বদলে গেছে বেনাপোল স্থলবন্দর

বদলে গেছে দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোল। বন্দরটির অবকাঠামোর উন্নয়নে নেয়া হয়েছে বেশকিছু পদক্ষেপ। রাজস্ব ফাঁকি রোধ, শুল্কায়ন ও আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া এসেছে পরিবর্তন। কাস্টমস হাউসকে আনা হয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের আওতায়। এসাইকুডা ওয়ার্ল্ড এর মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে শুল্ক কর নির্র্ণয় করা হচ্ছে। এতে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজস্ব আদায়ের উন্নত প্রক্রিয়া, আমদানি রপ্তানি বাণিজ্য আরো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। রাজস্ব ফাকি রোধে ভারত-বাংলাদেশ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিদিনের আমদানি রপ্তানি তথ্য সরবরাহ করছেন নিেেজদের মধ্যে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী বেনাপোলে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শুরু হয় শুদ্ধি অভিযান। দ্রুত পণ্য খালাস, রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে শক্তিশালী আইআরএম টিম গঠন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে রাজস্ব ফাঁকিবাজরা বেনাপোল বন্দর ত্যাগ করে চলে গেছেন ভোমরা বন্দরে। সেখানে দেয়া হচ্ছে ঘোষণার অতিরিক্ত পণ্য আমদানির অনুমতি। কাস্টমস আইনে মোট আমদানি  পণ্যের দশ ভাগ কায়িক পরীক্ষা করার বিধান থাকলেও এতোদিন তা মানা হয়নি।

ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ব্যবসায়ীরা। বর্তর্মানে মোট আমদানি পণ্যের শতকরা ১৫ভাগ কায়িক পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাও আবার শুধুমাত্র স্বনামধন্য আমদানিকারকরাই এ সুয়োগ পাচ্ছেন। বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের জন্য এই সুবিধা নেই।

বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের পণ্য শতভাগ পরীক্ষা করা হয় ৪-৫ টি গ্রুপ দিয়ে। ফলে এই পথে বাণিজ্যিক আমদানি অনেকটা কমে গেছে। ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও কমে গেছে। ৫কোটি টাকা ব্যয়ে বসানো হয়েছে মোবাইল স্ক্যানার। পাশাপাশি বেনাপোল আর্ন্তজাতিক চেকপোস্টে ঢেলে সাজানো হয়েছে।

পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি বন্ধে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোরট এর আদলে বসানো হয়েছে আধুনিক স্ক্যানার মেশিন। আউটগোয়িং, ইনকামিং এর জন্য পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের। দালাল মুক্ত করা হযেছে কাস্টমস চেকপয়েন্টে। বসানো হয়েছে আধুনিক সিসি ক্যামেরা। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে অফিসারদের কাজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর চালু করা হয়েছে বাইপাস সড়ক। যা এতোদিন ছিল পরিত্যক্ত। ফলে বেনাপোলে যানজট কমে এসেছে অনেকটা।

অনেকদিন ধরে বেনাপোলবাসী বাইপাস সড়ক চালুর জোর দাবি করে আসছিলেন। এখন কলিকাতা হয়ে বেনাপোল বন্দর থেকে খুব অল্প সময়ে শিল্পের কাঁচামাল খালাস সম্ভব। এতে   বড়বড়  বহুজাতিক কোম্পানি বেনাপোল বন্দরে পুণরায় ফিরে আসতে শুরু করেছে।

অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে স্বচ্ছতার সাথে মালামাল খালাস হয়ে থাকে বলে জানান বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা। কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী আসার পর বেনাপোল বন্দর একটি আধুনিক বন্দরে রুপ নিয়েছে বলে মত দেন তিনি।

বেনাপোল বন্দরের পরিচালক প্রদ্যুত কুমার জানান, বন্দরে ইতোমধ্যে ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করায় দীর্ঘদিনের বন্দর জায়গা সংকট আর থাকছে না। ফলে বড় বড় বহুজাতিক কোম্পানি বেনাপোল বন্দর দিয়ে তাদের আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। যদি বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাড়ানো হয় তাহলে এই কাস্টমস হাউস থেকে সরকার বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করা সম্ভব।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন চৌধুরী জানান, রাজস্ব ফাঁকি রোধে সঠিক পদ্ধতিতে দ্রুততম সময়ে রাজস্ব আদায় ও ব্যবসায়ীদের কম সময়ে হয়রানি ছাড়াই পণ্য খালাসের প্রক্রিয়ায় বেশকিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com