দেড় মাস পর সুন্দরবনে ডুবে যাওয়া জাহাজ দুখণ্ড করে উদ্ধার

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কয়লা নিয়ে ডুবে যাওয়া লাইটার জাহাজ এমভি বিলাসকে দেড় মাস পর কেটে দুই খণ্ড করে টেনে তোলা হয়েছে। বুধবার রাতে মোংলাবন্দর চ্যানেলের হারবাড়িয়া এলাকা থেকে তুলে উপকূলের কাইনমারি এলাকায় রাখা হয়েছে। কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাহারা এন্টারপ্রাইজ কয়লা বোঝাই ওই লাইটার জাহাজটি তুলতে মেসার্স হোসেন স্যালভেজকে দেয়। গত ১৫ এপ্রিল মোংলাবন্দর থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দূরে হারবাড়িয়া ৫ নম্বর অ্যাংকরে ডুবোচরে আটকে কাঁত হয়ে ৭৭৫ টন কয়লা নিয়ে ওই লাইটার ভ্যাসেলটি ডুবে যায়। এ ঘটনার বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদফতর পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। সুন্দরবনের ভেতরে কয়লা ডুবির ঘটনায় তখন পরিবেশবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

মেসার্স হোসেন স্যালভেজের স্বত্বাধিকারী মো. সোহরাব হোসেন মোল্লা জানান, শুরুতে আমরা কয়লা নিয়ে পানির নিচে ডুবে থাকা লাইটার জাহাজ থেকে কয়লা তুলে তা হালকা করে টেনে তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই। প্রবল জোয়ারের কারণে উদ্ধারকাজ বিঘ্ন হয়েছে।

এর পর চট্টগ্রামের দুটি বার্জ এনে জাহাজটির মাঝ থেকে কেটে ফেলি। পরে আমরা সেই জাহাজটিকে টেনে মোংলার কাইনমারি খালের মুখে এনে রেখেছি। ৩১ জন শ্রমিক নিয়ে প্রায় দেড় মাস চেষ্টার পর তা তোলা সম্ভব হয়েছে।

কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সাহারা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক (অপারেশন) মো. লালন হাওলাদার জানান, লাইটার জাহাজ থেকে সব কয়লা তুলে তা হালকা করে উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান হাসান স্যালভেজ হারবাড়িয়া থেকে উপকূলে নিয়ে এসেছে। জাহাজটির সামান্য কিছু কয়লা ভেসে গেছে। এতে সুন্দরবনের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করেন ওই কর্মকর্তা।

মোংলাবন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ বলেন, মোংলাবন্দরের হারবাড়িয়ায় ডুবে যাওয়া কয়লাবাহী লাইটার ভ্যাসেল এমভি বিলাস উদ্ধার করে কাইমারি খালের মুখে রাখা হয়েছে। বন্দর চ্যানেলে দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যতে যাতে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মালামাল বহনকারী ভ্যাসেলগুলোর ফিটনেসের বিষয়ে সতর্ক থাকে তার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, ডুবে যাওয়ার দেড় মাস পর জাহাজটি উদ্ধার করেছে কর্তৃপক্ষ। ওই ঘটনার পর আমাদের করা ক্ষতিপূরণের মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। খুব শিগগির আমরা ক্ষতির পরিমাণ জানিয়ে বন বিভাগ আদালতের স্মরণাপন্ন হবে বলে জানান ওই বন কর্মকর্তা।

মোংলা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে জাহাজ ডুবির ঘটনায় বনবিভাগ, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও লাইটার জাহাজ মালিক পক্ষের থানায় করা মামলা ও সাধারণ ডায়েরির ঘটনায় তদন্ত চলছে।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com