গাজীপুর, খুলনায় বিএনপির প্রার্থী বদলের আলোচনা

গাজীপুর এবং খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় মেয়র পদ প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি বিএনপি। আবার দুই সিটি করপোরেশনেই প্রার্থী পাল্টে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

দুই নগরেই বর্তমানে বিএনপিদলীয় মেয়র রয়েছে। ১৫ মের ভোটকে সামনে রেখে বর্তমান মেয়ররাই মনোনয়ন পাবেন নাকি নতুন কাউকে দেয়া হবে, সে বিষয়ে সোম বা মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত জানাবে বিএনপি।

গত ৩১ মার্চ ঘোষণা করা তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। ফলে বিএনপির হাতে আরও তিন দিন সময় আছে সিদ্ধান্ত নেয়ার।

আবার বিএনপি তার সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তও জানতে চেয়েছে। এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দল গাজীপুরে জাহাঙ্গীর আলম এবং খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেককে মনোনয়ন দিয়েছে।

পাঁচ বছর আগে বিএনপির সমর্থনে গাজীপুরে জিতেছিলেন এম এ মান্নান, আজ খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি। এবার ভোট হবে দলীয় প্রতীকে। ফলে ভোটের আমেজ হবে ভিন্ন। আবার আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে জমজমাট এই লড়াইয়ে সারা দেশের দৃষ্টি থাকবে এই দুই নগরে। এখানে জিতে নিজেদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে চায় দুই পক্ষই।

দুই মহানগরে ভোটকে সামনে রেখে ৫ এপ্রিল মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে বিএনপি। যারা ফরম পূরণ করে জমা দিয়েছেন, তাদের সবাইকেই আজ রবিবার সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়।

ধারণা করা হয়েছিল, সাক্ষাৎকার শেষে প্রার্থী ঘোষণা করতে পারে বিএনপি। কিন্তু সাক্ষাৎকার শেষ করে আগ্রহী প্রার্থী ও দলের শীর্ষ নেতারা একে একে কার্যালয় ছেড়ে চলে যান। তবে নেতাদের কেউ কোনো কথা বলেননি।

বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম দলের এতবড় একটি সিদ্ধান্ত তাকে ছাড়া নিতে হলো। কারণ, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হওয়ার পর তিনি কারাগারে আছেন।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে মনোনয়ন বোর্ডে ছিলেন দলের মহাস‌চিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী ক‌মি‌টির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, র‌ফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জানতে চাইলে মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আজকে বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। কারণ আরও কিছু বিষয় এখানে জড়িত আছে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমরা আজকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। আশা করি কালকে জানতে পারবেন।’

গাজীপুরে মান্নান না হলে হাসান

বিকাল সাড়ে পাঁচ টায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হ‌য়। এই এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহী সাত জন মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও আর সাক্ষাৎকার দেন ছয় জন। এরা হলেন: বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসানউদ্দিন সরকার, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, গাজীপুর বিএনপি নেতা শওকত হোসেন সরকার, আবদুস সালাম ও জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরাফত হোসেন।

আর এম এ মান্নানের ছেলে ছেলে এম মঞ্জুরুল করীম বিদেশে অবস্থান করায় তিনি সাক্ষাতের জন্য আসতে পারেননি।

বিএনপি নেতারা জানান, সাত জন মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও এম এ মান্নান অথবা হাসান সরকারের একজন মনোনয়ন পাবেন গাজীপুরে।

যদিও মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠক চলাকালে সাংবাদিকদের গাজীপুরে আবারো দলীয় মনোনয়ন পত্র পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন এম এ মান্নান।

২০১৩ সালের ৬ জুলাই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে আবদুল মান্নান তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আজমত উল্লাহ খানকে দেড় লাখ ভোটে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করেন। তবে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তিনি মামলার বেড়াজালে আটকা পড়ে দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। আবার এ কারণে তিনি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজও করতে পারেননি। তবে বারবার বরখাস্ত এবং কারাগারে যাওয়ায় তিনি ভোটারদের সহানুভূতি পাবেন বলেও ধারণা করছে বিএনপি।

তবে মান্নান যে মনোনয়ন নিয়ে সংশয়ে, সেটি তার ছেলে এম মনজুরুল করীমের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহেই স্পষ্ট।

বিএনপি নেতারা জানান, মান্নানকে পাল্টে অন্য কাউকে প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার কারণ তার শারীরিক অবস্থা। তিনি অসুস্থ। বেশ কিছুদিন হাসপাতালেও ছিলেন তিনি। যদিও মান্নান নিজেকে ভোটে লড়ার জন্য প্রস্তুত বলেই দাবি করেছেন।

খুলনায় মনি বা মঞ্জু?

২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের ডাকসাইটে নেতা তালুকদার আবদুল খালেককে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে মেয়র হওয়া মনিরুজ্জামান মনিকেই এতদিন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ধরা হচ্ছিল। তবে হঠাৎ সেখানে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মনোনয়ন ফরম কেনার পর পরিস্থিতি পাল্টে গেছে।

সাক্ষাৎকার নেয়ার পরও মনি না মঞ্জুকে প্রার্থী করা হবে, বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বিএনপি।

এই দুই নেতা ছাড়াও সেখানে ধানের শীষ চেয়ে আবেদন করেছেন খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাও। তিনিও সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন।

মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমরা সবাই তার জন্য কাজ করব।’

‘এখানে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। তাই দল যে সিদ্ধান্ত দিবে সেটি বাস্তবায়নে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। আমাদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব।’

আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী মঞ্জু বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনমুখী দল। তাই সব নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ পরাজয়ের ভয়ে সুষ্ঠু ভোটে ভয় পায়। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হবে।’

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com