিরোপা জিতেছিল তারা। এবারও তারা কঠিন প্রতিপক্ষ যে কারো জন্য। নিউজিল্যান্ড ২০০০ এর চ্যাম্পিয়ন। ফেবারিট বটে। কিন্তু তাদের সেই আগের শক্তি বর্তমান দলে নেই।

৮টি দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে এবারের আসরে। গ্রুপ পর্বের সেরা দুটি করে চারটি দল নিয়ে সরাসরি সেমিফাইনাল। তারপর ১৮ জুনের ফাইনাল। 'এ' গ্রুপের মতো অতো কঠিন না হলেও উত্তেজনা কম থাকবে না 'বি' গ্রুপে। যেখানে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতসহ এশিয়ার তিন দল। অন্য দুটি শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান। আর আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

প্রোটিয়ারা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর দল। তারা ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হেরে আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা নিয়েই নামছে টুর্নামেন্টে। দক্ষিণ আফ্রিকা দারুণ দল। কিন্তু চোকার। বড় আসরে ভেঙে পড়া তাদের নিয়তি যেন। এবার এবি ডি ভিলিয়ার্সের দল কি করে কে জানে। বিরাট কোহলির ভারত নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশকে প্রস্তুতি ম্যাচে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করছে। ব্যাটিং অসাধারণ তাদের। এবার ফাস্টবোলিংয়ে তারা সেরা শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। ২০০২ এ শ্রীলঙ্কার সাথে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর গেলবার এককভাবে শিরোপা জিতেছে ভারত। এবারের আসরেরও হট ফেভারিট তারা।

শ্রীলঙ্কা ভারতের সাথে ট্রফি ভাগাভাগি করেছিল ২০০২ সালে। এবারের আসর শুরু হওয়ার আগে অন্যদের নিয়ে অনেক কথা হলেও লঙ্কানদের নিয়ে কম হয়েছে। কিন্তু ব্যাটে-বলে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তারা হেলাফেলার দল নয় মোটে। ব্যাটিং মাঝারি মানের এখন। তবে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের দলের পেস শক্তি ভালো। পেস শক্তি কখনো ফাইনালে উঠতে না পারা পাকিস্তানের বরাবর ভালো। কিন্তু বাংলাদেশ তাদের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৩৪১ রান করেছিল। ভাগ্য ভালো পাকিস্তান টেল এন্ডারদের ওপর ভর করে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে। তবে খাতা কলমে সরফরাজ আহমেদের দলকে এবারের আসরের ফেভারিট বলা যাচ্ছে না। কিন্তু কেউ যেন ভোলে না, কতোটা আনপ্রেডিক্টেবল দল এই পাকিস্তান!

// ০১-০৬-২০১৭ //