খুলনার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৩৯৩ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে উঠছে আজ

এ এইচ হিমালয় : খুলনা মহানগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিক করতে আরও ৩৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিতে যাচ্ছে সরকার। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে ‘খুলনা সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন’ নামের এই প্রকল্পটি উত্থাপন করা হবে। আজই প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ঢেলে সাজাবে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, নতুন এই প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে গৃহস্থালী বর্জ্য দ্রুত সংগ্রহ করে নগরীর বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে। সারা বছর ধরেই নগরীর ড্রেন পরিষ্কার এবং খালগুলো খনন করা হবে। সেকেন্ডারি ট্রানেসফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ করে রাস্তার বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হবে চোখের আড়ালে।
খোঁজ নিয়ে থেকে জানা গেছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম এখনও শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন শ্রমিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা রাস্তার পাশে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) ফেলে। সেখান থেকে বর্জ্যবাহী ট্রাকে করে তা নগরীর বাইর নিয়ে যায়। নগরীতে পর্যাপ্ত এসটিএস না থাকায় বর্জ্য রাখা হয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ওপর। আবার কিছু কিছু এসটিএস নির্মাণ করা হয়েছে সড়কের পাশে। যার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধে দুর্ভোগে পড়েন নগরীর মানুষ।
কেসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ১৫ লাখ মানুষের এই নগরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ২০০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ৮০০ টন বর্জ্য রাজবাঁধ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলে কেসিসি। বাকি ৪০০ টন বর্জ্য নগরীর ভেতরেই থেকে যায়। ফলে নগরীর সড়ক ও ড্রেন পরিণত হচ্ছে বর্জ্যরে স্তুপে।
সূত্রটি জানায়, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে বর্জ্য অপসারণ করতে হয় শ্রমিক দিয়ে। কিন্তু শ্রমিকের জনবলের অভাব প্রকট। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও শ্রমিকের অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শতভাগ সফল হয় না। এছাড়া বর্জ্য রাখার জায়গারও অভাব রয়েছে। ছোট-মাঝারি অনেক সমস্যা রয়েছে। এজন্য যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা বাড়ানোর জন্যই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৭৭টি স্পটে ড্রেনের ভাসমান পয়েন্টে জিআই নেট ও অ্যাঙ্গেল স্থাপন, ৭ কিলোমিটার খোলা ড্রেনের পাশে এসএস রেলিং নির্মাণ, বর্জ্য অপসারণের জন্য ৫০টি কনটেইরারসহ বিশেষায়িত ১০টি ট্রাক, নদী ও খালের মাটি ও বর্জ্য অপসারণের জন্য ভাসমান স্কেভেটর, লং বুম স্কেভেটর, ৭টি রাভার প্রোটেকটেড কম্পাটর স্কেভেটর, হুইল লোডার ও গার্বেজ লোডার ১৬টি, ওয়ে ব্রিজ স্কেল একটি, ১০ চাকার ট্রাক র‌্যাকার, বিভিন্ন ধরনের কনটেইনার ৫৭০টি এবং ৩০টি ট্রাক কেনা হবে।
এছাড়া নতুন ১৫টি এসটিএস নির্মাণ, সড়কের পাশে অস্থায়ী ১০টি এসটিএস নির্মাণ, মাথাভাঙ্গা এলাকায় ২৫ একর জমিতে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণ করা হবে। এছাড়া নতুন নতুন বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে এই প্রকল্পে।
প্রকল্পের আওতায় ২ হাজার ২৩৫ বর্গমিটারের মেটালিক গ্যারেজ শেড নির্মাণ, গাড়ি রাখার পাকিং টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আজিজ বলেন, কয়েকদফা প্রকল্প সংশোধন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এই একনেক মিটিংয়ের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকবে না।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com