সৌর বিদ্যুতে আলোকিত হলো শেখ রাসেল ইকোপার্ক, শীঘ্রই দৃশ্যমান

এইচ এম আলাউদ্দিন:: খুলনা শেখ রাসেল ইকো পার্কটি আলোকিত হলো বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের টি.আর প্রকল্পের সৌর বিদ্যুতের কারণে। সম্প্রতি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলাধীন মাথাভাঙ্গার ওই পার্কে সৌর বিদ্যুতের বাতিগুলো বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থাপন করা হয়।

বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেনের টি.আর প্রকল্প থেকে দেয়া ১৬টি সোলার বাতি শেখ রাসেল ইকো পার্কে স্থাপন করায় সন্ধ্যার পর এখন আর ভুতুড়ে পরিবেশ দেখা যায় না। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নদীর পাশে বেড়ি বাঁধ দেয়া হলে আরও অন্তত ৫০টি সৌর বিদ্যুৎ স্থাপন করা যাবে। যেটি হবে পার্কের জন্য আরও একটি দৃষ্টিনন্দন ব্যবস্থা।

এদিকে, শেখ রাসেল ইকোপার্কের কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, সেখানে এখনও অবস্থানরত ১২৬টি পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে। যার অংশ হিসেবে সেখানে গতকাল শনিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আঞ্চলিক প্রকল্প পরিচালক (উপ-সচিব) আশরাফুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন, খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম বলেন, শেখ রাসেল ইকোপার্কের পাশেই গুচ্ছগ্রাম করে ১২৬টি পরিবারকে স্থানান্তর করা হবে। এরপর পার্কের দৃশ্যমান আরও কিছু কাজ শুরু হবে। খুলনার বিভিন্ন গুচ্ছগ্রামের জন্য ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বটিয়াঘাটার মাথাভাঙ্গা ও ভান্ডারকোট গুচ্ছগ্রামের জন্য চার কোটি ৭৩ লাখ টাকা ইতোমধ্যেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকেও বাধ নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হচ্ছে। এজন্য এক কোটি ৪০ লাখ টাকার টেন্ডার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এছাড়া বন বিভাগকে দেয়া ১১ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও অনুমোদনের অপেক্ষায়। এজন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। সব মিলিয়ে দ্রুততার সাথে যেভাবে শেখ রাসেল ইকোপার্কের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে তাতে এ বছরই স্থাপনার প্রায় অর্ধেক কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। যার মধ্যে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণ, পার্কিং, গেট নির্মাণসহ অন্যান্য স্থাপনার কাজ রয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাষ্ট থেকে ২০১৭ সালের ১৮ এপ্রিল শেখ রাসেল ইকোপার্কের অনুমোদন দেয়া হয়। এরপর এর নকশা তৈরি ও অনুমোদন শেষে গত ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনা সার্কিট হাউজের জনসভার আগে পার্কটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সূত্রটি বলছে, শেখ রাসেল ইকোপার্কের জন্য ইতোমধ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে বালু ভরাট ও কাঠ-বাঁশের ঝুলন্ত ওয়াকওয়ে করা হয়েছে। খানজাহান আলী (রহ:) বা রূপসা সেতু থেকে মাত্র দেড় কিলোমিটার দক্ষিণে মাথাভাঙ্গা এলাকায় রূপসা নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় ৪৪ একর খাস জমির ওপর পার্কটি গড়ে তোলা হয়েছে। যার পশ্চিমে রূপসা-আলুতলা সড়ক, উত্তর-পশ্চিমে ভুতের আড্ডা নামের আর একটি পার্ক, দক্ষিণে ফাঁকা জায়গা এবং পূর্বে রূপসা নদী।

এডিটর-ইন-চিফ : মাহমুদ হাসান সোহেল
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : আবু বকর সিদ্দিক সাগর
নিউজরুম মেইল: khulnanews24@gmail.com এডিটর ইমেইল : editor@khulnanews.com
Khulna Office : Chamber Mansion (5th Floor), 5 KDA C/A, Jessore Road, Khulna 9100,
Dhaka Office : 102 Kakrail (1st Floor), Dhaka-1000, Bangladesh.
কপিরাইট © 2009-2020 KhulnaNews.com