মালয়েশিয়ার বিমানবন্দর থেকে ফিরে এলেন ৬৩ বাংলাদেশি

বৃহস্পতিবার দেশ ছেড়েছিলেন মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে। পৌঁছে ছিলেনও যথাসময়ে। কিন্তু কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর পর্যন্তই থেমে যেতে হয়েছে তাদের। দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটকে দিয়েছে। অগত্যা সেখানেই বসেছিলেন ২ দিন। এরপর কোম্পানির একজন প্রতিনিধি এলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের  নিয়ে যাননি কর্মক্ষেত্রে। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ফেরত পাঠিয়েছেন বাংলাদেশে। একজন, দুইজন, তিনজন নয়, ৬৩ জন বাংলাদেশি শ্রমিক এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩১৬ নম্বর ফ্লাইটে করে ৬৩ বাংলাদেশি দেশে ফেরেন। এদের একজন বগুড়ার মোখলেছুর রহমান। তিনি জানান, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য তিনি পরিচিত স্থানীয় দালাল মো. মোকবুল হোসেনের মাধ্যমে ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালকে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তারা তাকে ‘সুপার ম্যাক্স’ নামে একটি হ্যান্ড গ্লভস্‌ কোম্পানিতে কাজ দেয়ার কথা বলেছিল। সেই মোতাবেক তিনি রাব্বি ট্রেনিং সেন্টার থেকে ট্রেনিংও করেছিলেন। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে ছিলেন আরো ৬২ জন। তারা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান বাংলাদেশ সময় আড়াইটার দিকে। বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পুলিশ তাদের জানায়, তাদের দেয়া তথ্যমতে, সুপারম্যাক্স কোম্পানি থেকে তাদের কেউ নিতে আসেনি। এরপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। কিন্তু কেউ-ই কোম্পানি থেকে আর আসেনি। ২৪ ঘণ্টা বিমানবন্দরে তাদের অপেক্ষাতেই কাটে। মোখলেছুর রহমান জানান, এরপর ওই কোম্পানি থেকে একজন প্রতিনিধি আসেন। তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলে পাসপোর্ট নিয়ে নেন। পরে তাদের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-৩১৬ নম্বর ফ্লাইটে পাঠিয়ে দেন। মোখলেছ বলেন, তারা শুনেছেন ওই কোম্পানির সঙ্গে ক্যাথারসিস-এর লেনদেন সংক্রান্ত ঝামেলা রয়েছে। তাই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

ফিরে আসা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকার নাসির জানান, তিনিও ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল নামে এজেন্সির মাধ্যমে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুর সোয়া তিনটার দিকে মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই মুহূর্তে ক্যাথারসিস অফিসে বসে আছেন। কি কারণে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অফিসের লোকজন টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে সুপার ম্যাক্স কোম্পানির সঙ্গে ঝামেলার কথা বলছে। তিনি বলেন, ক্যাথারসিস তার কাছ থেকে পাসপোর্ট জমা নিয়েছে। বলছে, দু’দিন পর তাকে আবারো পাঠিয়ে দেয়া হবে। তবে এর আগে অফিসে ফোন করা হলে ক্যাথারসিস এজেন্সি মার্কেটিং ম্যানেজার জিয়াউর রহমান এই প্রতিবেদককে ঘটনার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তাদের কাছে এমন দু-একটি ফোন এসেছে। কিন্তু ওইদিন মালয়েশিয়ায় তাদের কোনো ফ্লাইট ছিল না। তাদের মাধ্যমে যাওয়া এ ধরনের কোনো কর্মী ফেরত আসেনি বলেও জানান তিনি।

ফেরত আসা আরেক কর্মী নওগাঁ জেলার রানীনগর থানার বাসিন্দা সোহেল জানান, এলাকার পরিচিত মারুফ একই এজেন্সির মাধ্যমে তাকে মালয়েশিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। সে মোতাবেক ওইদিন নির্ধারিত ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর পৌঁছায়। তিনি বলেন, ২৪ ঘণ্টা পর সুপার ম্যাক্স কোম্পানি থেকে একজন লোক এসে তাদের নাম ধরে ধরে পাসপোর্ট জমা নেন। ৬৩ জনের পাসপোর্ট নেয়ার পর তিনজন লোক কম আছে বলে তাদের খুঁজতে থাকে। পাসপোর্ট নেয়ার পর ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে জমা দিয়ে চলে যান। যাওয়ার আগে বলেন, আগামীকাল তাদেরকে কোম্পানিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর পুলিশ তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। তাদের একটি কক্ষে বন্দি করে রাখে। সেখানে ওই ৬৩ বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশি আরো অনেকেই ছিল। পরদিন সকালে পুলিশ এসে তাদের মোবাইল ফোন ফেরত দেয়। সঙ্গে পাসপোর্ট ও দেশে ফেরার বিমান টিকিট ধরিয়ে দেয়। সোহেল বলেন, দেশে ফেরত আসার পর মারুফের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, এজেন্সির সঙ্গে টাকা-পয়সা লেনদেন নিয়ে সমস্যা।

তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে ওই কোম্পানির কাজে তাদের আবারো মালয়েশিয়া পাঠানো হবে। সেই আশাতেই রয়েছেন বলেও জানান সোহেল। এদিকে এ ব্যাপারে জানতে ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল-এর মালিক ও বায়রার সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন-এর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com