কোটা বাতিলের পরিপত্র জারি

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের আদেশ জারি হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। মন্ত্রিসভায় কোটা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদনের পরদিন বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই পরিপত্র জারি করা হয়। এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন সচিব ফয়েজ আহম্মদ স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘সরকারি দপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশনের চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কোটা পদ্ধতি সংশোধন করেছে- নবম গ্রেড (আগের প্রথম শ্রেণি) এবং দশম থেকে ১৩তম গ্রেডের (আগের দ্বিতীয় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হবে। একই সঙ্গে এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো।’

সরকারি চাকরিতে বাংলাদেশে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য ৩০ শতাংশ, জেলা ও নারী কোটা ১০ শতাংশ করে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা পাঁচ শতাংশ এবং এক শতাংশ আছে প্রতিবন্ধী কোটা।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা প্রবর্তন করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর এই কোটার সুবিধা সন্তানদেরকেও দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা নাতি-নাতনিদেরকেও দেয়া হয়। আর সে সময় থেকেই প্রধানত জামায়াতপন্থীরা এই কোটা বাতিলের দাবিতে একাধিকবার আন্দোলনে নেমে ব্যর্থ হয়।

তবে এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা না সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে গত ফেব্রুয়রিতে শুরু হয় আন্দোলন। তারা সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশ করার দাবি জানায়।

গত ৮ থেকে ১১ এপ্রিল নানা ঘটনার পর ১১ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন কোনো কোটা থাকবে না। এর প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারীরা শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধি দিয়ে উল্লাস জানায়।

আবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব যখন দুটি শ্রেণিতে কোটা বাতিলের সুপারিশের কথা জানান, তখন পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়। যদিও মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর পরিষদের পক্ষ থেকে উল্টো বক্তব্য দেয়া হচ্ছে।

কোটা নিয়ে সুপারিশ দিতে গত ২ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে না পারার পর তিন মাস সময় বাড়ানো হয়।

পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে কোটা তুলে দেয়ার সুপারিশ তারা চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দিয়েছেন। সেই সুপারিশে শেখ হাসিনা সায় দেয়া তা ৩ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হয়।

আবার মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত জানানোর পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড নামে একটি সংগঠন। যতদিন কোটা বহাল না হবে ততদিন কর্মসূচি চলবে বলেও জানানো হয়েছে।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com