খুলনার বাজারে ক্রমশ বাড়ছে চালের দাম

রঞ্জু আহমদ : খুলনার বাজারে বেড়েইে চলেছে চালের দাম। ইতোমধ্যে কেজি প্রতি ৭/৮ টাকা বেড়েছে। তবে এ দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহাল করার প্রস্তাবে এ দাম বেড়েছে। আমদানি চালের পাশাপাশি দেশী চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২/৩ টাকা হারে।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানিয়েছে, চাল আমদানির ওপর বরাবরই ২৮ শতাংশ শুল্ক ছিল। গত বছর আগাম বন্যায় সিলেটের হাওরাঞ্চলে ব্যাপক ফসলহানির ঘটনায় বাজারে চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। এ অবস্থায় বাজার স্থিতিশীল রাখতে সাময়িকভাবে চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে প্রথমে ১০ শতাংশ এবং একপর্যায়ে পুরোপুরি শুল্কমুক্ত করা হয়। তাতেও চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে না কমলেও কিছুটা সহনীয় হয়ে আসে। ৫৫ টাকা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ৭২ টাকায় উঠে যাওয়া সরু চালের দাম শেষ ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় এসে দাঁড়ায়। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাহার করা আমদানি শুল্ক পুনর্বহালের প্রস্তাব করায় চালের দাম আবার বেড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। বাজেটে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারে।
সূত্রটি জানিয়েছে, দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে যে চাল মজুত আছে, তার পুরোটাই শূন্য শুল্কের সুযোগ নিয়ে আমদানি করা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, বাংলাদেশে চালের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক দেশ ভারতে চালের দাম প্রতিদিন কমছে। অন্যান্য দেশেও চালের দাম স্থির আছে। ফলে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে খোদ ব্যবসায়ীরাই জানিয়েছেন।
চালের বাজার পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চালের বাজারে সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের এই সুযোগ সন্ধানী আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
গতকাল রোববার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি সরু চাল বিক্রি হয় ৫৮ থেকে ৬০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও এ মানের চালের দাম ছিল ৫০ থেকে ৫২ টাকা। ৪০ টাকার মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকায়। এছাড়াও ৩৮ টাকার বালাম ৪৪ টাকা, ৪০ টাকার স্বর্ণা ৪৪/৪৫ টাকা, ৪৭ টাকার ভাইটাল ৫৪ টাকা, ২৫ টাকার ইরি আতপ ৩০ টাকা এবং ৩৫ টাকার ইরি আতপ ৪০/৪১ টাকা, ৪৮ টাকার ইরি আতপ ৫২/৫৩ টাকা, ৫৬ টাকার বাসমতি ৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর বড় বাজারে পলাশ স্টোরের পাইকারি ব্যবসায়ী সাগর জানান, চালের দাম ইতোমধ্যে ৫/৬ টাকা বেড়ে গেছে। বাজেট পাশের পর এ দাম আরেক দফা বাড়বে। যেসব ব্যবসায়ীদের শুল্কমুক্ত আমদানী রয়েছে তারা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়েছে। যখন শুল্কযুক্ত আমদানী করবে তখন আরেক দফা বাড়বে।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, কয়েক দিনের মধ্যে চালের দাম আরো বাড়বে। বিশেষ করে প্রস্তাবিত শুল্কহার যদি জাতীয় সংসদ অনুমোদন করে তবে চালের বাজার আরো আস্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে খুলনার ধান চাল বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ মুনীর আহমেদ বলেন, বাজেটে শুল্কহার বাড়ানোর প্রস্তাবের সাথে সাথে দাম বেড়ে যায়। সে হিসেবে ২৮ শতাংশ শুল্কহার কার্যকর হয়েছে। যে কারনে দাম বেড়ে গেছে। এ দাম আরও বাড়তে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com