26 মার্চ 2017

চীনা বিজ্ঞানীদের যে ‘সাফল্য’ সবার ভয়ের কারণ

150425-jinখুলনানিউজ.কম:: বিজ্ঞানের উত্তরোত্তর সাফল্য আসছে গবেষণার হাত ধরেই। নানা বিষয়ে গবেষণায় উৎসাহিত করতে সারা বিশ্বে প্রতি বছর ব্যয় করা হয় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার। কিন্তু একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করা থেকে বিজ্ঞানীরা নিজেদের বিরত রাখতে সম্মত হয়েছেন। সেটি হচ্ছে মানুষের

জন্মের আগে তার জিনের বেশিষ্ট্য পরিবর্তন করে ফেলার উপর গবেষণা। নৈতিক অবস্থান থেকে চিন্তা করে ইউরোপে এটি বেশ আগেই নিষিদ্ধ করা হয়। তবে চীনা বিজ্ঞানীরা এসবের ধার ধরাছেন না। সম্প্রতি তারা বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানব-জিনের মধ্যে পরিবর্তন আনার সফল পরীক্ষা চালিয়েছেন। দেশটির সান ইয়াৎসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, তারা থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ঘটায় এমন একটি জিনের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

জুনজিউ হুয়াংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষক দল অবশ্য এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘নিজের পছন্দের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য নির্ধারণ করে নেয়া প্রজন্ম’ তৈরির আশংকাকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তারা যেটিকে পরিবর্তন করেছেন সেটি কোনো সক্রিয় জিন ছিল না। ফলে তা থেকে কখনো বাচ্চা জন্ম নেবে না।

কিন্তু সমালোচকরা বিজ্ঞানীদের এমন কথাতে বিশ্বাস রাখতে পারছে না। তাদের আশংকা, ‘পছন্দ অনুযায়ী বাচ্চাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারণের’ পথে এটি প্রথম পদক্ষেপ।

বিজ্ঞানীদের এ ধরনের গবেষণা থেকে বিরত রাখতে আহবান জানিয়েছেন সমালোচকরা। পাশপাশি সারা বিশ্বে এ ধরনের চর্চার  উপর নিষেধাজ্ঞা চান তারা।

চীনা বিজ্ঞানীদের এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশে নৈতিক অবস্থান থেকে অসম্মতি জানায় বিশ্ববিখ্যাত দুই বিজ্ঞান গবেষণা জার্নাল ‘ন্যাচার’ এবং ‘সাইন্স’ ম্যাগাজিন।

পরে তা প্রকাশ করে ‘প্রোটিন এন্ড সেল’ নামের অন্য একটি জার্নাল।

হিউম্যান জেনেটিক্স এলার্ট এর পরিচালক ড. ডেভিড কিং বলেন, এই সংবাদ বিশ্বব্যাপী এমন কার্যক্রমের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির গুরুত্বটা আবার বুঝিয়ে দিচ্ছে।

আমার মনে হচ্ছে, এমন একটা ভবিষ্যত ঠেকানো আমাদের জন্য কষ্টকর হয়ে যাবে যখন ধনীরা তাদের শিশুদের জন্য বিভিন্ন জিনগত সুবিধাগুলো কিনে নিতে পারবে, বলছিলেন ড. কিং।
যেহেতু থ্যালাসেমিয়া উপশমের বহু নৈতিক পথ রয়েছে ফলে এ ধরনের গবেষণা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়। শুধু ইতিহাসের বইয়ে নিজেদের নাম লেখানোর জন্য এই অনৈতিক গবেষণা করা হচ্ছে।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

// ২৫-০৪-২০১৫ //